ওমানের সঙ্গে চুক্তি হলেও শিগগির খুলছে না হরমুজ: ইরান

ওমানের সঙ্গে চুক্তি হলেও শিগগির খুলছে না হরমুজ: ইরান
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে একটি চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওমান।

তবে কোনো চুক্তির ফলেই হরমুজ প্রণালি শিগগির খুলে দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছে তেহরান।

বিজ্ঞাপন

ইরান ও ওমান, উভয় দেশের পক্ষ থেকেই শনিবার জানানো হয়েছে যে, জলপথটি নিয়ে একটি চুক্তির ব্যাপারে তাদের মধ্যে আলোচনা এগোচ্ছে।

আলোচনাটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। যদিও কবে নাগাদ চুক্তিটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

আবার চুক্তি হলেই যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে, বিষয়টি এমন নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। জলপথটি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি আরো বেশ কিছু শর্তের ওপর নির্ভরশীল বলে মন্তব্য করেছেন আরাগচি।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর হামলার বিরুদ্ধে তেহরানকে সতর্ক করেছে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফলে এটি ঘিরেও দুপক্ষের মধ্যকার চলমান আলোচনা যে ভেস্তে যেতে পারে, সেই শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয়ে থাকে।

কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরোধ করে রেখেছে ইরানি বাহিনী। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে।

এর ফলে জলপথটি দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।

এ অবস্থায় হরমুজ খুলে দেওয়ার বিষয়ে সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ওমান। তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন যে, হরমুজ পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি আরো বেশ কিছু শর্তের ওপর নির্ভর করছে।

তেহরান বলছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার পাশাপাশি স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি সই হয়েছিল, ইরানের ওপর পুনরায় হামলা চালিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সেটি লঙ্ঘন করেছে।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে এখন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে তেহরান।

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহাম্মদ বাকের জুলকাদর দেশটির আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমকে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তার ‘আচরণ সংশোধন’ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় নৌযান চলাচল শুরু হবে না।

তিনি আরো বলেন, জলপথটি উন্মুক্ত করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ছয়টি দাবি পূরণ করতে হবে।

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া বন্ধ করা, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ ছেড়ে দেওয়া।

এদিকে, স্থায়ীভাবে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে তেহরানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের সঙ্গে শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে বলে সম্প্রতি জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু গত শনিবার দেশটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অবশ্য চুক্তির বিষয়টি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

একজন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এর আগে এক খবরে জানিয়েছিল যে, হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে পণ্যমূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত হারে মাশুল দাবি করছে ইরান।

তবে খবরটিকে গুরুত্ব না দিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেন, ‘ইরানি কর্মকর্তারা আমাদের জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।’

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন