ইরান যুদ্ধে অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় চাপ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান যুদ্ধে অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় চাপ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের
প্রতীকী ছবি

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ পাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসায় ভবিষ্যতে অন্য কোনো সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি কতটা থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা ও মজুত কমায় ওয়াশিংটনের অস্ত্রভান্ডারের ওপরও চাপ তত বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

ইরানে কয়েক মাস ধরে চলা মার্কিন সামরিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে অস্ত্র উৎপাদন ও মজুত পূরণের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে অস্ত্রের সুনির্দিষ্ট মজুতের তথ্য দিতে রাজি নন।

তাদের বক্তব্য, এসব তথ্য প্রকাশ করা সামরিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তবে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর আগে গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস জানিয়েছিল, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা একই সঙ্গে বলেছেন, বর্তমানে প্রয়োজনীয় অস্ত্রের সরবরাহ রয়েছে। তবে ভবিষ্যৎ সংঘাতের জন্য মজুত কতটা নিরাপদ অবস্থায় আছে, তা স্পষ্ট নয়।

ইরানের সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র, ড্রোন ঘাঁটি এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে বিভিন্ন ধরনের নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে। যুদ্ধের শুরুতে দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করে দূর থেকে হামলা চালানো হলেও পরে ইরানের ভেতরে আরো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।

ইরান পাল্টা হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করায় সেগুলো ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিপুলসংখ্যক প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এসব অস্ত্র দ্রুত পুনরায় মজুত করা কঠিন হতে পারে। ইরানের হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোও চাপের মধ্যে রয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর ইরান বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনী বেশির ভাগ হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে। তবে কিছু স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবরও এসেছে।

অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হতে দেওয়া অথবা ‘খুব কঠোরভাবে আঘাত’করার মতো বিকল্প যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে।

এদিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণের হার যুদ্ধের শুরুর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও সামরিক অবকাঠামোর ওপরও ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। একটি বড় শক্তির জন্য একসঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধ চালানো এবং একই সময়ে বিশ্বের অন্য অঞ্চলে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্র মজুত রাখা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও রয়টার্স

এআরই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন