উত্তর গাজার বাইত লাহিয়ায় নিজ বাড়ির ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তাঁবু খাটিয়ে বাস করছেন ফাতিন আবু হালুব ও তার পরিবারের সদস্যরা। স্বামী কারাম, পাঁচ সন্তান ও স্বামীর বাবা-মাকে নিয়ে তার বসবাস। যৎসামান্য সরঞ্জাম নিয়েই জীবনযাপন করছেন তারা। চারদিকের অভাব ও সংকটের মধ্যে যা তাদের কঠিনভাবে ভোগাচ্ছে, তা হলো পানির অপ্রতুলতা।
প্রতিদিন সকালে ফাতিন ও তার স্বামী কারামের দিন শুরু হয় পানির সন্ধান করে। কখনো কখনো কারামের বাবা-মাও এ অনুসন্ধানে তাদের সহায়তা করেন, যা গাজাবাসীর ঐতিহ্য অনুযায়ী অকল্পনীয়। সাধারণত এ ধরনের ভারী কাজ বয়স্করা করেন না। কিন্তু যুদ্ধ সবকিছু বদলে দিয়েছে।
কাছাকাছি থাকা কারামের দুই ভাই সাধারণত প্রাথমিকভাবে পানির অনুসন্ধানের কাজটি করেন। কিন্তু যখন পানি ফুরিয়ে যায়, তখন পরিবারের সবাই একত্রে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েন পানির সন্ধানে।
পুরো উত্তর গাজায় পানির সংকট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতির পর স্থানীয়রা ফিরে এলে তা আরো স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে।
অক্সফাম জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় পুরো অঞ্চলে পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ায় উত্তর গাজায় যুদ্ধের আগের তুলনায় মাত্র ৭ ভাগ পানি সরবরাহ রয়েছে।
ফাতিন জানান, যুদ্ধের ১৫ মাসে শেষ পর্যন্ত তারা উত্তর গাজায়ই ছিলেন। গত অক্টোবরে ইসরাইলি বাহিনীর স্থল হামলার মুখে তারা নিজেদের বাসস্থান ছেড়ে গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলে চলে যান। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তারা নিজেদের ঘরে ফিরে আসেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বাড়ি কোথায় ছিল তা আমরা আর চিনতে পারছি না। ধ্বংসের পরিমাপ ভয়াবহ।’
ফাতিন বলেন, ‘ধ্বংস হয়ে যাওয়া অঞ্চলে মানুষ কিভাবে থাকতে পারে? প্রয়োজনীয় কিছু নেই, কোনো অবকাঠামো নেই, পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই। মাঝে মাঝে মনে হয় যুদ্ধে মরে যাওয়াই আমাদের জন্য ভালো ছিল।’
কখনো কখনো স্থানীয়দের সহায়তার জন্য পানিবাহী ট্রাক আসে। কিন্তু সেখানে এত ভিড় হয় যে, অনেক সময় তা পাওয়া যায় না।
ফাতিনের শাশুড়ি দালাল জানান, পানি ব্যবহারে কঠিনভাবে সংযম মেনে চলছেন তারা। তারা নিয়ম করে দিয়েছেন, একদিনে একজন শুধু গোসল করবেন। এভাবে একজন প্রতি ১০ দিনে একবার গোসলের সুযোগ পাচ্ছেন।
ফাতিন বলেন, ‘এভাবে কখনই আমরা থাকিনি। আমার শিশুদের নিয়ে প্রতিদিন বা একদিন পর একদিন গোসল করতাম।’
তিনি বলেন, ‘কল থেকে পানি পাওয়া এখন অসম্ভব স্বপ্ন মনে হয়। ঠিকমতো পানি থাকা গোসলখানাও এখন স্বপ্নের বিষয়।’
ফাতিন জানান, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। গাজাবাসীর জীবনে এখনো এর ছায়া রয়ে গেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

