যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডাক পরিষেবা স্থগিতের ঘোষণা ভারতের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডাক পরিষেবা স্থগিতের ঘোষণা ভারতের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডাক পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ভারত। শনিবার ভারতের ডাক বিভাগ এ ঘোষণা দেয়। তারা জানায়, আগামী ২৫ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডাক পরিষেবা অস্থায়ীভাবে স্থগিত করা হবে। খবর আনন্দবাজারের।

আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে কোন চিঠি বা পার্সেল পাঠানো যাবে না। তবে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় পণ্যে মার্কিন শুল্ক আরোপকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে সম্প্রতি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ক্রমবর্ধমান এই বাণিজ্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ডাক পরিষেবা স্থগিত করা হচ্ছে।

গত ৩০ জুলাই ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন একটি নির্দেশিকা জারি করে জানায়, এতো দিন ৮০০ মার্কিন ডলার মূল্য পর্যন্ত কোন সামগ্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন শুল্ক গুনতে হত না। তবে এ বার সেই নিয়ম পাল্টে যাচ্ছে। শুল্কমুক্ত পরিষেবা স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এখন ভারতীয় ডাক বিভাগ পরিষেবা সাময়িক স্থগিতের কথা জানালো।

ডাক বিভাগের জানিয়েছে, আগামী ২৯ অগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সকল ডাক পণ্যে তাদের মূল্যের ভিত্তিতে শুল্ক আরোপ করা হবে। সেই শুল্ক নির্ধারণ করা হবে ‘আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক শক্তি আইন’-এর অধীনে। বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ১০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের উপহার সামগ্রী শুল্কমুক্ত থাকবে।

ভারতীয় ডাক বিভাগ ২৯ আগস্ট থেকে পরিষেবা স্থগিতের কথা জানালেও ২৫ আগস্টের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন চিঠি বা সামগ্রীর বুকিং হবে না। বিমান সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ২৫ আগস্টের পরে তারা আর যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো কোন পার্সেল নিয়ে যেতে পারবে না। সেই কারণেই ভারতীয় ডাক বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সকল প্রকার সামগ্রীর বুকিং স্থগিত রাখছে বলে জানানো হয়েছে।

যে সব গ্রাহক ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে পার্সেল পাঠানোর জন্য বুকিং করেছেন, তাদের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম বলবৎ হচ্ছে। ওই সব গ্রাহকের পার্সেল পাঠানো যাবে না বলেই জানিয়েছে ডাক বিভাগ। তবে বুকিংয়ের জন্য গ্রাহকেরা যা ব্যয় করেছেন, তা ফেরত দেওয়া হবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। ডাক বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব যুক্তরাষ্ট্রে পরিষেবা সম্পূর্ণ ভাবে চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। এরপর রাশিয়ার তেল কেনার জন্য অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ জরিমানা শুল্ক আরোপ করেছেন, যার ফলে মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে।

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন