মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসরকে নিতে আপত্তি ছিল সৌদির

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসরকে নিতে আপত্তি ছিল সৌদির
রজব তাইয়েব এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। ছবি: রয়টার্স

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসরকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে শুরু থেকেই সৌদি আরবের আপত্তি ছিল। আঙ্কারা মিসরকে এই জোটে যুক্ত করার জন্য উল্লেখযোগ্য চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি।

তুরস্ক মিসরকে নতুন প্রতিরক্ষা জোটে অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী ছিল। তবে সৌদি আরব মিসরের সদস্যপদ নিয়ে অনাগ্রহ দেখায়। বিষয়টি এমন এক সময় সামনে এসেছে, যখন মিসর, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত ‘আর-৪’কাঠামোর মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা চলছে।

বিজ্ঞাপন

মিসরের পক্ষ থেকেও জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে দ্বিধা ছিল। আঙ্কারার একটি সূত্রের দাবি, ইসরাইলের সঙ্গে কায়রোর সংবেদনশীল সম্পর্ক এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মিসর এই জোটে যোগ দিলে ইসরাইলের চাপের মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও ছিল।

অন্যদিকে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর উদ্বেগও এ ধরনের সহযোগিতার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

তবে তিন দেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। এর উদ্দেশ্য পারস্পরিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা। মিসর এই জোটে যোগ না দিলেও দেশটি সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ অন্যান্য মুসলিম দেশের সঙ্গে বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। আল-আকসা মসজিদ ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে সম্প্রতি এই দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথ বিবৃতিও দিয়েছেন।

মক্কা চুক্তিতে মিসরের অনুপস্থিতি এখন নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, ভবিষ্যতে এই প্রতিরক্ষা জোট আরো সম্প্রসারিত হবে কি না। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান এর আগে জোটে নতুন দেশ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথা বললেও মিসরের সদস্যপদ নিয়ে সৌদি আরবের আপত্তির খবর আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নেতারা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মূল নীতির মধ্যে রয়েছে, সদস্য তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এ চুক্তিকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

সূত্র: রয়টার্স, মিডল ইস্ট আই ও এপি নিউজ

এআরই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন