ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সার্বিয়ার অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান গ্রেপ্তার

ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সার্বিয়ার অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান গ্রেপ্তার
মার্কো ক্রিচাক।।ছবি: আলজাজিরা

ক্ষমতার অপব্যবহার ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে সার্বিয়ার অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান মার্কো ক্রিচাককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

গতকাল রোববার তার সঙ্গে সংগঠিত অপরাধ দমন বিভাগের প্রধান বোসকো সেকুলোভিচকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সঙ্গে এই গ্রেপ্তারের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে প্রসিকিউটর দপ্তর।

বেলগ্রেডের প্রধান প্রসিকিউটর নেনাদ স্তেফানোভিচ জানান, ৪২ বছর বয়সি ক্রিচাক ও সেকুলোভিচের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে। এতে বেলগ্রেডের সাবেক পুলিশপ্রধান ভেসেলিন মিলিচের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং তার গুরুতর ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

গত মে মাসে বেলগ্রেডের একটি রেস্তোরাঁয় অপরাধজগতের এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে এসব অভিযোগ সামনে আসে। হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন পর ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে সহায়তা করা এবং অপরাধের তথ্য গোপন রাখার অভিযোগে মিলিচকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

কারাগারে থাকা অবস্থায় ক্রিচাক ও সেকুলোভিচের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন মিলিচ। তার অভিযোগ, তারা প্রসিকিউটরদের কাছে অসম্পূর্ণ ও মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।

ক্রিচাককে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিসের অনুগত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভুসিচের নেতৃত্বাধীন ডানপনন্থি দলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ভূমিকা রাখা বিক্ষোভগুলো দমনে পুলিশের অভিযানের সময় ক্রিচাকের বিরুদ্ধে ‘নিষ্ঠুরতার’ অভিযোগ তুলেছিল ছাত্র সংগঠনগুলো।

গত সপ্তাহে ব্যাপক সংস্কারের দাবিতে ছাত্ররা ক্রিচাকসহ পুলিশের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের প্রধানদের অপসারণের দাবি জানায়। তবে ক্রিচাকের গ্রেপ্তারের সঙ্গে ছাত্রদের এসব দাবির কোনো যোগসূত্র তুলে ধরেনি প্রসিকিউটর দপ্তর।

স্তেফানোভিচ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই গ্রেপ্তারের সঙ্গে আইনসভা নির্বাচনের ফলাফলের কোনো সম্পর্ক নেই।’

গত ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আগাম নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পায় শিক্ষার্থীদের সমর্থনপুষ্ট আন্দোলন ‘দ্য স্টুডেন্ট লিস্ট’। প্রায় দুই বছর ধরে চলা বিক্ষোভের মুখে নির্বাচনটি আহ্বান করেছিলেন ভুসিচ। এর মধ্য দিয়ে তার সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির ১৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

নোভি সাদ ট্র্যাজেডির দুই বছর

এদিকে, সার্বিয়ায় নোভি সাদ রেলস্টেশনের দুর্ঘটনার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল রোববার হাজারো মানুষ সমবেত হন। ২০২৪ সালের ওই দিন শহরটির সদ্য সংস্কার করা রেলস্টেশনের কংক্রিটের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হয়েছিলেন।

দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের স্মরণে এক মিনিট করে মোট ১৬ মিনিট নীরবতা পালন করেন সমবেত ব্যক্তিরা। বৃষ্টির মধ্যে শিক্ষার্থীরা নীরবে শোকযাত্রা করেন। তাদের হাতে ছিল ফুলের তোড়া।

দুর্ঘটনায় নিহত ২৭ বছর বয়সি স্টেফানের মা দিয়ানা হরকা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘যেখানে সবকিছু ঘটেছিল, সেখানে ফিরে যাওয়া কঠিন। আমি বিশ্বাস করি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।’

এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা বলেছে, ওই ঘটনাকে শুধু ‘ট্র্যাজেডি’ বললে এর প্রকৃত তাৎপর্য বোঝানো হয় না।

তারা বলেছে, ‘ট্র্যাজেডি বলতে দুর্ঘটনাকে বোঝায়। কিন্তু এই শব্দের আড়ালে কৌশলে সেই শব্দটি লুকিয়ে রাখা যায়, যেটি আমরা সবাই খুঁজছি—দায়বদ্ধতা।’

রেলস্টেশনের ছাউনি ধসের ঘটনাটি সাবেক প্রেসিডেন্ট স্লোবোদান মিলোসেভিচের পতনের পর সার্বিয়ায় সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের সূত্রপাত করে। বিক্ষোভের মুখে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী মিলোস ভুচেভিচ।

গত সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়েন ভুসিচ। এরপর তিনি নিজের দলের নির্বাচনি তালিকার নেতৃত্ব দেন। বিক্ষোভের ঘটনায় যেসব শিক্ষার্থী ও অধিকারকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল, তাদের ক্ষমা করে দেন তিনি।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন