তিন জিম্মির বিনিময়ে মুক্ত ১৮৩ ফিলিস্তিনি

তিন জিম্মির বিনিময়ে মুক্ত ১৮৩ ফিলিস্তিনি

অবরুদ্ধ গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় পঞ্চম ধাপে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের বন্দি বিনিময় হয়েছে। শনিবার এ বন্দি বিনিময়ের আওতায় ইসরাইলি তিন বেসামরিক জিম্মির বিনিময়ে মুক্তি পেয়েছেন ১৮৩ ফিলিস্তিনি।

মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জুদ্দিন আল-কাসসাম ব্রিগ্রেডের যোদ্ধারা তিন ইসরাইলি পুরুষ জিম্মিকে মুক্তি দিয়ে রেড ক্রসের হাতে তুলে দেন। এ সময় মঞ্চে উঠিয়ে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং তাদের হাতে উপহার তুলে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

পরে রেড ক্রস কর্তৃপক্ষ তিন জিম্মিকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী-আইডিএফের বিশেষ ইউনিটের তত্ত্বাবধানে ছেড়ে দেয়। মুক্তি পাওয়া এ তিন জিম্মি হলেনÑ ৫২ বছর বয়সি এলি শারাবি, ৫৬ বছর বয়সি ওহাদ বেন আমি এবং ৩৪ বছর বয়সি ওর লেভি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলি ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামীদের অভিযানের সময় বেয়েরি বসতি থেকে শারাবি ও বেন আমিকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে লেভিকে নোভার মিউজিক ফেস্টিভাল থেকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে ২০ থেকে ৬১ বছর বয়সি ১৮৩ ফিলিস্তিনি পুরুষ বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরাইল। এদের মধ্যে সাতজনকে মিসরে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে।

মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ২০০০ সালে ফিলিস্তিনি দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সময় গ্রেপ্তার হামাসের সদস্য ইয়াদ আবু শাখদাম রয়েছেন। ওই সময় ইসরাইলিদের ওপর হামলার অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া পশ্চিম তীরের হামাস নেতা জামাল আততাওয়িলও মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন।

এ নিয়ে প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির মধ্যে পঞ্চমবারের মতো বন্দি বিনিময় হলো। এর মাধ্যমে ১৮ ইসরাইলি জিম্মি এবং ৫৫০ ফিলিস্তিনি মুক্তি পেয়েছেন।

গাজায় যুদ্ধবিরতির চলার মধ্যে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী পশ্চিম তীরের জেনিনের শরণার্থী শিবিরের বেশকিছু ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরো শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি বাহিনী তাদের উপস্থিতি জোরদার করেছে এবং ড্রোন ব্যবহার করে প্রচণ্ড নজরদারি চালাচ্ছে। এ ছাড়া জেনিন সরকারি হাসপাতালকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি থেকে জেনিনসহ পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে হামলা শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। অস্ত্রের মুখে জেনিন শরণার্থী শিবিরের ৯০ ভাগ বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তারা কাছাকাছি শহর ও গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া রামাল্লা, নাবলুস, তুলকারেম ও হেবরনসহ বিভিন্ন শহরে হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি সেনারা।

এরই মধ্যে ইসরাইলের কাছে ৭৪০ কোটি বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। গত শুক্রবার আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইলের কাছে নতুন অস্ত্র বিক্রির জন্য অনুমোদন দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ৬৬ কোটি ডলারের হেলফায়ার মিসাইল রয়েছে।

তবে এর বিপরীতে আমেরিকান আইন সভা কংগ্রেসের ডেমোক্রেট-দলীয় সদস্যরা অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করে এ বিষয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন