জাতিসংঘে তীব্র সমালোচনার মুখে ইসরাইল

জাতিসংঘে তীব্র সমালোচনার মুখে ইসরাইল

পুরো গাজা দখলে নেওয়ার ইসরাইলি পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতেরা। রোববার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে ইসরাইল তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। বৈঠকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশ সতর্ক করে বলে, ইসরাইলের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ‘লঙ্ঘনের ঝুঁকি’ তৈরি করছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে গাজায় আরেকটি বিপর্যয় শুরু হওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা। খবর আরব নিউজের।

সম্প্রতি গাজা উপত্যকা থেকে হামাসকে নির্মূল করতে বড় ধরনের অভিযান চালানো এবং গাজা ‍পুরোপুরি দখলের পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। এই পরিকল্পনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, গ্রিস ও স্লোভেনিয়া।

বিজ্ঞাপন

তারা বলছে, এ পরিকল্পনা ইসরেইলি জিম্মিদের মুক্তিতে কোনো ধরনের সহায়তা করবে না; বরং তাদের জীবনকে আনরো ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।

জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেনকা নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন, ‘যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে সম্ভবত গাজায় আরেকটি বিপর্যয় শুরু হবে। যার প্রবা পড়বে পুরো অঞ্চলে। সেইসঙ্গে এই পদক্ষেপ আরো অনেক মানুষকে বাস্তুচ্যুত করবে, হত্যা এবং ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাবে।’

নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্যও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চীন বলেছে, গাজার জনগণের ওপর ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ অগ্রহণযোগ্য। আর রাশিয়া বিচার-বিবেচনাহীনভাবে সংঘাত বৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক করেছে।

জাতিসংঘে স্লোভেনিয়ার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল জবোগার ‘ইসরাইলি সরকারের এই সিদ্ধান্ত জিম্মিদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে কোনো ভূমিকা রাখবে না এবং তাদের জীবনকে আরো বিপন্ন করে তুলবে।’

জাতিসংঘের মানবিক কার্যালয়ের কর্মকর্তা রমেশ রাজাসিংহাম বলেন, গাজার খাদ্যসংকট এখন আর শুধু হুমকি নয়, এটি সরাসরি অনাহারে রূপ নিয়েছে।

তবে এসব সমালোচনায় আপাতত পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে না ইসরাইল সরকার। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার বলেছেন, তার সেনাবাহিনী খুব শিগগিরই গাজা দখল করবে।

তবে বৈঠকে ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নেয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডরোথি শিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিরলসভাবে জিম্মিদের মুক্তি ও যুদ্ধের অবসানে কাজ করছে। এ বৈঠক সেই প্রচেষ্টাকে অবমূল্যায়ন করছে।

গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের ফলে ৬১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রতি ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ।

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন