ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস এবং প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়নার কনিষ্ঠ সন্তান হেনরি চার্লস অ্যালবার্ট ডেভিড, যিনি বিশ্বব্যাপী প্রিন্স হ্যারি নামে পরিচিত। আবারও একত্রিত হতে চান রাজপরিবারের সঙ্গে। ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজপরিবার এবং রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে গিয়েছিলেন হ্যারি। পরে স্ত্রী মেগান মার্কেল এবং দুই সন্তান নিয়ে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস শুরু করেন ডিউক অব সাসেক্স। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটেনের বিশেষজ্ঞ সংস্থা সিদ্ধান্ত নেয়, ব্রিটেনে থাকাকালীন হ্যারি সরকারের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত পুলিশ সুরক্ষা পাবেন না। আর বিষয়টি গত বছর লন্ডনের হাইকোর্ট আইনসঙ্গত বলে রায় দিয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, হ্যারি ও তার পরিবারকে ব্রিটেন সফরকালে আগের মতো সরকারি নিরাপত্তা দেওয়া হবে না। তারা সাধারণ নাগরিকের মতোই চলাফেরা করবেন। বরং নিরাপত্তা নিতে চাইলে সফরের অন্তত ৩০ দিন আগে তা সরকারকে জানাতে হবে।
হ্যারি সরকারের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেন। এক্ষেত্রে প্রথম দফায় হেরে যান তিনি। পরে আবারও আপিল করেছিলেন তিনি। স্থানীয় সময় শুক্রবার লন্ডনের আপিল আদালতও হ্যারির বিপক্ষে রায় দেয়। তিন সিনিয়র বিচারক তাদের রায়ে জানান, নিরাপত্তা নিয়ে হ্যারির করা অভিযোগের মধ্যে কোনো ভিত্তি নেই। রায় ঘোষণার পর অনেকটাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। সংবাদ সংস্থা বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হ্যারি বলেন, তিনি আবারও তার পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন চান।
নিরাপত্তা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জে হেরে বিধ্বস্ত হ্যারি। তিনি বলেন, এই নিরাপত্তা নিয়ে বাবা চার্লসের সঙ্গে কথা বলবেন না। লড়াইও করতে চান না। কারণ তার বাবা আর কতদিন বেঁচে থাকবেন তাও জানেন না হ্যারি। তার মতে, জীবন মূল্যবান।
গত বছর চার্লসের ক্যানসার ধরা পড়ে বলে বাকিংহাম প্যালেস থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছিল। চার্লস কিছুদিন আগে এক ব্যক্তিগত বার্তায় তার ক্যানসার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছিলেন। এর পরপরই বাবাকে নিয়ে ওই কথা বলেন প্রিন্স হ্যারি।
রায় নিয়ে বিবিসিকে হ্যারি বলেন, আদালতের রায়ে অবশ্যই বেশ বিরক্ত তিনি। তিনি আরো বলেন, তিনি যা তা-ই থাকবেন। তার মর্যাদা পরিবর্তিত হয়নি আর হবেও না। তিনিও এটিকে এড়াতে পারবেন না।
হ্যারি বলেন, তার এবং তার পরিবারের কিছু সদস্যের মধ্যে অনেক মতবিরোধ ছিল। কিন্তু এখন তাদের ‘ক্ষমা’ করে দিয়েছেন।
রাজপরিবার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে হ্যারি বলেন, এটি তার ও তার পরিবারকে প্রতি মুহূর্তে প্রভাবিত করছে, ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি তার পরিবারের ক্ষমা পেতে সংগ্রাম করে যাবেন।
৪০ বছর বয়সি হ্যারি এপ্রিল মাসে দুই দিনের শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন। নিরাপত্তা মামলায় হেরে হ্যারি বলেন, স্ত্রী-সন্তানকে আর কখনো ব্রিটেনে ফিরিয়ে আনতে পারবেন নাÑ এমনটা তিনি কল্পনাও করতে পারেন না।
হ্যারির রাজকীয় অবস্থানের পরিবর্তনের কারণে তার নিরাপত্তাও কমানো হয়েছে বলে যুক্থি দিয়েছেন সরকার পক্ষের আইনজীবীরা। এছাড়া তিনি বেশির ভাগ সময়ই দেশের বাইরে বাস করেন। এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রায় সরকারের পক্ষে হওয়ায় সন্তুষ্ট তারা। কারণ এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ‘কঠোর এবং সমান জন্যই সমান।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

