আগুনে ঘি ঢালল সৌদি, বেড়েছে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

আগুনে ঘি ঢালল সৌদি, বেড়েছে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলার পর ইরাকের নিনেভে প্রদেশের বারতাল্লায় পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) একটি ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। ছবি: এপি

ইরাকে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) একাধিক ঘাঁটিতে বুধবার ভোরে একযোগে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। এতে অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

একই দিন প্রায় একই সময়ে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলার পর ইরানকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে বলে চরম হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিজ্ঞাপন

টানা ১৩ দিন পর গত শুক্রবার ইরানে বোমা হামলা স্থগিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানও পাল্টা হামলা বন্ধের ঘোষণা দেয়। তবে শান্ত হওয়ার ওই বার্তার পরপরই হঠাৎ নতুন করে এসব হামলার খবর এল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর এবারই প্রথম প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার কথা জানাল সৌদি আরব। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পিএমএফের ঘাঁটিতে হামলা

বুধবার ভোরে ইরাকের বিভিন্ন স্থানে পিএমএফের একাধিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় ওয়াশিংটন ও রিয়াদ। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সম্প্রতি ইরাকের ভূখণ্ড থেকে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় চালানো ড্রোন হামলার জবাবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

পিএমএফ জানিয়েছে, বাগদাদ, নিনেভে, বসরা, কিরকুক, কারবালা, দিয়ালা ও ওয়াসিতসহ কয়েকটি প্রদেশের ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে। এতে অন্তত ২০ সদস্য নিহত ও ৩২ জন আহত হন। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল–জাইদি পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিপরিষদের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি এই হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ইরাকের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ইরাকের ভূখণ্ড কোনো দেশের বিরুদ্ধে বা আঞ্চলিক শক্তির দ্বন্দ্ব মেটানোর ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররাই পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করছে।

জর্ডানে ইরানের আকস্মিক হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরাকে যৌথ হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।

তবে সেন্টকম ও জর্ডান সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঁচটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রই ভূপাতিত করতে পেরেছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে তিনটি ট্যাংকারেও হামলা চালিয়েছে। তবে দুটি হামলার মধ্যে কোনটি আগে হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, জর্ডানে মোতায়েন থাকা চার হাজার মার্কিন সেনা এখন ইরানের প্রধান নিশানায় পরিণত হয়েছে। সেনাসদস্যদের সংবেদনশীল ছবি বা ভিডিও অনলাইনে ছড়ানো রোধে তাদের মোবাইলফোন ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের কথা ভাবছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

ট্রাম্পের কড়া হুমকি

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘এর জন্য ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হবে।’

তিনি জানান, আকস্মিক জবাব দিতে মার্কিন বাহিনী মাত্র কয়েক মিনিট সময় পেলেও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা হয়।

ট্রাম্পের দাবি, ইরাকে শিয়া মিলিশিয়াদের ওপর আক্রমণটি ইরাকি সরকারের সমন্বয়ে চালানো হয়েছে। তিনি এসব গোষ্ঠীকে ‘বিশ্বের জন্য ক্যানসার’ বলে মন্তব্য করেন এবং আরো কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন।

ব্যাপক সংঘাতের আশঙ্কা

উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে পরিচালনার ওমানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

এদিকে সংঘাত এখন লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালি ছাড়িয়ে আরো বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পাকিস্তান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও উপসাগরীয় দেশগুলো উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।

জাতিসংঘে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমদ উদ্বেগ প্রকাশ করে দুই পক্ষকে গত মাসে সই হওয়া সমঝোতা মেনে চলার আহ্বান জানান। ওই সমঝোতায় ৬০ দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করার কথা থাকলেও, সাম্প্রতিক হামলায় তা ভেঙে পড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন