রমজানকে বরণ করতে প্রস্তুত যুদ্ধ বিধ্বস্ত গাজা

রমজানকে বরণ করতে প্রস্তুত যুদ্ধ বিধ্বস্ত গাজা

গাজা উপত্যকা দীর্ঘদিন ইসরাইলের হামলায় বিধ্বস্ত। যুদ্ধের ফলে সেখানে মানবিক সংকট তীব্রতর হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং বহু অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে, গাজার মানুষরা পবিত্র রমজান মাসকে বরণ করতে প্রস্তুতি নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

তবে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির কারণে এবারের রমজান উদ্‌যাপন স্বাভাবিকের তুলনায় ভিন্ন হবে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বসবাসরত মানুষদের জন্য রমজানের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। বাস্তুচ্যুত ও গৃহহীন মানুষেরা খাদ্য, পানি এবং আশ্রয়ের জন্য সংগ্রাম করছেন। এমন পরিস্থিতিতে, রমজানের রোজা ও ইবাদত পালনে তাদের জন্য বিশেষ চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে পুনর্গঠন কাজ শুরু হলেও, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে এই প্রক্রিয়া ধীরগতির। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গাজায় সৃষ্ট ৫০ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ সরাতে প্রায় ২১ বছর সময় লাগতে পারে। এতে খরচ হবে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

গাজায় রমজান 2

এমন পরিস্থিতিতে, গাজার মানুষরা রমজানের পবিত্রতা রক্ষা ও ইবাদতের মাধ্যমে মানসিক শক্তি অর্জনের চেষ্টা করছেন। তাদের এই দৃঢ়তা ও সহনশীলতা বিশ্ববাসীর জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস।

সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছোট ছোট বাতি ঝুলিয়ে রমজানের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। শিশুদের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য কিছু জায়গায় রঙিন কাগজ ও লাইট দিয়ে সাজানো হচ্ছে। এমনকি একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নারীরা শিশুদের নিয়ে কোরআনের তালিম দেওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

গাজাবাসী যেন বিশ্বকে এ বার্তাই দিতে যাচ্ছেন, এটা শুধু উৎসব নয়, বরং তারা এখনো ভেঙে পড়েননি, তারাই বিজয়ী। এই আলোকসজ্জা তাদের জীবনের আলো জ্বালিয়ে রাখার এক প্রচেষ্টা মাত্র।

রমজান মাসে ঐতিহ্যগতভাবে গাজার বাজারগুলোতে বিশেষ খাবার ও মিষ্টি পাওয়া যেত। কিন্তু চলমান সংঘর্ষের ফলে খাদ্য সংকট ও বাজার ধ্বংস হওয়ায় অনেক পরিবার ইফতার ও সেহরির জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সংগ্রহে সমস্যার সম্মুখীন হবেন। তবুও, তারা সীমিত সম্পদ দিয়ে নিজেদের মধ্যে খাবার ভাগাভাগি করে রমজানের মূল চেতনা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।

রমজান মুসলিমদের জন্য পবিত্র মাস, যখন সারা বিশ্বে মুসলমানরা ইবাদত, সংযম ও দান-সদকার মাধ্যমে সময় কাটান। কিন্তু গাজাবাসীদের জন্য এই মাস প্রায়ই আরও বেশি ভয়াবহ সংকট নিয়ে আসে। বিভিন্ন বছর দেখা গেছে, এই সময়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর বোমা হামলা, বিমান হামলা এবং অবরোধ আরও কঠোর করে তোলে।

উদাহরণস্বরূপ: ২০২১ সালের রমজান: আল-আকসা মসজিদে নামাজরত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালায়, যা গাজায় বড় আকারের সংঘর্ষের রূপ নেয়।

২০২২ সালের রমজান: ইসরায়েলি বাহিনী ফের আল-আকসায় আক্রমণ করে এবং গাজায় হামলা চালায়।

২০২৩ সালের রমজান: পশ্চিম তীর ও গাজায় বাড়তি সামরিক অভিযান পরিচালনা করে ইসরায়েল।

২০২৪ সালের রমজান: ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসনের ফলে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন