ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পেছনে একটি ‘অত্যন্ত দুর্বল সমঝোতা স্মারক’ (এমওইউ) দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন অস্ট্রিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে ও নিরাপত্তা নীতি বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুসটাই।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুসটাই বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে বুধবার বা বৃহস্পতিবার কোনো সমঝোতা হতে পারে, তবে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলো বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল সমঝোতা স্মারকের কিছু বিষয় পরিষ্কার করার জন্য কাজ করছে, যা বাস্তবে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হয়েছে।
পুসটাই বলেন, ইরান ও ওমানের মধ্যে হওয়া চুক্তিতে যদি স্বীকার করা হয় যে কোনো ধরনের টোল আদায়ের বাধ্যবাধকতা নেই, বরং শুধু সামুদ্রিক সেবার জন্য কিছু ফি নেওয়ার ব্যবস্থা থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এটি মেনে নিতে পারে।
তবে ইরান যদি “উচ্চ হারে টোল বা বড় অঙ্কের ফি আরোপ করে, যা সমুদ্র আইনবিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশনের স্পষ্ট বিরোধী”, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করবে বলে তিনি মনে করেন।
তার মতে, বিষয়টি শুধু হরমুজ প্রণালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কারণ এ ধরনের ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও ভবিষ্যতে দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।
পুসটাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের বিভিন্নতার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, এটি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের “তথ্যযুদ্ধের” অংশ। তার মতে, ট্রাম্প তিনটি ভিন্ন শ্রোতার জন্য তিন ধরনের বার্তা দিচ্ছেন—নিজের রিপাবলিকান সমর্থক, ইরানের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক মহলকে লক্ষ্য করে।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, তবে এটি বৃহত্তর সংঘাতের সমাধান করবে না।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


