ইসরাইলি অবরোধে গাজায় মানবিক সহায়তা ভেঙে পড়ার সতর্কতা রেডক্রসের

ইসরাইলি অবরোধে গাজায় মানবিক সহায়তা ভেঙে পড়ার সতর্কতা রেডক্রসের

যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় ইসরাইলের সর্বাত্মক অবরোধের জেরে অঞ্চলটিতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়ার মুখে রয়েছে বলে সতর্কতা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবিক সাহায্য সংস্থা রেডক্রস। শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ সতর্কতা জানায় সংস্থাটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় ৬০ দিনের বেশি চলমান ইসরাইলের সর্বাত্মক অবরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনধারণই কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

এতে বলা হয়, গাজায় সহায়তা কার্যক্রম চালু রাখতে অনতিবিলম্বে অবরোধ তুলে নিয়ে খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ সরবরাহ শুরু করতে হবে।

রেডক্রস জানায়, আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাবিষয়ক আইন অনুসারে, গাজায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের প্রয়োজন নিশ্চিত করতে সব ধরনের পণ্য ও সরঞ্জাম সরবরাহে ইসরাইলের দায়বদ্ধতা রয়েছে।

রেডক্রসের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বৈরী পরিস্থিতির ঝুঁকি, অব্যাহত বাস্তুচ্যুতি ও জরুরি মানবিক সহায়তা বন্ধের জেরে গাজার বেসামরিক নাগরিকরা দৈনন্দিন জীবনধারণেই শ্বাসরুদ্ধকর সংগ্রাম করতে হয়। এ পরিস্থিতিকে আর দীর্ঘায়িত করা যাবে না।’

এদিকে শুক্রবার তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির কাছে এক সাক্ষাৎকারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা- ডব্লিউএইচওর মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস বলেছেন, ইসরাইলের অবরোধের জেরে গাজায় চিকিৎসার সংকট গভীর হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গাজার স্থানীয় বাসিন্দারা সবকিছু থেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের খাবার নেই, বিশুদ্ধ পানি নেই, বাড়িঘর নেই এবং যথাযথ স্বাস্থ্যসেবায়ও তাদের প্রবেশাধিকার নেই।’

গাজার স্বাস্থ্যসেবা লক্ষ্য করে ইসরাইলি হামলার জেরে স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা এখন হাসপাতালে যেতেও ভয় পায় বলে জানান মার্গারেট হ্যারিস। হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ইসরাইলি অবরোধের জেরে হাসপাতালগুলোতেও রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই বলে জানান তিনি।

শুক্রবার রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস-আরএসএফের প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেস্ক ২০২৫’-এ বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের জন্য ফিলিস্তিন বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় ইসরাইলি অবরোধের মধ্যে আটকে থাকা সাংবাদিকদের কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই। খাদ্য-পানিসহ সবকিছু থেকেই তারা বঞ্চিত। অপরদিকে পশ্চিম তীরে সাংবাদিকরা ইসরাইলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারী উভয়ের কাছ থেকে নিয়মিতভাবেই হামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছে। ৭ অক্টোবরের পর থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধে দায়মুক্তি এক ধরনের নতুন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন