হুথিদের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে সৌদি আরবকে রক্ষা করতে আরএএফ টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করবে বলে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের অনুমোদিত এই প্রতিরক্ষামূলক অভিযানটি ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির বিমান হামলা থেকে সৌদি শহর ও অবকাঠামোকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে।
সৌদি রাজধানী রিয়াদ এবং দেশটির উপকূলবর্তী জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে হুথি হামলার পর এই ঘটনাটি ঘটল।
‘এই বিমানগুলো প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকায় কাজ করবে এবং হুথিদের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণাত্মক হামলা চালাবে না,’ মঙ্গলবার এক লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং।
হুথিরা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে, যে সরকার সৌদি আরব দ্বারা সমর্থিত।
সৌদি কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে জানিয়েছে যে, দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে হুথি হামলায় ১৯ জন নিহত হয়েছেন।
১০ অক্টোবর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হন – যা এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে সবচেয়ে মারাত্মক হামলা।
পশ্চিম ইয়েমেনে রাজধানী সানাসহ নিজেদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে হামলার প্রতিশোধ নিচ্ছে হুথিরা।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে একটি শিবিরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৭০ জনেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন।
সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি আতাক শহরের কাছে অবস্থিত আল-আলাম ক্যাম্পে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যেটি নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশে নতুন সদস্যদের প্রশিক্ষণের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র বলেছেন, তারা ‘সৌদি শত্রুদের ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনের হুথি-পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি বিমান ও কামান হামলায় অন্তত ১৪১ জন নিহত এবং ৩৯৫ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে জানিয়েছে যে, ৬ অগাস্ট থেকে ইয়েমেনজুড়ে চলা সংঘাতে অন্তত এক হাজার ২৮২ জন নিহত হয়েছেন।
সৌদি আরবের অভ্যন্তরে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম চলাচলে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাজ্য সামরিক উপদেষ্টা এবং একটি আরএএফ এ৪০০এম পরিবহন বিমানও মোতায়েন করবে।
এটি ইতোমধ্যেই সৌদি আরবকে বিমান হামলা থেকে রক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা সহায়ক সরঞ্জাম এবং সৌদি প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের জন্য আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করছে। এই জ্বালানি সরবরাহের মেয়াদ এখন ৯০ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে।
একটি পৃথক বিবৃতিতে স্ট্রিটিং বলেছেন, রিয়াদ বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করা ‘দেখায় যে, এই অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে হুথিরা কতটা নিচে নামতে পারে’।
‘এ কারণেই আজ আমি যুক্তরাজ্যের আরও সামরিক সহায়তার অনুমোদন দিয়েছি,’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী যোগ করেন।
স্ট্রিটিং আরো উল্লেখ করেছেন যে উপসাগরীয় অঞ্চলে সহিংসতা জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করছে এবং পরিবার ও ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই মাসের শুরুতে, হুথি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি ‘সৌদি আরবের গভীরে ক্রমবর্ধমান অভিযান’ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

