অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম এবং সেখানে অবস্থিত ইসলামি ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় পবিত্র স্থানগুলোতে ইসরাইলের কর্মকাণ্ড নথিবদ্ধ ও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আরব ও মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
বুধবার জর্ডানে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে গৃহীত যৌথ ঘোষণায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ইসরাইলের কর্মকাণ্ড এবং উপাসনাকারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঘটনাগুলো প্রচারের জন্য একটি গণমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বৈশ্বিক জনমতের কাছে বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
বৈঠকে জেরুজালেমবিষয়ক আরব মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটির সদস্যরা, আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল গেইত এবং তুরস্ক, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা জেরুজালেম ও সেখানকার পবিত্র স্থানগুলোতে ইসরাইলের পদক্ষেপ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।
যৌথ ঘোষণায় জেরুজালেমের আরব, ইসলামি ও খ্রিষ্টান পরিচয় এবং শহরটির আইনগত ও জনসংখ্যাগত চরিত্র পরিবর্তনের লক্ষ্যে ইসরাইলের নীতির নিন্দা জানানো হয়। এসব পদক্ষেপকে অবৈধ বলেও উল্লেখ করা হয়।
ঘোষণায় বলা হয়, জেরুজালেম এখন ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে। শহরটির ইসলামি ও খ্রিষ্টান পবিত্র স্থানগুলো আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি হুমকির মধ্যে রয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়, ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেমে অবৈধ দখল আরো শক্তিশালী করছে। পাশাপাশি নতুন বসতি নির্মাণ, ভূমি দখল, সম্পত্তি জব্দ, ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং জেরুজালেমকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ধর্মীয় পবিত্র স্থানগুলোতে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডেরও নিন্দা জানান।
তারা অভিযোগ করেন, এসব স্থানের ঐতিহাসিক ও আইনগত অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে এবং সময় ও স্থানভিত্তিক বিভাজন চাপিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
যৌথ ঘোষণায় আরো বলা হয়, আল-আকসা মসজিদ লক্ষ্য করে ইসরাইলের ধারাবাহিক ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ চলছে। এর মাধ্যমে মসজিদটির ইসলামি পরিচয় এবং ঐতিহাসিক ও আইনগত অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘোষণায় জোর দিয়ে বলা হয়, পুরো আল-আকসা প্রাঙ্গণই মুসলমানদের একান্ত ইবাদতের স্থান।
নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও কর্মকর্তাদের ক্রমবর্ধমান প্রবেশ, মুসল্লিদের ওপর বিধিনিষেধ, জেরুজালেম ওয়াক্ফ ও আল-আকসা মসজিদবিষয়ক বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ এবং পবিত্র স্থানটির নিচে ও আশপাশে চলমান খননকাজের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা হবে।
একই সঙ্গে জেরুজালেমের খ্রিষ্টান পবিত্র স্থানগুলোর বিরুদ্ধেও ইসরাইলের পদক্ষেপের নিন্দা জানানো হয়। এর মধ্যে চার্চ অব দ্য হলি সেপালকারে প্রবেশে বাধা, গির্জার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ, গির্জার প্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তির ওপর বিধিনিষেধ এবং ধর্মযাজক, উপাসনাকারী ও ধর্মীয় প্রতীকের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে।
ঘোষণায় বলা হয়, উগ্রপন্থিদের সহিংসতার শিকার হচ্ছেন খ্রিষ্টান ধর্মযাজকেরা। একই সঙ্গে ইসরাইলের প্রণীত আইনের মাধ্যমে গির্জার অর্থ ও জমি দখলের চেষ্টাও চলছে।
এ ছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের সময় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও আরব লীগের যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সেখানে জেরুজালেম এবং এর পবিত্র স্থানগুলোর সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

