অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে ইসরাইল। ইসরাইলি জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেনের আদেশে রোববার থেকে ত্রাণ সংকটে থাকা যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকাটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় কোহেন বলেন, ‘অবিলম্বে গাজা উপত্যকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হোক। অনেক আলাপ হয়েছে, এখন পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।’
১৫ মাস ইসরাইলি আগ্রাসনের পর গত ১৯ জানুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি চলে গাজায়। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতির আলোচনায় এখনো কোনো অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির পরপরই গাজায় সব ধরনের ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ করে দেয় ইসরাইল।
তিন ধাপের যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের মেয়াদ বাড়ানোর আলোচনা করতে চাচ্ছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতির দিকে অগ্রসর হওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মিসরের সঙ্গে গাজার সীমান্ত এলাকা থেকে দ্বিতীয় ধাপের শর্ত অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহারে অনীহা থেকেই পরবর্তী ধাপে যেতে চাচ্ছে না ইসরাইল।
স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের পক্ষ থেকে জিম্মিদের মুক্তিতে চাপ দিতে গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের মতো ইসরাইলের ‘সস্তা ও অগ্রহণযোগ্য ব্ল্যাকমেইলের’ নিন্দা করা হয়েছে।
রোববার হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ইজ্জত আল-রিশক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘খাবার, ওষুধ ও পানি থেকে বঞ্চিত করার পর গাজায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধে দখলদারদের সিদ্ধান্তের আমরা কঠিন নিন্দা জানাচ্ছি।’
এদিকে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনার জন্য রোববার কাতারে গেছে ইসরাইলি প্রতিনিধিদল। গত ১ মার্চ প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে আমেরিকা, মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা চলছে।
এরই মধ্যে হামাসের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। রোববার সংবাদমাধ্যম সিএনএনে এক সাক্ষাৎকারে আমেরিকান প্রতিনিধি অ্যাডাম বয়েলার জানান, হামাসের সঙ্গে সরাসরি এ আলোচনা ‘খুবই সহায়ক’। এর মাধ্যমে জিম্মি মুক্তির বিষয়ে ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই’ চুক্তি হতে পারে বলে জানান তিনি।
বয়েলার বলেন, ‘সন্ত্রাসী’ এক সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি এ যোগাযোগ খুবই ‘বিব্রতকর’ হলেও সর্বোপরি ‘খুবই সহায়ক’ এক বৈঠক হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শুধু আমেরিকানই নয়, সব জিম্মির মুক্তির বিষয়েও চুক্তি হতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

