যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের সঙ্গে এক ফোনালাপে ব্রিটিশ সরকারের সাম্প্রতিক নানা পদক্ষেপে তীব্র অসন্তোষ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) ‘রাষ্ট্রীয় হুমকি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার ব্রিটিশ সিদ্ধান্ত এবং ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় যুক্তরাজ্যের জড়িত থাকার কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি।
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে আরাগচি জানান, অঞ্চলে চলমান চরম অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন।
তিনি উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটন অতীতে স্বাক্ষরিত একাধিক আন্তর্জাতিক সমঝোতা ও চুক্তি লঙ্ঘন করার আগপর্যন্ত ইরান সবসময়ই সর্বোচ্চ সদিচ্ছা নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্ত ছিল।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন আরাগচি। তিনি জানান, ওমানের সহযোগিতায় হরমুজ প্রণালিতে জলযান ও জাহাজ চলাচল সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তৈরি করতে তেহরান সংকল্পবদ্ধ। এই যৌথ প্রক্রিয়ায় কোনো তৃতীয় পক্ষকে বাধা সৃষ্টি না করার জন্য সতর্ক করে দেন তিনি।
আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার উদ্দেশ্যে কোনো দেশের ভূখণ্ড বা সম্পদ ব্যবহার করতে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে সরাসরি আগ্রাসনের সামিল। আর এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের অবস্থান পরিষ্কার করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানান, তার দেশ ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে কোনোভাবেই অংশ নয়। মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা হ্রাস করতে এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে লন্ডন কূটনৈতিক সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার নীতিতেই বিশ্বাসী।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

