আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফরের মধ্যে যেন হিংস্রতার মাত্রা ছাড়িয়েছে গাজায় ইসরাইলের বর্বর আগ্রাসন। বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুদিনে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হামলায় দুইশ’র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতালগুলোর বরাত দিয়ে শুক্রবার আলজাজিরা জানায়, ভোর থেকে স্থানীয় সময় দুপুর ২টা পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১০৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে উত্তর গাজায় অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন।
এর আগে গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সির বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানায়, বৃহস্পতিবার পুরো দিনে অন্তত ১৪৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
অপরদিকে গতকাল শুক্রবার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় ১০৯ জন নিহত ও ২১৬ জন আহত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, পুরো গাজার ইসরাইলি হামলায় হতাহত সবার তথ্য তাদের হাতে না আসায় এ তালিকায় তা যুক্ত করা হয়নি।
এ নিয়ে ১৯ মাসের ইসরাইলি আগ্রাসনে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৫৩ হাজার ১১৯ এবং আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২০ হাজার ২১৪।
হামলার প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এক বিবৃতিতে ‘বর্বর এ আগ্রাসন’ চালানো থেকে ইসরাইলকে বাধা দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইসরাইলের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
এর আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফর শেষ হওয়ার পরেও যদি গাজায় আটক ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তি দিতে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হামাস ব্যর্থ হয়, তবে গাজায় হামলা জোরদার করা হবে। গত মঙ্গলবার সৌদি আরবের রিয়াদে সফরের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য সফর শুরু করেন ট্রাম্প। শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ত্যাগের মাধ্যমে এ সফর শেষ হয়েছে।
এদিকে কাতারের রাজধানী দোহায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে ইসরাইলি প্রতিনিধি দলের গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা চলছে। তবে আলোচনায় এখনো কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
হামাস চুক্তির জন্য স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, সম্পূর্ণভাবে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার ও গাজায় পুনর্গঠন শুরুর দাবি করছে। তবে ইসরাইলি সরকার কোনো প্রকার স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার আমেরিকান সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা বাসেম নাইম বলেছেন, সব ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তি দিতে হামাস প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সব মধ্যস্থতাকারী ও আমেরিকানদের আমরা বলেছি, যদি আমরা নিশ্চিত হতে পারি যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে, তবে আমরা সব জিম্মিকে অনতিবিলম্বে মুক্তি দিতে প্রস্তুত রয়েছি।’
গাজায় এ আগ্রাসনের মধ্যে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা।
শুক্রবার নাবলুসের মাসুদিয়া এলাকায় ফিলিস্তিনিদের গাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে বসতি স্থাপনকারীরা। একইভাবে সালফিত ও তুলকারামেও একই ধরনের হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া হেবরনে তিন অধিকারকর্মীর ওপর হামলা চালায় বসতি স্থাপনকারীরা।
আগের দিন বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীরের তুবাস অঞ্চলের তামমুন শহরের এক ফিলিস্তিনি বাড়ি ঘেরাও করে হামলা চালায় ইসরাইলি সেনারা। হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

