হরমুজ এড়িয়ে তেল রপ্তানি বাড়াচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলো, চ্যালেঞ্জে ইরান

হরমুজ এড়িয়ে তেল রপ্তানি বাড়াচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলো, চ্যালেঞ্জে ইরান
ছবি: সংগৃহীত।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এখন বেশি তেল রপ্তানি করছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। এটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কেননা, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ জোরদারের চেষ্টা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের নতুন করে হামলার হুমকির মধ্যেই বিকল্প পথে তেল সরবরাহ বাড়াচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলো।

বিজ্ঞাপন

জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে উপসাগরীয় দেশগুলো দৈনিক ২ কোটি ৪৬ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগের রপ্তানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ২ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল।

তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনাও বেড়েছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থার (ইউকেএমটিও) তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে সেখানে অন্তত ১২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজও প্রণালিটিতে ডুবে যায়। জাহাজটি সম্ভবত কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য ধরনের অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

বিকল্প পথে তেল পরিবহন

হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলো জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এ ক্ষেত্রে ছোট জাহাজে করে উপসাগর থেকে তেল নিয়ে প্রণালির বাইরে অপেক্ষমাণ বড় তেলবাহী জাহাজে স্থানান্তর করা হচ্ছে। বিমা ব্যয় ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে অনেক দেশ বেসরকারি জাহাজের পরিবর্তে নিজেদের জাহাজ ব্যবহার করছে।

সৌদি আরবও লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে। আগে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে এশিয়ায় তেল পাঠাত দেশটি। তবে হুথিরা সৌদি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহার করে মিসর হয়ে ভূমধ্যসাগরীয় পথে তেল পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন এখনো যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি কম। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব বলছে, সেপ্টেম্বরে উপসাগর থেকে রপ্তানি করা ইরান ছাড়া অন্যান্য দেশের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে পরিবহন করা হয়েছে। যুদ্ধের আগে এ হার ছিল ১৭ শতাংশ।

পাইপলাইন নির্মাণে আগ্রহ বাড়ছে

বিকল্প পথে তেল রপ্তানির ব্যবস্থা স্থায়ী করতে চাইছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। ওপেকের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদক ইরাক গত জুলাইয়ে সিরিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। এর আওতায় ইরাকের উত্তরাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত পাইপলাইন পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে তেল রপ্তানি বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৯ ডলারে রয়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের মতো পরিশোধিত জ্বালানির দাম বেড়েছে। হরমুজ এড়িয়ে দীর্ঘ পথে জাহাজ চলাচল করায় পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়াও এর একটি কারণ।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে। বুধবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকার উৎখাতের বিষয়ে তাঁর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান আবারও পারমাণবিক কর্মসূচি চালু করছে।

এর আগে ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনের প্রচারে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান ‘শেষ করতে’ সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ফলে তেল রপ্তানি বাড়লেও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন