হোম > আমার দেশ স্পেশাল

‘ভারতবিরোধী’ রহমত উল্লাহকে দিল্লির কাছে সমর্পণ করে র‌্যাব

আবু হাসান, ধামরাই (ঢাকা)

ঢাকার ধামরাইয়ে গত বছরের ২৯ আগস্ট নিজবাড়ি থেকে র‌্যাব পরিচয়ে রহমত উল্লাহ নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে যায়। শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রহমত উল্লাহকে তুলে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে। ভুক্তভোগী রহমত উল্লাহকে র‌্যাব সদর দপ্তরে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তার ভয়াবহ বর্ণনা দিলেন গত বুধবার। ১৬ মাস গুম ছিল রহমত উল্লাহ। এর মধ্যে র‌্যাব সদর দপ্তরে ৯ মাস রাখা হয়েছে। এরপর তাকে স্থানান্তর করা হয় ভারতে। ভারতের দুটি জেলখানায় সাত মাস জেল খেটেছেন রহমত উল্লাহ। তারা তাদের গায়ে যত শক্তি আছে তা দিয়ে পেটাতো। কান্নার শব্দ যাতে বাইরে না যায় এজন্য যান্ত্রিক পাখা চালিয়ে দিতো। যান্ত্রিক পাখার শব্দে হারিয়ে যেত তার কান্নার আওয়াজ।

রহমত উল্লাহ নির্যাতনের বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট মধ্যরাতে র‌্যাবের গাড়িতে তোলার পরই তাকে হাতকড়া ও মাথা থেকে শুরু করে গলা পর্যন্ত টুপি পরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় র‌্যাব সদর দপ্তরের তৃতীয় তলার গোপন অন্ধকার কক্ষে। কক্ষটি চার ফুট লম্বা ও তিন ফুট পাশে। এর ভেতরেই রয়েছে টয়লেট। সেখানে জামা-কাপড় পরিবর্তন করে র‌্যাবের দেওয়া লুঙ্গি-গেঞ্জি পরানো হয়। এরপর টুপি খুলে জিনসের কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে ফেলা হয়। এভাবে তিনদিন রাখার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তাকে বলে ‘তুই তো দেশবিরোধী, সরকারবিরোধী ও ভারতবিরোধী ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাড়িস’। এ কথা বলেই তাকে কিলঘুসি, লাথি মারতে থাকে। চারদিনের দিন তাকে খেতে দেওয়া হয়। কখনো ঘুমাতে দিত না। যখনই ঘুম আসত তখনই তারা মাথায় চাপ দিত। কিন্তু কি দিয়ে চাপ দিত তা বোঝা যেত না। ঘুমাতে না দেওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ত রহমত উল্লাহ। তাকে ওষুধ দেওয়া হতো, কিন্তু তা কাজে লাগত না।

রহমত উল্লাহ জানান, তাকে র‌্যাব হেডকোয়ার্টার্সে ছয় মাস রেখেছিল। এরপর সেখান থেকে ১৫ মিনিটের দূরত্বে আরেকটি জায়গায় নিয়ে তাকে রাখা হয় তিন মাস। এই ৯ মাসই তার চোখ বেঁধে ও হাতে হাতকড়া পরিয়ে রেখেছে। এমনকি অজু ও নামাজের সময়ও হ্যান্ডকাফ খুলে দিত না। ঘুমানোর সময়ও হ্যান্ডকাফ খুলে দিত না। শুধু খাওয়ার সময় ডান হাতের হ্যান্ডকাফ খুলে দিত। তারা তাদের গায়ে যত শক্তি আছে, তা দিয়ে পেটাত। কান্নার শব্দ যাতে বাইরে না যায়, এজন্য যান্ত্রিক পাখা চালিয়ে দিত। এভাবে আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলত।

ইসলামি ও ভারতবিরোধী ভিডিও ছাড়ার অপরাধের কথা তুলে প্রায়ই রাতে মারপিট করত। এছাড়া মাঝেমধ্যে শুনতে পেতাম কে যেন বলছে, ‘রহমত উল্লাহ তুই সন্ত্রাসী; তোকে আজকে মেরে ফেলা হবে’। এভাবেই রহমত উল্লাহর ৯ মাস কেটেছে র‌্যাবের হেফাজতে।

একদিন র‌্যাব তাকে হ্যান্ডকাফ ও মাথা থেকে গলা পর্যন্ত টুপি পরিয়ে একটি হায়েস গাড়িতে যশোর নিয়ে যায়। সেখান থেকে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকে চড়িয়ে বনগাঁও বর্ডার পার করিয়ে দেয়। এ সময় তারা ভারতীয় ১ হাজার টাকাও দেয় তাকে। বনগাঁও এলাকায় চারদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘোরার পর ওই দেশের পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর বিনা পাসপোর্টে ওই দেশে যাওয়ার অপরাধে আদালতের মাধ্যমে তাকে প্রথমে বনগাঁও জেলহাজতে প্রেরণ করে। তাকে বনগাঁও জেলখানায় তিন মাস, এরপর দমদম জেলখানায় রাখা হয় চার মাস। দুটি জেলাখানায় অধিকাংশ দিনই পানি খেয়ে থাকতে হতো। জেলে থাকার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জেল পুলিশ তাকে ভারতে বিএসএফের হাতে তুলে দেয়। এরপর তারা ২০ ডিসেম্বর বর্ডার পার করে দেয়।

গত ২১ ডিসেম্বরে পরিবারের কাছে খবর আসে, জীবিত অবস্থায় পুলিশের কাছে রয়েছে রহমত উল্লাহ। তাকে তার বড় ভাই ওবায়দুল্লাহ ও ভগ্নীপতি মশিউর রহমান চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থেকে বুঝে নিয়ে গত ২১ ডিসেম্বর নিজ বাড়িতে ফেরেন রহমত উল্লাহ।

রহমত উল্লাহ ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের বড় নালাই গ্রামের মৃত আবদুর রবের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে রহমত উল্লাহ সবার ছোট। বড় ভাই সৌদি প্রবাসী। বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। মা মমতাজ বেগম ও ভাবী সাথী আক্তারের সঙ্গে বাড়িতেই থাকতেন তিনি। র‌্যাব তুলে নেওয়ার আগে তিন মাস ধরে ইলেকট্রিকের কাজ শিখছিলেন।

২৬ মার্চ ঘিরে প্রত্যাবর্তনের ছক নিষিদ্ধ আ.লীগের

চট্টগ্রামে দেড় বছরে ১৮৬ পোশাক কারখানা বন্ধ

প্রথম অধিবেশনই উত্তপ্ত হচ্ছে

১৮ মাস পার হলেও অগ্রগতি নেই জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর

ঋণখেলাপি সংস্কৃতি উত্থানে চার কারণ

শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ফারাক্কা দিল্লির কূটনৈতিক অস্ত্র নাকি ঢাকার সার্বভৌমত্বের লড়াই

গ্রাহক টানতে পারছে না স্টারলিংক

পারস্পরিক সহযোগিতায় দেশ পরিচালনা করুন

সিটি করপোরেশন আইনে সংশোধনী আনবে ইসি