অবরুদ্ধ গাজা থেকে ষষ্ঠ দফায় তিন ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছেন স্বাধীনতাকামী যোদ্ধারা। শনিবার গাজার খান ইউনুসে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিন জিম্মিকে মুক্তি দেয় হামাস ও ইসলামিক জিহাদের সামরিক শাখা।
এর বিপরীতে ইসরাইলি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ৩৬৯ ফিলিস্তিনি বন্দি। যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকরের পর এটিই বৃহত্তম সংখ্যায় ফিলিস্তিনিদের মুক্তি।
এর আগে গত মঙ্গলবার হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুরোপুরি মানছে না ইসরাইলি পক্ষ। এর জেরে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে জিম্মি মুক্তির প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে। এর জেরে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল।
দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনার জেরে কায়রোতে মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। আলোচনায় ‘সন্তোষজনক অগ্রগতির’ পর জিম্মি মুক্তির প্রক্রিয়া চালু করতে সম্মত হয় হামাস।
শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা নাগাদ খান ইউনুসে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের সশস্ত্র যোদ্ধারা তিন ইসরাইলি জিম্মিকে রেড ক্রসের প্রতিনিধি দলের হাতে তুলে দেন। তিনজনকেই দক্ষিণ ইসরাইলের নির ওজ বসতি থেকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর বন্দি করে গাজায় নিয়ে আসেন ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী যোদ্ধারা।
তিন জিম্মি হলেন- ৪৬ বছর বয়সি আর্জেন্টাইন-ইসরাইলি নাগরিক ইয়ায়ির হরন, ২৯ বছর বয়সি রুশ-ইসরাইলি নাগরিক আলেকজান্ডার সাশা ত্রুফানভ এবং ৩৬ বছর বয়সি আমেরিকান-ইসরাইলি সিগি ডেকেল চ্যান।
সংক্ষিপ্ত ওই অনুষ্ঠানে মঞ্চে নিয়ে তিন জিম্মির হাতে মুক্তির সদস তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া জিম্মিরা মঞ্চে স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
পরে রেড ক্রস প্রতিনিধি দল ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সদস্যদের হাতে মুক্তি পাওয়া তিন জিম্মিকে হস্তান্তর করে।
এ নিয়ে ছয় দফায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী যোদ্ধারা মোট ২৫ জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছেন। গত ১৯ জানুয়ারি কার্যকর হওয়া প্রথম দফার যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী মোট ৩৩ জিম্মিকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছিল ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলো। এর বিপরীতে ইসরাইলি কারাগার থেকে ৩৬৯ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরমধ্যে ১০ জন পশ্চিম তীর এবং একজন পূর্ব জেরুসালেমের বাসিন্দা। মুক্তি পাওয়া বন্দিদের ৩৩৩ জনকে ইসরাইলি আগ্রাসনের সময় গাজা থেকে গ্রেপ্তার করে নেওয়া হয়। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ৩৬ জন ইসরাইলি কারাগারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করছিলেন।
মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রভাবশালী ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মারওয়ান বারগুছির ঘনিষ্ঠ সহযোগী আহমদ বারগুছি রয়েছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

