* ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
* এক পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু
* তিনজনই ভার্সিটি শিক্ষার্থী
* নালায় লাফ দিয়ে বাঁচলেন দম্পতি
দুর্গাপূজার লম্বা ছুটিতে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন তারা। একটু নিরিবিলি পরিবেশে থাকতেই বেছে নিয়েছিলেন শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্ট। সেখানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ আর অগ্নিকাণ্ডে ঘুমের মধ্যেই জীবনপ্রদীপ নিভে গেছে ১০ পর্যটকের। অনুমোদন ছাড়াই চলছিল নিম্নমানের রিসোর্টটি।
আনন্দময় ভোরের আশায় গত শুক্রবার রাতে রিসোর্টটিতে ঘুমাতে গিয়েছিলেন ১৮ পর্যটক। এদের মধ্যে কয়েকজন ভোর হওয়ার পর রিসোর্টের সামনের পাথুরে বিচে ঘুরতে বের হয়েছিলেন। অন্যরা ছিলেন গভীর ঘুমে। রিসোর্টের সামনের দিকে রেস্টুরেন্ট। ওই রেস্টুরেন্টের মাঝ দিয়েই টুপটুপ রিসোর্টে যেতে হয় পর্যটকদের। বেরও হতে হয় ওই পথ দিয়েই। রেস্টুরেন্টটিতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে রিসোর্ট থেকে বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। রিসোর্টে থাকা পর্যটকরা আগুনের লেলিহান শিখা পেরিয়ে মুক্ত বাতাসে আর বের হতে পারেননি।
গতকাল শনিবার সকাল সাতটার দিকে ওই রিসোর্টে ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় উদ্ধারকারী দল দুপুর পর্যন্ত ছয়জন পর্যটকের মৃত্যুর কথা বললেও দুপুরের পর আরো চারটি পুড়ে যাওয়া লাশ খুঁজে পায় বাথরুমে। সব মিলিয়ে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এক শিশুসহ ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের তিনজন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন। আহতদের জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি পাঁচজনের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, জেলা প্রশাসন, উখিয়া উপজেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোর্শেদ হোসেন ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তাদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি।
তবে বিভিন্নভাবে নিহতদের ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন রাজধানী ঢাকার বনশ্রী এলাকার ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়জান আহমেদ (৫)।
এ ঘটনায় আহত ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সাবুকতাগিন মাহমুদ সোহেল। আহতরা হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শাহাব উদ্দিন (৩১), তার স্ত্রী ডা. নাফিজা নাওয়ার খান (২৯), ঢাকার মিরপুরের আবদুল মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সংবাদকর্মী শামিমুল ইসলাম ফয়সাল জানান, ভোরে হঠাৎ রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। এছাড়াও বিজিবি, এসআরবি ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার কাজে অংশ নেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, রেস্টুরেন্টের রান্নাঘর ছিল তিনতলার সমান উচ্চতাবিশিষ্ট স্থাপনার নিচতলায়। ওখানে বড় সাইজের এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার মজুত ছিল। রেস্টুরেন্টের রান্নাঘর থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে পরে তা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে রূপ নেয়। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হওয়ার পরই পুরো রিসোর্টে আগুন লেগে যায়।
যদিও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক আগুনের সূত্রপাত নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এ ঘটনায় রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকের আগে সুমন বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। আগুন লাগার পরপরই তা নেভানোর চেষ্টা করা হয়। তবে এর মধ্যে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন দ্রুত পুরো রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়ে।
তিন বান্ধবীর একজন নেই
ঢাকার সাভার থেকে আসা আইরিন জাহান মিম জানান, তিনি ও তার দুই বান্ধবী পূজার ছুটিতে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছিলেন। তারা শুক্রবার টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। তিনি বলেন, আমরা দুই বান্ধবী শনিবার ভোর হওয়ার পর বিচে বেড়াতে যাই। যাওয়ার সময় আরেক বান্ধবী নাসরিন আক্তার হোটেল কক্ষেই ছিল।
আইরিন বলেন, কিছুক্ষণ পর বিচ থেকে দেখতে পেলাম হঠাৎ হোটেলটিতে আগুন ধরে গেছে। বিকট বিস্ফোরণের শব্দের পর হোটেলটিতে আগুন লেগে যায়। সেই থেকে হোটেলে থাকা আমার বান্ধবীর কোনো খোঁজ পাচ্ছি না।
নিখোঁজ নাসরিন সাভারের একটি কিন্ডারগার্টেন (কেজি) স্কুলের শিক্ষিকা। তার বাবার নাম মো. মোস্তফা কামাল এবং মায়ের নাম নাছিমা আক্তার।
মৃত্যুর মিছিলে এক পরিবারের ছয়জন
অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) লায়লা জাহান নাবিলা ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মেলিতা মেহেজাবিন আলভিসহ একই পরিবারের ছয়জন নিহত হয়েছেন। পরিবারের ৯ জন সদস্য কক্সবাজার বেড়াতে এসে ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন। অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে এই পরিবারের আরো রয়েছেন মালিহা, মিলা, সাবরিন ও শিশু ফায়জান আহমেদ।
সূত্র বলছে, নাফিজ, নাবিলা, মালিহা ও আলভী পরস্পরের কাজিন। বাকিদের মধ্যে ফারিহা কবির নাফিজের বড় বোন এবং ফায়জান ভাগনে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, ‘কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি, রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামীসহ তার পরিবারের ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।’
তিনি লেখেন, এই ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। আমরা পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত। আমি গুরুতর আহতদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে প্রশাসন কর্তৃক সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
জবি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কক্সবাজারের রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাদের রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা শনিবার মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুতে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, ঢাবি শিক্ষার্থী নাফিজের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম। শোকবার্তায় তিনি বলেন, এ ধরনের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শোকাহত। তিনি নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
স্বামী বের হলেও পারলেন না স্ত্রী
স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে পাটুয়ারটেকে বেড়াতে এসেছিলেন আশিকুল ইসলাম। শনিবারই তাদের ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। একজন আত্মীয় আগের রাতেই ফিরে গেছেন। থেকে গিয়েছিলেন পরিবারের ৯ সদস্য। রাত পেরিয়ে সকাল হতেই আগুনের লেলিহান শিখায় হারিয়ে গেলেন পরিবারের ছয় সদস্য।
সকালে আগুন দেখে স্ত্রীই আশিককে ঘুম থেকে ডেকে দিয়েছিলেন। তাকে জাগিয়ে তুলে পাশের রুমের অন্যদের ডাকতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে আর ফিরতে পারেননি তিনি। আশিক রুমের জানালা ভেঙে লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসেন।
সদর হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়া আশিকুল ইসলাম এসব কথা বলে আহাজারি করছিলেন। তিনি বলেন, ‘আর ১০টা মিনিট সময় পেলে আমার স্ত্রীও নামতে পারত।’
আশিক বলেন, ঢাকা থেকে পরিবারের ১০ সদস্যকে নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছিলাম। বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজারে পৌঁছে পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ওই রিসোর্টে উঠেছিলাম।
আশিকের এক শ্যালিকার স্বামী ইফতি আগের দিন রাতে চুয়াডাঙ্গায় চলে যান।
আশিকুল ও তার পরিবারের আরো দুজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা হলেন আশিকুলের মামা-শ্বশুর মাসুদ ও মাসুদের স্ত্রী মিলা। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
আশিকের তথ্যমতে, নিহত ছয়জন হলেন তার স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা, শ্যালিকা লায়লা জাহান নাবিলা, মিলিতা মেহজাবিন আলভি, ফারিহা কবির এবং তাদের স্বজন শিশু ফায়জান আহমদ (৫) ও ঢাবি শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামি।
নালায় লাফ দিয়ে বেঁচেছেন দম্পতি
মিরপুর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে টুপটুপ রিসোর্টে এসেছিলেন আবদুল মান্নান। তিনি সদর হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার পরিবার নিয়ে টুপটুপ রিসোর্টে উঠেছি। আমাদের আরো দুদিন থাকার কথা ছিল।
তিনি বলেন, শনিবার সকালে হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখি সব অন্ধকার। রুমের দরজা খুলে বাইরে এসে দেখি সব কালো হয়ে আছে। বারান্দায় আসার পর বুঝলাম আগুন লেগেছে। পাশেই একটি নালার মতো ছিল। আমি ও আমার পরিবার লাফ দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছি।
চারজনের লাশ মিলল বাথরুমে
আগুন নেভানোর পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রিসোর্টটিতে তল্লাশি শুরু করে। ইটের দেয়াল, টিনের ছাউনি ও কাঠের পাটাতন দিয়ে তৈরি রিসোর্টটি দ্রুত পুড়ে যাওয়ার পর রুমে আটকে পড়া পর্যটকরা আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে যায়। ওইসব লাশ দোতলা ও তিনতলা থেকে নিচে পড়ে যায়। উদ্ধার কর্মীরা তল্লাশি করে ছয়জনের লাশ শনাক্ত করেন। দুপুর পর্যন্ত ওই ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস। কিন্তু দুপুরের পর বাথরুমের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় আরো চারটি পুড়ে যাওয়া লাশ। সর্বশেষ বিকাল তিনটার দিকে ঘোষণা দেওয়া হয়—টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আহত হয়েছেন ছয়জন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রমতে, টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্ট নামে এই আবাসিক হোটেলটিতে ৯টি কক্ষ ছিল। কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে রিসোর্টটির অবস্থান। অগ্নিকাণ্ডে পুরো স্থাপনাটি পুড়ে গেছে।
রিসোর্টটি অননুমোদিত
রিসোর্টটি অনুমোদন ছাড়াই চলছিল। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর দাবি করছে—রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্রও ছিল না। গতকাল দুপুরে ঢাকায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন।
তিনি জানান, গত জুনেই পরিদর্শনের পর তাদের পক্ষ থেকে রিসোর্টটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে সতর্ক করে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এরপরও রিসোর্টটি অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। ‘শারদীয় দুর্গাপূজায় অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক’ ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতির বিষয় জানাতে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছিল। তখন টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিসের ডিজি এই তথ্য জানান।
ঘটনাস্থলে ইউএনও
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার ঘটনাস্থলে জানান, রিসোর্টটিতে ১৮ পর্যটক ছিলেন। আর তিনজন ছিলেন হোটেল কর্মকর্তা। এদের মধ্যে ছয়জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিসোর্টের ভেতর থেকে ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যরা কোথায় আছেন নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তদন্ত কমিটি
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুনের সূত্রপাত, প্রাণহানির কারণ এবং রিসোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে। তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও সম্ভাব্য দায়ও নির্ধারণ করা হবে।
ডিএনএ টেস্টের পর লাশ হস্তান্তর
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে লাশ উদ্ধার হলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। ডিএনএ টেস্ট করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিয়ে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনেকে বলছেন, রান্নার চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তদন্ত ছাড়া আমরা আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারব না। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’