যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল সামরিক আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রায় ৭০ লাখ বেসামরিক নাগরিক প্রস্তুত রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষায় তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় তাকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কালিবাফ দাবি করেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে যেকোনো মার্কিন স্থল আক্রমণের জবাবে লড়াই করতে বিপুলসংখ্যক ইরানি প্রস্তুত রয়েছে। তার ভাষায়, দেশজুড়ে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী জাতীয় আন্দোলনের মাধ্যমে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ ইতোমধ্যে প্রতিরক্ষায় অংশ নিতে প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে।
প্রায় ৯ কোটি জনসংখ্যার এই দেশে বিষয়টি নিয়ে কয়েক দিন ধরেই আলোচনা চলছিল। তবে উচ্চপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা হিসেবে কালিবাফই প্রথম এই সংখ্যা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেন। যদিও এই পরিসংখ্যানের নির্দিষ্ট উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সংঘাত সামনে রেখে ইরানে স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত সেনাদেরও যুদ্ধে অংশগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।
এদিকে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) স্বেচ্ছাসেবী শাখা ‘বাসিজ’ বাহিনীতে অল্প বয়সিদের অন্তর্ভুক্তির খবরও সামনে এসেছে, যা দেশটির সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভাষণে ইরানের ওপর সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রয়োজন হলে কঠোর আঘাত হানা হবে।
তবে ইরানের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটির প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা রাখে না। তার ভাষায়, ইরানের সামরিক উৎপাদন ও সক্ষমতা সম্পর্কে বাইরের বিশ্ব সম্পূর্ণ অবগত নয়।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে এবং এর মূল্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দিতে হবে।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


আগামীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ হবে পানি: এরদোয়ান