অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল। একইসঙ্গে পুরো উপত্যকায় কঠোরতর অবরোধ আরোপ করে তেল আবিব। অবরোধের জেরে স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা বঞ্চিত হচ্ছেন প্রয়োজনীয় খাবার, পানি ও চিকিৎসাসেবা থেকে। এর মধ্যে গত বছরের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি ঘোষণাও হলেও গাজাবাসীকে লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইলি বাহিনী। একইসঙ্গে ইসরাইলি অবরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে গাজায় ১৭ হাজার সংক্রমণের তথ্য নথিভুক্ত করেছে তারা। ইঁদুর ও ছারপোকা থেকে ছড়ানো এ সংক্রমণ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে, যারা নিজেদের বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ায় নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। শুক্রবার সংস্থাটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরাইলি আগ্রাসনে গাজায় স্বাস্থ্য খাতে অর্থমূল্যের হিসেবে প্রায় ১৪০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় এক হাজার আটশটির বেশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ধ্বংস বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর মধ্যে রোববার গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এক শিশুসহ অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় আল-শিফা হাসপাতালের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানায়, গাজা শহরের সালাহউদ্দিন সড়কে কুয়েত চত্বরে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হন। অপরদিকে মধ্য গাজায় আল-মুগরাকা এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের গুলিবর্ষণে একজন নিহত হন। এছাড়া আগের দিন গাজার শেখ রাদওয়ান মহল্লায় ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে আহত এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে এক নারী নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রোববারের বিবৃতিতে বলা হয়, আগের ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরাইলি হামলায় দুজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যে ৮১১ জন নিহত ও দুই হাজার ২৭৮ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আরো ৭৬১টি লাশ। সবমিলিয়ে গাজায় দুই বছরের বেশি আগ্রাসনে ৭২ হাজার ৫৮৭ জন নিহত ও এক লাখ ৭২ হাজার ৩৮১ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে ব্রিটেনে ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে দেশটির আপিল আদালতে চিঠি দিয়েছেন ১৩২ বিশিষ্ট ব্যক্তি। ২৪ এপ্রিল স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘আমরা গণহত্যাকে প্রত্যাখ্যান করছি, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করছি।’
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন সুইডেনের অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, লেখক স্যালি রনি, দার্শনিক জুডিথ বাটলার, ইতিহাসবিদ ইলান পাপে ও আভি শ্লাইম প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ৬০ দিনের যুদ্ধের সীমা ট্রাম্প কি মানবেন
নৈশভোজে হামলাকারী অসুস্থ ও খ্রিষ্টান ধর্মবিরোধী: ট্রাম্প