ওয়াকফ সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আম আদমি পার্টি

ওয়াকফ সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আম আদমি পার্টি

ভারতের বিতর্কিত ওয়াকফ সংশোধনী বিলে স্বাক্ষর করেছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ফলে বিলটি আইনে পরিণত হলো। এর আগে বিলটি লোকসভা ও রাজ্যসভায় চরম বিতর্কের মধ্য দিয়ে পাস হয়। এরপরই বিলটির বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করে বিরোধী দল কংগ্রেস এবং আসাদুদ্দিন ওয়াইসির অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন বা এআইএমআইএম পার্টি। এবার তৃতীয় বিরোধী দল হিসেবে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি দ্বারস্থ হলো সর্বোচ্চ আদালতের।

বিরোধী দলগুলোর দাবি, ১৯৯৫ সালের ওয়াক্ফ সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণকারী আইন সংশোধনের প্রস্তাবিত আইনটি বৈষম্যমূলক এবং মুসলমানদের ‘টার্গেট’ করে তৈরি করা। ফলে বিলটি নিয়ে চলতি বছর দেশজুড়ে রাজনৈতিক দল ও সংখ্যালঘু সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

এ সংশোধনী মুসলমানদের ধর্মীয় স্বায়ত্তশাসন হ্রাস করবে। দিল্লির ওখলা এলাকা থেকে নির্বাচিত আম আদমি পার্টির বিধায়ক এবং দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ডের চেয়ারম্যান আমানতুল্লাহ খান এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে রিট দায়ের করেছেন। রিটে বলা হয়েছে, সরকারের এ ধরনের হস্তক্ষেপ সংখ্যালঘুদের ধর্মীয়, দাতব্য ও সাংস্কৃতিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকারকে খর্ব করবে। শুধু তাই এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালানায় নির্বিচারে নির্বাহী হস্তক্ষেপের সুযোগ দেবে। তবে সরকার বলেছে, এ আইনে মুসলিম নারীরা উপকৃত হবেন এবং ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি পরিচালনায় স্বচ্ছতা আসবে।

ওয়াক্‌ফ সংশোধনী বিলের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি আরো বলেছেন, আইনটি সমতার স্বাধীনতা, ধর্মীয় বিষয় পরিচালনা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকারসহ নাগরিকদের একাধিক মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে। সুপ্রিম কোর্টের কাছে বিলটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে এই কারণ উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টে রিট দায়ের করেন কংগ্রেসের মোহাম্মদ জাভেদ এবং আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

ওয়াক্‌ফ বিলের যৌথ সংসদীয় কমিটির সদস্য জাভেদ বলেন, আইনটি অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বিদ্যমান বিধিনিষেধ আরোপ করে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করবে। এ আইনের প্রধান উদ্বেগের জায়গাটি হলো ওয়াক্‌ফ কাউন্সিল এবং রাজ্য বোর্ডে অমুসলিম সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রাখা। যেখানে হিন্দু এনডাউমেন্ট বোর্ড বা জৈন এনডাউমেন্ট বোর্ডের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য নয়, সেখানে ওয়াক্‌ফ বোর্ডে এখন থেকে এটি প্রযোজ্য হবে, যা সংবিধানের গুরুতর লঙ্ঘন।

আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, বিজেপি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে মুসলিমদের সব অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য সংস্কার নয়, বরং ধ্বংস করার জন্য ব্যবহার করছে। মোদি সরকার মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার জন্য একটি আইন প্রণয়ন করছে।

তবে বিলটির পক্ষে সাফাই গেয়েছেন বিজেপির সাংসদ রবি শঙ্কর প্রসাদ। এনডিটিভিকে তিনি বলেছেন, ওয়াক্‌ফ বোর্ডগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতেই এ সংস্কার। এ আইনের মাধ্যমে ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া বা কোনো মসজিদ বা কবরস্থান জবরদখল করা হবে না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন