মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে নতুন করে বিশ্লেষণ সামনে এনেছেন আরব-ব্রিটিশ আন্ডারস্ট্যান্ডিং কাউন্সিলের (সিএএনিইউ) পরিচালক ক্রিস ডয়েল। আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই যুদ্ধে প্রথমবারের মতো ইরানের মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনাটি ইরানের মর্যাদার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। খবর আলজাজিরার।
ডয়েলের ভাষায়, এর মাধ্যমে ইরান দেখাতে চেয়েছে যে তারা বিশ্বের প্রধান পরাশক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিকভাবে প্রভাবশালী শক্তির বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। যেখানে তারা সমানে সমানে কিংবা ও অপ্রতিসম উভয়ভাবেই তাদের একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, যদি আমরা পাঁচ-ছয় সপ্তাহ আগে ফিরে যাই, তবে এটা একদিনেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল; যুদ্ধ শেষ হয়ে গিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্রদের সহযোগিতা প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ডয়েল বলেন, এখন মনে হচ্ছে হোয়াইট হাউসের ভেতরে বিশৃঙ্খলা চলছে। পেন্টাগনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ জেনারেলদের বরখাস্ত করছেন—যা থেকে বোঝা যাচ্ছে মার্কিন নেতৃত্ব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেই।”
তিনি আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সাধারণত ‘মিশন ক্রিপ’ বা লক্ষ্য সম্প্রসারণের আশঙ্কা থাকে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন।
‘এখানে আমরা ‘মিশন সংকোচন’ দেখছি, বলেন ডয়েল। ‘শুরুর দিকে ইরানে শাসন পরিবর্তনকে অপরিহার্য বলা হচ্ছিল, এমনকি নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। কিন্তু এখন ট্রাম্পসহ মার্কিন নেতারা বলছেন—তারা আর রেজিম চেঞ্জ চায় না।’
তার মতে, এটি একটি দিকনির্দেশনাহীন সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দেয়। বিপরীতে, ইরান অনেক বেশি সুসংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিতভাবে তাদের কৌশল পরিচালনা করছে।
ডয়েল বলেন, ‘ইরান চাইলে সংঘাতের মাত্রা বাড়াতে পারে। যেমন সাম্প্রতিক হুথি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে তারা সংঘাত বিস্তারের সক্ষমতা দেখিয়েছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি দ্রুত পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে, তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে ব্যয়বহুল এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা এই দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

