আইসিসি ছাড়ার প্রক্রিয়া বাতিল করল হাঙ্গেরির পার্লামেন্ট

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

আইসিসি ছাড়ার প্রক্রিয়া বাতিল করল হাঙ্গেরির পার্লামেন্ট
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান (ডানদিকে) এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: এএফপি

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত বছর আইসিসি থেকে সদস্যপদ প্রত্যাহারের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা বাতিল করেছেন হাঙ্গেরির আইনপ্রণেতারা। গত বুধবার দেশটির পার্লামেন্টে বিপুল ভোটে আইসিসিতে থেকে যাওয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

১৯৯ সদস্যের হাঙ্গেরিয়ান পার্লামেন্টে এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিলের পক্ষে ১৩৩টি ভোট পড়ে, বিপক্ষে পড়ে ৩৭টি ভোট এবং পাঁচজন ভোটদানে বিরত ছিলেন। আগামী সপ্তাহের মঙ্গলবার থেকে এই প্রত্যাহার কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। বিলটি এখন আইনে পরিণত করার জন্য ওর্বানের মিত্র ও দেশটির প্রেসিডেন্ট তামাস সুলিওকের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত এপ্রিলে ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে ভিক্টর ওর্বানের ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন হাঙ্গেরির ইইউ-পন্থী রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগিয়ার। তিনি ওর্বানের শুরু করা এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়াটি উল্টে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বুদাপেস্টের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর আইসিসির আইনসভা এই ‘গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে’ স্বাগত জানিয়েছে।

গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগিয়ার আইসিসি থেকে হাঙ্গেরির প্রত্যাহার বাতিলের বিলটি পার্লামেন্টে পেশ করেন। দ্রুত অনুমোদিত হওয়া এই বিলে বলা হয়,‘আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে আন্তর্জাতিক আদালতে নিকৃষ্টতম আন্তর্জাতিক অপরাধে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা আবশ্যক।’

প্রধানমন্ত্রী ম্যাগিয়ার এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, হাঙ্গেরি আইসিসির পরোয়ানা অনুযায়ী যেকারো বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে, এমনকি তিনি নেতানিয়াহু হলেও। যদিও হাঙ্গেরিয়ান বিদ্রোহের ৭০তম বার্ষিকী উদযাপনে অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে নেতানিয়াহুকেও চলতি বছরের শেষের দিকে বুদাপেস্টে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

গত বছরের এপ্রিলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওর্বান হাঙ্গেরিতে নেতানিয়াহুকে রাষ্ট্রীয় সফরে স্বাগত জানানোর সময় আইসিসি থেকে নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। আইসিসি সদস্য হিসেবে গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের জন্য ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও ওর্বান তা উপেক্ষা করেন এবং ওই সময় যুক্তি দেন, এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আইসিসিকে একটি ‘রাজনৈতিক আদালতে’ পরিণত করেছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় শুরু হওয়া যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ যার মধ্যে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে অনাহারকে বেছে নেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে। তার ভিত্তিতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি।

ইসরাইল এই অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির শীর্ষ বিচারক ও প্রসিকিউটরদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আদালত ওই সময় হামাসের তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও একই ধরনের পরোয়ানা জারি করেছিল, যারা পরবর্তীতে ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থনে হেগ-ভিত্তিক এই ট্রাইব্যুনাল বিশ্বের সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের বিচার করার চেষ্টা করে, যখন কোনো দেশ নিজে তা করতে অনিচ্ছুক বা অক্ষম হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার অভিযোগে ৩০টিরও বেশি মামলা পরিচালনা করেছে। তবে আইনি এক্তিয়ারের স্বীকৃতি এবং তা কার্যকর করার ক্ষমতার অভাবের কারণে আদালতকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। চীন, ইসরাইল, রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির এক্তিয়ারকে স্বীকৃতি দেয় না, যা তাদের নাগরিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত করার ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করে। এর আগে কেবল বুরুন্ডি এবং ফিলিপাইন আইসিসি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরাইল

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন