মৃত মাকে গালি দেওয়ায় কষ্ট পেয়েছেন মোদি

মৃত মাকে গালি দেওয়ায় কষ্ট পেয়েছেন মোদি
নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি

নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে উসকানিমূলক ও আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় সামাজিক সহনশীলতার বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

গতকাল শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি আন্দোলনকারীদের প্রতি সংযম ও ক্ষমার আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, গালিগালাজ কখনো কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। সামাজিক অপরাধমূলক শাস্তির পথ না বেছে ভুল পথে পরিচালিত এসব তরুণকে সুপথে ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ২৩ জুলাই যন্তর-মন্তরে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে এক বিক্ষোভ প্রদর্শন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলন চলার সময় প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মাকে লক্ষ্য করে চরম আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়।

ওই ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যন্তর-মন্তরে যা ঘটেছে, তা পুরো দেশ ও বিশ্ব দেখেছে। কিছু বিভ্রান্ত তরুণেরা এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, যা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। আমাকে তো বটেই, এমনকি আমার প্রয়াত মাকেও গালি দেওয়া হয়েছে।’

তবে এ ঘটনার জবাবে রাগ বা প্রতিশোধের পথ সমর্থন করেন না জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, তরুণদের ভুল থেকে শেখার সুযোগ থাকা উচিত। শৈশব ও কৈশোরে মানুষ ভুল করতেই পারে। আর তরুণ বয়সের আসল অর্থই হলো ভুল শুধরে নেওয়া।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সমাজজুড়ে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তা আমি বুঝি। কিন্তু এখন সময় এই সন্তানদের বুকে টেনে নিয়ে সঠিক পথ দেখানোর। ওদের শাস্তি দেওয়া, আদালতে টেনে নিয়ে যাওয়া কিংবা হয়রানি করা হলে পরিস্থিতি বদলাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের ক্ষমা করে দিতে চাই এবং সমাজের কাছেও অনুরোধ করছি আমার এই বক্তব্য গ্রহণ করার জন্য। আসুন, আমরা বিভ্রান্ত তরুণদের পথ দেখাই এবং সবাই মিলে ভারতের জন্য কাজ করি।’

উল্লেখ্য, আপত্তিকর স্লোগানের ঘটনায় ২৫ বছর বয়সি এক তরুণীর বিরুদ্ধে নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে পুলিশ স্টেশনে ‘জিরো এফআইআর’ নথিভুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২ (শান্তি ভঙ্গের উসকানি), ৩৫৩(১) (জনপরিসরে উসকানিমূলক মন্তব্য) এবং ৩৫৬(১) (মানহানি) ধারায় মামলাটি করা হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশনে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, পুলিশি ও আইনি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন কাকরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস। ব্যবহৃত ভাষার তীব্র বিরোধিতা করলেও তিনি রাজনৈতিক প্রতিবাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অপরাধমূলক আইন প্রয়োগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

সৌরভ দাস বলেন, ‘ব্যবহৃত ভাষা অবমাননাকর বা আপত্তিজনক হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেওয়ানি বা ফৌজদারি মানহানির মামলা করতে পারেন। তবে প্রতিবাদ দমনে বা কথার ওপর ভিত্তি করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অপরাধমূলক আইনি ব্যবস্থা কিংবা পুলিশি তৎপরতা চালানো অত্যন্ত নিন্দনীয়।’

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন