নেপালে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যেসব দাবি তুলছেন জেন-জিরা

নেপালে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যেসব দাবি তুলছেন জেন-জিরা

সামাজিকমাধ্যমের ওপর নেপাল সরকারের নিষেধাজ্ঞার পরই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে নেপালে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে মঙ্গলবার। সামাজিকমাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেও কোনো লাভ হয়নি। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ১৯ জন নিহতের ঘটনায় অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে নেপাল।

সরকারের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, আর্থিক বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো সামনে চলে আসে। রাজধানী কাঠমান্ডু ছাড়িয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। বহু সরকারি ভবন, রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রীদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়। ভাংচুর করা হয় পার্লামেন্ট ভবন ও সুপ্রিম কোর্ট।

বিজ্ঞাপন

পরে পার্লামেন্ট ভবনে আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা। অশান্তি পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি।

অন্যদিকে, অলি সরকারকে উৎখাত করে দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের দাবিও তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। পাশাপাশি, গত তিন দশক ধরে রাজনৈতিক নেতাদের করা লুটপাটের তদন্তের দাবিও করছেন তারা।

আন্দোলকারীরা ঘোষণা করেছেন, বিক্ষোভের সময় যারা নিহত হয়েছেন, তাদের সকলকে সরকারিভাবে ‘শহীদ’ স্বীকৃতি দিতে হবে। নিহতদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সম্মান, স্বীকৃতি ও আর্থিক সাহায্য দেওয়ার দাবিও করেছেন তারা।

বেকারত্ব মোকাবেলা, অভিবাসন কমানো এবং সামাজিক অবিচার মোকাবিলায় বিশেষ কর্মসূচি চালু করারও ডাক দিয়েছেন জেন-জিরা।

একটি বিবৃতিতে বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, ‘‘এই আন্দোলন কোনো দল বা ব্যক্তির জন্য নয় বরং নেপালের সব প্রজন্মের মানুষ এবং দেশের ভবিষ্যতের জন্য। শান্তি প্রতিষ্ঠা হওয়া দরকার। তবে তা কেবল একটি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করেই সম্ভব।’

এছাড়াও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নেপালের বর্তমান ‘হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভ’কে বরখাস্ত করতে হবে।

সেইসাথে সাধারণ নাগরিক, বিশেষজ্ঞ ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সংবিধান সংশোধন বা সম্পূর্ণ পুনর্লিখনের দাবিও তুলেছেন জেন-জি আন্দোলকারীরা।

অন্তর্বর্তিকালীন সময়ের পরে নতুন নির্বাচন পরিচালনা এবং তা স্বাধীন, সুষ্ঠু ও সরাসরি জনসাধারণের অংশগ্রহণের ওপর ভিত্তি করে হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছেন নেপালের তরুণরা।

এছাড়াও বৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা এবং যোগাযোগ-এই পাঁচ মৌলিক প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত সংস্কার এবং পুনর্গঠনের দাবিও জানানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট এবং নেপালের সেনাবাহিনী তাদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করবে বলে আশাবাদী আন্দোলনকারীরা।

বুধবার সকাল থেকে নেপালে বড় ধরনের কোনও অশান্তির ঘটনা না ঘটলেও চলছে বিক্ষিপ্ত কিছু সংঘর্ষ হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে নেপালের দায়িত্ব নিয়েছে সে দেশের সেনাবাহিনী।

সূত্র: আনন্দবাজার

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন