জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ১১তম দিনে প্রবেশ করেছে ইরানের চলমান বিক্ষোভ । বুধবারও দেশটির বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। ইরানের চাহারমহল ও বাখতিয়ারি প্রদেশের লর্ডেগান শহরে সহিংসতায় সশস্ত্র বিক্ষোভকারীদের গুলিতে দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৩০ জন। সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স জানায়, বুধবার রাত ১০টার দিকে প্রায় ৩০০ জন দোকানদার তাদের দোকান বন্ধ করে খারদুনপাড়া ও শিরোনি সেতুর কাছে রাস্তায় জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
কয়েকজন সংঘর্ষের উসকানি দেওয়ায় উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়। কিছু বিক্ষোভকারী নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর পাথর ছুড়ে মারে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বার্তা সংস্থা ফার্স জানায়, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সশস্ত্র ব্যক্তিরা পুলিশের ওপর গুলি চালায়, যার ফলে দুজন নিহত এবং কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সংঘর্ষের সময় বিক্ষোভকারীরা লর্ডেগানে গভর্নরের কার্যালয় এবং আরো বেশ কয়েকটি প্রশাসনিক ভবন ভাঙচুর করে।
ইরানের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত প্রদেশ উত্তর খোরাসানের বোজনর্ড শহরে পৃথকভাবে একটি দোকানে আগুন লাগানো হয়েছে।
রাজধানী তেহরানের অভিজাত শেমিরান জেলায়ও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। পশ্চিম ইরানের আলিগুদারজেও বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসেন। তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায় ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৫টিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর কোনো ধরনের দমন-পীড়ন না চালাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, অস্ত্র হাতে নাশকতা বা সহিংসতায় জড়ালে তাদের আলাদা করে ‘দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) মঙ্গলবার দাবি করেছে, ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে দোকানদারদের ধর্মঘট দিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৭ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
আরএ/এসআই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রয় ‘অনির্দিষ্টকাল’ নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্তরাষ্ট্র
গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত