কৃষ্ণ সাগরে তুরস্কের উপকূলবর্তী এলাকায় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বাহ্যিক কোনো ডিভাইসের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আগুন ধরে যেতে পারে বলে শুক্রবার ধারণা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পরই দুই জাহাজের সব নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তুরস্কের সমুদ্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানান, ‘কাইরোস’ নামের খালি ট্যাংকারটি রাশিয়ার নভোরোসিয়েস্ক বন্দরে যাওয়ার পথে উপকূল থেকে প্রায় ২৮ নটিক্যাল মাইল দূরে ‘বাহ্যিক কারণে’ আগুনে আক্রান্ত হয়। তিনি জানান, জাহাজটির ২৫ জন নাবিকই নিরাপদে আছেন। জাহাজের তলদেশ থেকে আগুন ও কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়, যদিও সমুদ্র দূষণের কোনো তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যায়নি। খবর এএফপির।
গভর্নর ইলহামি আকতাস জানান, গাম্বিয়ার পতাকাবাহী কাইরোসে তুরস্কের উত্তরাঞ্চলীয় কোকায়েলি প্রদেশের কেফকেনের কাছে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে আগুন ধরে যায়।
অধিদপ্তর জানায়, দ্বিতীয় ট্যাংকার ‘ভিরাট’ও প্রায় ৩৫ নটিক্যাল মাইল দূরে অনুরূপভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তবে আঘাতের ধরন বিস্তারিতভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। উদ্ধারকারী দল ও একটি পণ্যবাহী জাহাজ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং ভিরাটের ২০ জন ক্রু সদস্য নিরাপদে আছেন। ভেসেলফাইন্ডারের তথ্যমতে, ভিরাটও গাম্বিয়ার পতাকা বহন করে।
পরিবহনমন্ত্রী আব্দুল কাদির উরালোগলু এনটিভিকে জানান, ‘বাহ্যিক কারণ’ বলতে মাইন, রকেট, ড্রোন বা মানববিহীন ডুবো যানসহ যেকোনো প্রজেক্টাইলের আঘাত বোঝানো হতে পারে। তিনি আরও বলেন, কাইরোসের সব ক্রু ইতোমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধারকারী দল ভিরাটেও পৌঁছেছে। দুই ট্যাংকারের নাবিকদের কারও স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই।
তিনি যোগ করেন, এখন পর্যন্ত কোনো সমুদ্র দূষণ শনাক্ত হয়নি, তবে আগুনের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৃষ্ণ সাগরে একাধিক নৌ-মাইন ভেসে এসে পাওয়া গেছে ও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। বিপদ মোকাবিলায় ২০২৪ সালে ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক, বুলগেরিয়া ও রোমানিয়া মিলে একটি নৌ-মাইন প্রতিরোধী টাস্ক গ্রুপ গঠন করে।

