গাজা আগ্রাসন

বৈশ্বিক চাপ সত্ত্বেও গাজায় এখনো কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি : জাতিসংঘ

বৈশ্বিক চাপ সত্ত্বেও গাজায় এখনো কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি : জাতিসংঘ

গাজায় স্থল অভিযানের ব্যাপকতা বাড়ানোর পাশাপাশি ত্রাণ সহায়তার ওপরও ছিল নিষেধাজ্ঞা। ১১ সপ্তাহ ধরে চলা অবরোধের ফলে গাজায় চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে সোমবার যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় ‘মৌলিক প্রয়োজনের পরিমাণ’ খাবার প্রবেশের অনুমোদন দেয় ইসরাইল। ১১ সপ্তাহের অবরোধের পর সীমান্ত অতিক্রম করে ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় পৌঁছালেও সেই ত্রাণ সহায়তা এখনো বিতরণ করা যায়নি- এমনটাই জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেছেন, কেরেম শালোম ক্রসিংয়ের ফিলিস্তিনি অংশে ত্রাণের ট্রাক পৌঁছালেও এখনো পর্যন্ত কোনো ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। ত্রাণবাহী পরিবহনগুলো ওই অঞ্চলে প্রবেশের জন্য ইসরাইলের অনুমতির আশায় কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল। কিন্তু ইসরাইল অনুমতি না দেওয়ায় খাবারগুলো জাতিসংঘের খাদ্যগুদামে ঢুকতে পারেনি।

এদিকে ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার গাজায় আটা, শিশুখাদ্য ও ওষুধসহ ত্রাণের ৯৩টি ট্রাক প্রবেশ করেছে।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা আসন্ন দুর্ভিক্ষের বিষয়ে সতর্ক করার পর রোববার গাজায় যৎসামান্য খাদ্য প্রবেশের অনুমতি দেয়। জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর মতে, গাজায় চলমান মানবিক সংকট মোকাবিলায় প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক ত্রাণ প্রয়োজন। গত সপ্তাহে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ১১ সপ্তাহে অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে ৫৭ শিশুর।

এদিকে, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের তীব্র সমালোচনা আর নিন্দাকে পাশ কাটিয়ে গাজায় অব্যাহত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় স্থানীয় সময় বুধবার ভোর থেকে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ৪২ জন। সামরিক অভিযান বন্ধ এবং ত্রাণ সরবরাহের অনুমতি দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও এ অঞ্চলে বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল।

২০ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। এখানকার জনগোষ্ঠী ক্রমবর্ধমান ক্ষুধা সংকটে পড়েছে। খাবারের অভাবে অচিরেই এ অঞ্চল দুর্ভিক্ষের মুখে পড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। এ অবস্থায় বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের সঙ্গেই ইসরাইলের সম্পর্ক চাপের মুখে পড়েছে। আমেরিকাও এখন এই মিত্রকে নিয়ে দোদুল্যমান অবস্থায় পড়েছে।

এদিকে, কাতারে ইসরাইল ও হামাস যোদ্ধাদের মধ্যে পরোক্ষ যুদ্ধবিরতি আলোচনা আবারও ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি দোহা থেকে সিনিয়র আলোচক দলকে পরামর্শের জন্য ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন