হোম > আমার দেশ স্পেশাল

গণহারে পুনঃতফসিল ও নীতি ছাড়ে কমল খেলাপি ঋণ

রোহান রাজিব

সংসদ নির্বাচনের আগে গণহারে পুনঃতফসিল ও নীতি সহায়তার ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমেছে। গত বছরের শেষ তিন মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা কমে মোট খেলাপি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। এর আগে সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ছয় লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা বা ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বছরের শেষ তিন মাসে সাধারণত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কিছুটা কমে। কারণ এ সময়ে ব্যাংকগুলো আর্থিক হিসাব ভালো দেখাতে আদায় কার্যক্রমে জোর দেয়। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সহায়তার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হয়। সেই সুযোগে ব্যাংকগুলো ২৬ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ নিয়মিত করেছে, যার প্রভাবে সামগ্রিক খেলাপি ঋণ কমেছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেন। এতে গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে ছয় লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা বা ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে পৌঁছায়।

পরবর্তীতে খেলাপি ঋণ কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যবসা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়া কিংবা মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল করতে আগে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট জমা দিয়ে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এসব ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং নিয়মিত হলে শুরুতে দুই বছর কিস্তি পরিশোধে বিরতি সুবিধা পাওয়া যায়। তবে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ডাউন পেমেন্টের হার কমিয়ে এক শতাংশ নির্ধারণ করে পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হয়।

জানা গেছে, নীতি সহায়তার আওতায় এক হাজার ৫১৬টি আবেদনের বিপরীতে এক লাখ ৯৬ হাজার ৪৭ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন আসে। এর মধ্যে ৩০০টি গ্রুপের ৯০০টি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো ২৫০টি ঋণ আবেদন বাস্তবায়ন করেছে, যার পরিমাণ ২৬ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ২৬ হাজার ১১৪ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে।

খাতভিত্তিক চিত্র

ডিসেম্বর শেষে মোট খেলাপি ঋণের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অংশ এক লাখ ৪৬ হাজার ১০৮ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ স্থিতি তিন লাখ ২৮ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা। তিন মাসে এ খাতের খেলাপি ঋণ কমেছে পাঁচ দশমিক ২২ শতাংশ। সেপ্টেম্বর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ছিল এক লাখ ৫৮ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা।

বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ স্থিতি ১৩ লাখ ৭৯ হাজার ২১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ তিন লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। তিন মাসে এ খাতে খেলাপি ঋণ কমেছে ৭৩ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা বা পাঁচ দশমিক ৫১ শতাংশ। সেপ্টেম্বর শেষে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ছিল চার লাখ ৬৩ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা।

বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ স্থিতি ৬৬ হাজার ২২৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ দুই হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা বা চার দশমিক ৫১ শতাংশ। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ঋণ স্থিতি ৪৬ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ১৮ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

কমছে প্রভিশন ঘাটতিও

খেলাপি ঋণ কমার পাশাপাশি প্রভিশন ঘাটতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। তিন মাস আগে যা ছিল তিন লাখ ৪৪ হাজার ২৩১ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে প্রভিশন ঘাটতি কমেছে এক লাখ ছয় হাজার ১৩১ কোটি টাকা।

জাল সনদে চাকরি আওয়ামীপন্থি ১৩ শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীর

জমে উঠেছে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট পল্লীর পাইকারি বাজার

জ্বালানি সরবরাহে বিপর্যয়ের শঙ্কা, খরচ বাড়বে আমদানি পণ্যে

চট্টগ্রামের রাউজানে আধিপত্যের লড়াইয়ে বিএনপিরই ১৫ খুন

স্পিকার পদে আলোচনায় মঈন খান, ডেপুটিতে পার্থ

আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে নারী নির্যাতন

পোস্টাল ব্যালটে ‘নয়-ছয়’ ইসির রাষ্ট্রের গচ্চা ২০ কোটি টাকা

পুলিশের শীর্ষপদ বাগাতে কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ

ড. ইউনূসের বিদায়ে স্বস্তিতে দিল্লি

আসামি করা হচ্ছে হাসিনাসহ আওয়ামী মন্ত্রী-এমপিদের