হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা থেকে বাঁচতে মাছ ধরার জাল ব্যবহার করছে ইসরাইল

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা থেকে বাঁচতে মাছ ধরার জাল ব্যবহার করছে ইসরাইল
ছবি: টিডব্লিউজেড/ দ্য ওয়ার জন

লেবাননে হিজবুল্লাহর ‘ফার্স্ট-পারসন ভিউ’ (এফপিভি) কামিকাজে ড্রোনের হামলা থেকে বাঁচতে ইসরাইলি সেনারা এখন মাছ ধরার জাল ব্যবহার করছে।

আইডিএফের নিজস্ব সুরক্ষামূলক জালের ঘাটতি থাকায় সেনারা নিজেরাই জেলেদের কাছ থেকে এই জাল সংগ্রহ করছে বলে গত সোমবার ‘দ্য ওয়ার জোন’ (টিডব্লিউজেড) সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে ইসরাইলের কানো রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম।

আইডিএফের ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘আইডিএফ সেনারা মাছ ধরার জাল দিয়ে নিজেদের সুরক্ষিত করছে, যার বেশির ভাগই গালিলি সাগরের তীরের তিবিরিয়া শহর থেকে কেনা হচ্ছে।’

এছাড়া ভূমধ্যসাগরের আকো ও হাইফা অঞ্চলের জেলেদের কাছ থেকেও সেনারা জাল কিনছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ড্রোন হুমকি মাঠ পর্যায়ের যোদ্ধাদের জন্য একটি দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।’

ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যাপক ব্যবহারের পর এবার ইসরাইলি বাহিনীও ড্রোন আটকাতে বা ড্রোনের বিস্ফোরণ থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখতে যানবাহন ও সরঞ্জামে এই জাল ব্যবহার করছে। তবে ইরানের সমর্থনপুষ্ট হিজবুল্লাহ ফাইবার অপটিক ক্যাবল দ্বারা চালিত এফপিভি ড্রোনের ব্যবহার বাড়ানোয় আইডিএফের ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বা জ্যামিং প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নতুন সংকট হিসেবে হিজবুল্লাহ এখন ড্রোনে থার্মাল ক্যামেরা ব্যবহার শুরু করেছে, যা দিয়ে রাতেও হামলা চালানো যাচ্ছে। আইডিএফ কর্মকর্তা জানান, ফাইবার অপটিক ও থার্মাল ক্যামেরার যৌথ ব্যবহার লেবাননের ভেতরে এবং সীমান্তে থাকা ইসরাইলি বাহিনীর জন্য মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এর ফলে সেনারা কার্যত এক জায়গায় স্থবির হয়ে পড়েছে এবং তারা বেকা উপত্যকা, টায়ার, সিডন কিংবা বৈরুতে থাকা ড্রোনের লজিস্টিক ও অপারেশনাল চেইনে আঘাত করতে পারছে না।

পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আইডিএফ কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি উপস্থিতি দেখাতে নেতানিয়াহু প্রকাশ্য অভিযানের জন্য চাপ দিচ্ছেন। অথচ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানা প্রতিশ্রুতি ও দাবির কারণে বাহিনীর কাজের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সীমিত। এটি একটি ‘ক্যাচ-২২’ (উভয়সংকট) পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যার ফলে ইসরাইলি সেনাদের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এই মন্তব্যের এক দিন পরেই নেতানিয়াহু দক্ষিণ লেবাননে বড় ধরনের অভিযানের নির্দেশ দেন।

ইসরাইলের আই২৪ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইডিএফ ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ের ইউনিটগুলোর মধ্যে ১ লাখ ৫৮ হাজার বর্গমিটার সুরক্ষামূলক জাল বিতরণ করেছে এবং আরো প্রায় ২০ লাখ বর্গফুট জাল সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের অভিযানের ব্যাপ্তির তুলনায় এই পরিমাণ জাল পর্যাপ্ত না হওয়ায় সেনারা বাধ্য হয়ে মাছ ধরার জালের সাহায্য নিচ্ছে।

সূত্র: টিডব্লিউজেড/ দ্য ওয়ার জন

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...