মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার আগুনে ‘ঘি ঢালছে সৌদি-হুতি পাল্টাপাল্টি হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার আগুনে ‘ঘি ঢালছে সৌদি-হুতি পাল্টাপাল্টি হামলা
ছবি: এএফপি

ইয়েমেনের সংঘাত কমানোর নানা কূটনৈতিক চেষ্টার মধ্যেই সৌদি আরব ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে আবারও তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। উভয় পক্ষই একের পর এক সামরিক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।

ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ হুতি গোষ্ঠী এক সংকেতবাহী বার্তার মাধ্যমে সৌদি আরবের ইয়ানবু ও জিজান শহর লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হুতিদের দাবি, তারা এই দুই শহরের একাধিক তেল স্থাপনায় ১২টির বেশি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইয়েমেনে তৈরি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

সামরিক অভিযানটিকে পুরোপুরি সফল দাবি করে গোষ্ঠীটি জানায়, তাদের নির্ধারিত সব লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে।

তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, হুতিদের দিকে থেকে আসা সব কটি হামলা আকাশেই সফলভাবে ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরব ইয়েমেনের হোদাইদাহ প্রদেশ এবং লোহিতসাগরের কৌশলগত কৌশলপূর্ণ কামারান দ্বীপে হামলা চালানোর এক দিনের মাথায় হুতিদের এই পাল্টা জবাব এল।

সৌদি দাবি করছে, তারা কামারান দ্বীপে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায়। বাবেল মানদেবে চলাচলকারী জাহাজে একের পর এক হামলার প্রেক্ষাপটে দ্বীপটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

উত্তেজনা বৃদ্ধির এই সময়ে ইয়েমেনে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত এবং ওমানের কর্মকর্তারা উভয় পক্ষকে অবিলম্বে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা শান্তি বৈঠকের লক্ষ্যে জাতিসংঘ, সৌদি আরব এমনকি আনসারুল্লাহ হুতিদের বেশ কয়েকজন শীর্ষ প্রতিনিধি বর্তমানে ওমানে অবস্থান করছেন।

তবে কূটনীতিকেরা বলছেন, বৈঠক শুরু হওয়ার আগে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি আক্রমণ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ হোদাইদাহ বন্দরের ওপর থেকে অবরুদ্ধ অবস্থা বা অবরোধ না তোলা পর্যন্ত হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে হুতি বিদ্রোহীরা।

হুতিদের বার্তা স্পষ্ট—সৌদি আরব যদি ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ না তোলে, তাহলে তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও নৌ অবরোধ জারি রাখবে। সে ক্ষেত্রে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর তেল স্থাপনাগুলোই তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু হবে।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন