ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলমান অনশন ভাঙবেন না শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। তার এই বার্তার পরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টিও।
বুধবার বিকেলে সোনাম ওয়াংচুক একটি বিবৃতিতে জানান, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা তাকে আশ্বাস দিয়েছেন—ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রদের পরিবারকে সহায়তা ও ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার বিষয়টি তিনি ‘বিবেচনা করে দেখবেন’। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎতের পর ধন্যবাদ জানালেও সোনাম ওয়াংচুক স্পষ্ট করেছেন যে, এখনই তিনি তার অনশন ভাঙবেন না।
একইসঙ্গে ওয়াংচুককে অনশন ভঙ্গ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সোনাম। সোনাম ওয়াংচুকের বিবৃতি আসার আগেই তিনি আবেদন করেন, ‘আপনি দেশের যুবসমাজের জন্য যা করেছেন তাকে অনুপ্রেরণা করেই আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব, কিন্তু আপনি আর নিজের শরীর স্বাস্থ্য নষ্ট করবেন না।
সোমবারের বিক্ষোভ দেখানো ছাত্র জনতারা যাতে কোনো রকম আইনি সমস্যার মুখোমুখি না হন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে সেই অনুরোধ রেখেছেন ওয়াংচুক।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ৬৫ জন সংসদ সদস্য তাকে অনশন ভঙ্গের অনুরোধ করেছেন এবং বলেছেন যে দেশের স্বার্থে তার জীবিত থাকা প্রয়োজন।
এছাড়াও তিনি আরেকটি যে নতুন দাবি রেখেছেন; সেটি হলো, শুধু তার কথায় নয়, দেশের লাখো ছাত্র-যুবর কথা মতো সরকার কাজ করলেই তিনি তার অনশন ভঙ্গ করবেন।
তিনি বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে যারা সম্মতি জানায় তাদের উপর নয়, বরং প্রতিবাদী ছাত্র যুবদের সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে- সেই সিদ্ধান্ত যারা নেন তাদের উপর।’
এই বিবৃতির পরে ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন একইভাবে চলবে।
সোমবার ‘সংসদ অভিযান’-এর দুদিন পরে বুধবার বিকেলেও যন্তর মন্তরে হাজির রয়েছেন শত শত আন্দোলনকারী; মাঝে মাঝেই উঠছে স্লোগান; প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। দিল্লির গরম, আর্দ্র আবহাওয়া ও মাঝেমধ্যেই কয়েক পশলা বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মঞ্চের সামনে জমায়েত রয়েছেন ছাত্রছাত্রী ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীরা।
তাদের জন্য খাবার আর অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিভিন্ন ‘ফুড ডেলিভারি অ্যাপ’-এর মাধ্যমে পৌঁছিয়ে দিচ্ছেন বেনামী ব্যক্তিরা, দেশের নানা রাজ্য থেকে। খাবার নিয়ে আসছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও।
অন্যদিকে এই বিক্ষোভ মোকাবিলা করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকারও। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের দায়িত্বে আসা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ২০ কোম্পানি সদস্যকে বিমানে উড়িয়ে নিয়ে আসা হয়েছে দিল্লিতে। বুধবারও বন্ধ রাখা হয়েছে দিল্লি মেট্রোর কয়েকটি স্টেশন।
কিন্তু মঙ্গলবার ২১শে জুলাই রাত পর্যন্ত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রতিবাদের প্রতি দৃষ্টিকোণ যে খুব একটা বদলায়নি, তা স্পষ্ট হয় রাত ১০টা ৫১ মিনিটে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের করা একটি এক্স পোস্ট থেকে।
সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ এর প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়া এবং তার জেরে অন্তত ২০ জন পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার দায় নিয়ে প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা।
সূত্র: বিবিসি বাংলা।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


