ইউক্রেনকে নতুন ঋণ দিতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইউক্রেনকে নতুন ঋণ দিতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইউক্রেনের আগামী বছরের বাজেট ঘাটতি পূরণ এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে দেশটিকে নতুন করে ঋণ দিতে হতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ)। এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিচাল শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন।

ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরুর আগে মিচাল বলেন, ইউক্রেনের জন্য ইউরোপের আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি। দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে আর্থিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সহায়তা চালিয়ে যেতে হবে এবং তা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকেই আসতে হবে।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের ডিসেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা ২০২৬ ও ২০২৭ সালে ইউক্রেনের আর্থিক চাহিদার বড় অংশ মেটাতে ৯ হাজার কোটি ইউরোর ঋণ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। তবে কিয়েভ জানিয়েছে, আগামী বছর প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয় ও সরকারের নিয়মিত খরচ মেটাতে তাদের ৭ হাজার কোটি ডলারের বেশি অর্থের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নে জব্দ থাকা রাশিয়ার সম্পদ ব্যবহার করে ইউক্রেনকে অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এসব সম্পদের বড় অংশ বেলজিয়ামে থাকায় দেশটি এবং ইইউর আরও কয়েকটি সদস্যরাষ্ট্রের আপত্তিতে প্রস্তাবটি আটকে রয়েছে।

মিচালের মতে, এবারও ইউক্রেনকে নতুন ঋণ দেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে সম্ভাব্য সমাধান। তিনি বলেন, ইউরোপ এর আগেও বহুবার এই পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। ফলে এ ধরনের ঋণ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি ইউরোপের কাছে পরিচিত।

এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ২০২৭ সালের জন্য ইউক্রেনকে অতিরিক্ত অর্থায়নের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা চলতি বছরের শেষ হওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। আগামী বছর ইউরোপের অনেক দেশে নির্বাচন থাকায় আগেভাগে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

ইউক্রেনকে দেওয়া আগের ৯ হাজার কোটি ইউরোর ঋণের অর্থ জোগাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের সম্মিলিত বাজেটের বিপরীতে ঋণ নিচ্ছে। নতুন ঋণের অর্থ কীভাবে জোগাড় করা হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে মিচাল বলেন, ইউরোপ শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনো উপায় খুঁজে বের করবে। পরিস্থিতি সবচেয়ে কঠিন পর্যায়ে পৌঁছালেও ইউরোপ সমাধানের পথ বের করতে পারে।

রাশিয়ার ২০২২ সালের পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ব্যয় মেটাতে পশ্চিমা দেশগুলোর আর্থিক সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে আগামী বছরের সম্ভাব্য অর্থ ঘাটতি পূরণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন সিদ্ধান্ত কিয়েভের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন