হুথিদের হামলা ঠেকাতে সৌদিকে সহায়তার উপায় খতিয়ে দেখছে তুরস্ক

হুথিদের হামলা ঠেকাতে সৌদিকে সহায়তার উপায় খতিয়ে দেখছে তুরস্ক
ছবি: সংগৃহীত।

ইয়েমেনের হুথিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা মূল্যায়ন করছে তুরস্ক। এ জন্য পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সামরিক পর্যায়ে কারিগরি মূল্যায়ন চলছে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফিদান বলেন, চুক্তির আওতায় কী ধরনের সহায়তা দেওয়া সম্ভব, বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষায় কী অবদান রাখা যায়, তা নিয়ে তুরস্কের সামরিক কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

তিনি বলেন, ‘কারিগরি মূল্যায়ন চলছে এবং আমাদের সামরিক কর্মকর্তারা এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।’

গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির লক্ষ্য হলো তিন দেশের যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার নীতিতে সম্মত হয়েছে দেশগুলো।

তবে ফিদান স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো আক্রমণাত্মক জোট নয়, বরং প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি। তাঁর ভাষায়, চুক্তিভুক্ত কোনো দেশ আক্রান্ত হলে অন্যদের তার পাশে দাঁড়াতে হবে। তবে এর অর্থ অন্য দেশের ভূখণ্ডে সেনা পাঠিয়ে হামলা চালানো নয়।

এদিকে চুক্তিটি বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ হিসেবে তুরস্কের পার্লামেন্টে অনুমোদনের জন্য এর নথি পাঠানোর প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফিদান।

সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার রিয়াদে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক জরুরি পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক সদস্য ও সক্ষমতা মোতায়েনের বিষয়ে একমত হয়।

বৈঠক শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যৌথ প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সৌদিতে সম্মত সামরিক সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েন, সামরিক সমন্বয় বাড়ানো এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় যৌথ প্রস্তুতি জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে কোনো নির্দিষ্ট হুমকির নাম উল্লেখ করা না হলেও, ইয়েমেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলার মধ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হলো।

এর আগে পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ দপ্তরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানি সেনারা দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবে অবস্থান করছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছে।

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, সৌদি বাহিনী সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনা করলেও পাকিস্তানি ও তুর্কি বাহিনী সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এর মধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মতো কার্যক্রম থাকতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন