ইয়েমেনের দুই প্রদেশে হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী ও সৌদি বিমানবাহিনীর সংঘাতে ২৪ ঘণ্টায় ৬৩ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এসব প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের মধ্যে ২৩ জন ইয়েমেনি সেনা এবং ৪০ জন হুথি যোদ্ধা।
সেনাবাহিনী ও হুথি গোষ্ঠীর সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দুই প্রদেশে হুথিদের নিক্ষেপ করা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ২৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে হুথি বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, সৌদি বিমান হামলা এবং ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে ৪০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
গত আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। এর মধ্যে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সৌদি আরবের জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি করেছে হুথিরা।
এরপর গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে লোহিত সাগর ও এডেন সাগরকে সংযুক্তকারী বাব এল মান্দেব প্রণালি দখল করার দাবি করে হুথি যোদ্ধারা। সৌদি আরবের জন্য এটি বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরব এত দিন বাব এল মান্দেব প্রণালি দিয়ে নিজেদের অধিকাংশ জ্বালানি তেল রপ্তানি করে আসছিল।
গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনে বিমান অভিযান চালাচ্ছে সৌদি আরব। হুথিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত সৌদি বিমানবাহিনী ১৩০টির বেশি বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে।
এর মধ্যেই গত ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার সৌদি বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে হুথি বাহিনী। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে একটি গোষ্ঠী।
ভিডিওতে দেখা যায়, ভূপাতিত একটি সৌদি যুদ্ধবিমানের চারপাশে হুথি যোদ্ধারা জড়ো হয়েছেন। এ সময় তাদের সবাইকে উচ্চকণ্ঠে একযোগে ‘আল্লাহু আকবার’ বলতে শোনা যায়।
হুথিদের দমন করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতা চেয়েছিলেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলায় এই মুহূর্তে সৌদি আরবকে সামরিক সহযোগিতা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

