হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

স্বচ্ছ পানির ফয়’স লেক এখন বিষাক্ত জলাধার

জমির উদ্দিন, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের একসময়কার স্বচ্ছ, প্রাণবন্ত ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ফয়’স লেক এখন ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে এক বিষাক্ত জলাধারে। পাহাড়ঘেরা এই শতবর্ষী জলাশয়, যা একসময় বিরল সব জলজ উদ্ভিদ ও অন্তত ৫০ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আশ্রয়স্থল এবং কয়েক লাখ মানুষের পানির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হতো, আজ দূষণ, দখল ও অব্যবস্থাপনায় তা অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে।

নব্বইয়ের দশকে ফয়’স লেক ছিল নীরব, সবুজে ঘেরা এক উপত্যকা। স্বচ্ছ পানিতে বাস করত নানা প্রজাতির মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও পাখি। কিন্তু ২০০৫ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে কনকর্ড গ্রুপের চুক্তির পর থেকে লেকের চিত্র দ্রুত বদলে যেতে থাকে। পর্যটন উন্নয়নের নামে পাহাড় কাটা, অবকাঠামো নির্মাণ, ইঞ্জিনচালিত নৌযান চালু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে লেকের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ভেঙে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের রেলওয়ের শতবর্ষী সেই জলাধারে এখন বিষাক্ত হাউসে পরিণত হয়েছে। পাহাড় কাটা, বর্জ্য, তেল-মোবিল আর অবৈধ বসতির চাপে লেকটি তার স্বাভাবিক নিঃশ্বাস হারিয়ে গেছে। চুক্তি ভেঙে বাণিজ্য করতে করতে লিজ পাওয়া কনকর্ড গ্রুপ লেককে এমন জায়গায় ঠেলে দিয়েছে, যেখানে পানি আর ‘পানি’ নেই! একটি মৃত, রাসায়নিকভাবে ভারী বিষাক্ত জলাধারে পরিণত হয়েছে।

লেকের পানি এখন সবুজ-ধূসর রঙের, যার ওপর ভাসছে তেলের স্তর। আশপাশের পাহাড়ি ছড়া দিয়ে নেমে আসা বর্জ্য পানির সঙ্গে মিশে লেকের কেন্দ্রীয় অংশে ফেনা তৈরি করছে। ইঞ্জিনচালিত নৌকা থেকে ছড়ানো তেল ও লুব্রিকেন্ট পানিতে মিশে অক্সিজেন প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে মাছ ও অন্যান্য জলজপ্রাণী প্রায় বিলুপ্তির পথে। এক সময়কার হাইড্রিলা, লোটাস, নীল কমলের মতো জলজউদ্ভিদ এখন আর চোখে পড়ে না বললেই চলে। এক সময়কার সবুজ হৃদয় ফয়েজ লেক এখন নিস্তব্ধ, বিষাক্ত ও নিঃসঙ্গ প্রত্যেকটি দৃশ্যে ধ্বংসের ছাপ স্পষ্ট।

লেকটির পানি নিয়ন্ত্রণে থাকা চারটি ভাল্বের মধ্যে তিনটি ইতোমধ্যে অকেজো হয়ে গেছে। বর্তমানে একটি মাত্র ভাল্ব দিয়ে পানি সরবরাহ চলছে। এটি নষ্ট হলে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপসহ আশপাশের কয়েক লাখ মানুষ মারাত্মক পানি সংকটে পড়বে।

বিলুপ্ত ৫০ প্রজাতির প্রাণী, জলজ উদ্ভিদ

ফয়’স লেক এক সময় ৫০ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আশ্রয়স্থল ছিল বলে জানান পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। পরিবেশবিদ ও কর্ণফুলী নদী গবেষক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ইদ্রিস আলীর মতে, এখানে ছিল মাছ, জলচর পাখি, কুমির, ব্যাঙ, সরীসৃপ ও অনেক প্রজাতির পাখি। এসব প্রাণীর প্রায় ৭০ শতাংশ নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। নৌকা চলাচল, তেল ও বর্জ্য দূষণ এবং অবৈধ বসতি-উপজমির কারণে ছোট ছোট মাছ ও ব্যাঙের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। অনেক প্রজাতি স্থানীয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সাদা সারস ও রঙিন জলচর পাখি প্রায় নিখোঁজ।

বিরল জলজ উদ্ভিদও মারাত্মক ক্ষতির মুখে। এক সময় লেকে প্রচুর পরিমাণে দেখা যেত হাইড্রিলা, লোটাস, নীল কমলসহ অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ। স্থানীয় ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও মানুষের চলাচলে লেকের জৈব ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় এগুলোর অস্তিত্ব হুমকির মুখে। আবার এসব জলজ উদ্ভিদ না থাকায় মাছের খাবার ও নিরাপদ আশ্রয় কমে গেছে, যা মাছের প্রজাতি হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেন, ফয়’স লেকে কয়েক বছরের মধ্যে মশা আর মাছি ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।

নিরাপদ পানি হয়ে গেল বিষ

লেকের পানি নিয়মিত পরীক্ষা করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা ও রেলওয়ের স্বনিয়ন্ত্রিত ল্যাব। সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, লেকের পানির পিএইচ মাত্রা ছয় দশমিক আট থেকে সাত দশমিক দুই, যা সামান্য অম্লীয় তবে স্বাভাবিকের কাছাকাছি। কিন্তু জৈব ও রাসায়নিক দূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক। বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (বিওডি) চার থেকে ছয় মিলিগ্রাম/লিটারের জায়গায় নেমে এসেছে তিন দশমিক ছয় মিলিগ্রাম/লিটার, যা নির্দেশ করে পানিতে জৈব ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি নেই। অর্থাৎ পানি জীবন্ত নয়। অন্যদিকে কেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (সিওডি) বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ মিলিগ্রাম/লিটার হয়েছে, যা পানির উচ্চমাত্রার রাসায়নিক দূষণের প্রমাণ। তেল, গ্রিজ ও হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি পানি পরিশোধনকেও বাধাগ্রস্ত করছে।

গত ২০ বছরে লেকের পানি মানের পরিবর্তন দেখা যায়, ২০০৫ সালের চুক্তির আগে পানিতে বিওডি ও সিওডি স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু চুক্তি হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে বিওডি কমেছে, সিওডি ও তেলের মাত্রা বেড়েছে। পরিবেশ ও পানির মানের তুলনামূলক গ্রাফ স্পষ্টভাবে দেখায়, লেকের পানির জীববৈচিত্র্য ও পরিশোধনক্ষমতা ক্রমেই ধ্বংসের পথে। এমন সব কারণে রেলওয়ে চুক্তি বাতিল করেছে ঠিকই, তবে কনকর্ড আদালতে রিট করে এখনো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর চোখ বুজে এবং প্রশাসন হাত গুটিয়ে দাঁড়িয়ে আছে!

বিষাক্ত হয়ে উঠেছে এক সময়কার স্বচ্ছ, প্রাণবন্ত ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ফয়’স লেকের পানি। ছবি: আমার দেশ

আদালতের স্থগিতাদেশকে ঢাল

নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, লেকের পুরো জায়গাটির মালিক বাংলাদেশ রেলওয়ে। ২০০৫ সালে রেল কর্তৃপক্ষ লেকের ৩৩৬ একর জমি ৫০ বছরের জন্য ইজারা দেয় কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানিকে। বার্ষিক ইজারামূল্য ধরা হয় ৩৭ লাখ টাকা। ইজারা পাওয়ার পরই ভূমিকর না দেওয়া, পরিবেশ ধ্বংস, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ ইত্যাদি অভিযোগ পাওয়া যায় কনকর্ডের বিরুদ্ধে। রেল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগে ২০১৭ সালে চুক্তি বাতিল করে। পরদিনই কনকর্ড আদালতে যায়। পরে আওয়ামী লীগের এমপি ফজলে করিমের হস্তক্ষেপে চুক্তি বাতিল থেকে সরে আসে রেলওয়ে। কনকর্ডও মামলা তুলে নেয়। সেই সুযোগে এখনো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কনকর্ড।

লেকটি লিজ দেওয়ার সময় শর্ত ছিল, এর চারপাশে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। তবে লেকের প্রাকৃতিক পরিবেশ, পাহাড়ি ছড়া, গাছপালা, ভূমির স্বাভাবিক গঠন ও জলাধারের গুণগত মান একেবারেই নষ্ট করা যাবে না। চুক্তির প্রতিটি পাতায় ছিল পরিবেশ ও টোপোগ্রাফি অপরিবর্তিত রাখার কঠোর শর্ত। বলা হয়েছিল লেকের পানি শুধু সংরক্ষিত থাকবে না, বরং দূষণমুক্ত অবস্থায় রেলওয়ের বাসিন্দাদের কাছে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। যান্ত্রিক নৌকা কেবল নিরাপত্তা কাজে ব্যবহার করা যাবে, কোনো বাণিজ্যিক কাজে নয়।

তবে বাস্তবে পাওয়া গেছে চুক্তির পুরোপুরি উল্টো চিত্র। লিজ পাওয়ার পর কনকর্ড কর্তৃপক্ষ লেকের ক্যাচমেন্ট (নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চল) এলাকায় মানুষের বসতি স্থাপনের অনুমতি দেয়, এমনকি অর্থের বিনিময়ে পাহাড় কেটে সমতল ভূমি তৈরি করে বসতঘর তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। লেকের বাইরে থেকে বসতি গড়া হয় পাহাড়ি ছড়ার ওপর, নিচে ও ঢালের কোলে, যেখানে এক টুকরো ইটও ফেলার কথা ছিল না। এভাবেই একেবারে সংরক্ষিত জলাধারের মাঝেই গড়ে ওঠে জিয়ানগর, মধ্যনগর ও বিজয়নগর এলাকা— যেখানে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করছে । এসব এলাকায় পাইপলাইনে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, টয়লেট রয়েছে, এমনকি কংক্রিটের ঘরও গড়ে উঠেছে। অথচ সিটি করপোরেশন, পিডিবি বা গ্যাস কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক নথিতে এ বসতির অস্তিত্ব নেই।

এখনো প্রতিদিন এ এলাকায় পাহাড় কেটে নতুন ঘর তৈরি হচ্ছে। বাঁধ দেওয়া হচ্ছে ছড়ার ওপর। ফলে বৃষ্টির স্বাভাবিক প্রবাহ ঠেকে যাচ্ছে। ক্যাচমেন্টে কাঁচা ল্যাট্রিনের তরল বর্জ্য, গরুর গোবর ইত্যাদি একসঙ্গে মিশে লেকে গিয়ে পড়ছে। লেকের পানি দূষিত করছে। লেকে চালানো ইঞ্জিনচালিত নৌকার তেল–লুব্রিকেন্ট পানিতে মিশে একটি তেলের স্তর তৈরি করছে, যা পানির মধ্যে অক্সিজেন প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে। গবেষণা বলছে, এর ফলে পানি হয়ে ওঠে জৈবভাবে মৃত ও রাসায়নিকভাবে ভারী— যা পরিশোধনের পরও নিরাপদ থাকে না।

যৌথ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক চিত্র

২০০৯-১০ সালে রেলওয়ের বাসিন্দারা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে একটি অভিযোগ করেন। যেখানে বলা হয়, পানিতে তেলজাত ফেনা দেখা যায়, দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং পানি পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠায় চট্টগ্রাম ওয়াসায়। পরীক্ষায় দেখা যায়, ফয়েজ লেকের পানিতে জৈব ব্যাকটেরিয়া মরে গেছে। ফলে স্বাভাবিক পরিশোধনক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই বছরের ২০ মে তদন্ত কমিটি ফয়’স লেক সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তদন্তে লেক দূষণের চারটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়। সেগুলো হলো— লেকের ভেতরে কনকর্ড নির্মিত কটেজগুলোর সেপটিক ট্যাঙ্ক ও ওয়েস্ট ওয়াটারের আউটলাইনগুলোর বর্জ্য সরাসরি লেকে ফেলা, মানুষের গোসল ও কাপড় ধোয়া এবং লেকের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর অবৈধ নির্মাণ।

কনকর্ডের কর্মকর্তারা দাবি করেন, মানববর্জ্য আন্ডারগ্রাউন্ড চেম্বারে গিয়ে ব্লোয়ার মেশিনে একশ শতাংশ লিকুইডে রূপান্তরিত হয় এবং পরে তা ম্যানুয়ালি অন্যত্র ফেলা হয়। প্রমাণের অভাব ও বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে অসঙ্গতির কারণে তদন্ত কমিটি এই ব্যাখ্যাকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করে।

তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়, এই পানি দীর্ঘ মেয়াদে মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে, যে কোনো সময় আমাশয়, টাইফয়েড, জন্ডিসসহ বড় ধরনের পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে রিপোর্টের এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য এবং সুপারিশ শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা মনে করছেন, লেকের পানি যেহেতু বহু পরিবার ও কর্মচারীর জীবনধারার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাই দূষণের এ মাত্রা জনস্বাস্থ্যঝুঁকির পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক, রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী তরুণ কান্তি বালার ভূমিকা নিয়ে তখনই প্রশ্ন ওঠে। তার অস্বাভাবিক নিষ্ক্রিয় অবস্থানে রিপোর্টটি আটকে যায়। ফলে দূষণ অব্যাহত থাকে, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে থাকে জনবসতি।

তিন ঝিলে বসতি, নিয়ন্ত্রণ সন্ত্রাসী গ্রুপের

সরেজমিনে দেখা যায়, ফয়’স লেকের আশপাশের পাহাড় প্রায় পুরোপুরি দখল হয়ে গেছে। লেককে ঘিরে অন্তত ১০টি পাহাড়ে গড়ে উঠেছে অবৈধ বসতি। পরিবেশ অধিদপ্তর ২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্যমতে, শুধু তিন ঝিলেই বাস করে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। তাদের সিংহভাগই বৈধ মালিকানা ছাড়াই পাহাড় কেটে ঘর তুলেছেন। কয়েকজন দখলদার বলেন, ১৯৯৪ সাল থেকে এখানে আছি। কারো কোনো কাগজ নেই। স্ট্যাম্পের ওপর হাতবদল হয়। আসল মালিক রেলওয়ে।

আসহাব উদ্দিন নামের আরেক দখলদার জানান, এখানে জায়গা দখল করতে ৫০ হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত লাগে। তবে কাদের দিতে হয়, সে বিষয়ে মুখ খোলেননি তিনি।

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

কনকর্ডের ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্কের ডেপুটি ম্যানেজার বিশ্বজিৎ ঘোষ আমার দেশকে বলেন, রেলের সঙ্গে সমঝোতা হওয়ার পর আমরা মামলা তুলে নিয়েছি। ইঞ্জিনচালিত বোটের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা খুব কমই এ ধরনের বোট ব্যবহার করছি। আমরা এখন সৌরচালিত বোটের ব্যবস্থা করছি। পানি দূষণ আর ফয়’স লেক দখল বিষয়ে তার ভাষ্য, এগুলো আমাদের দেখার বিষয় নয়। রেলওয়ে উচ্ছেদ করতে চাইলে আমরা সহযোগিতা করব।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সবুক্তগীন, প্রধান প্রকৌশলী তানভিরুল ইসলাম ও বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞার কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা খোরশেদ আলম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। তবে তিনি বলেন, আমি নতুন এসেছি। এতকিছু জানি না। তারা যদি কোনো ভায়োলেশন করে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নিব।

বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলার) সিইও ড. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ফয়’স লেক চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক জলাধারগুলো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাণ্ডার। এমন একটি জীবন্ত উৎস ধ্বংস হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। লিজের শর্ত অমান্য হলে তা বাতিল করে কীভাবে প্রাকৃতিক সম্পদকে রক্ষা করা যায়, সেই দায়িত্ব রেল কর্তৃপক্ষেরই।

আওয়ামী আমলে বিসিএসে নজিরবিহীন জালিয়াতি

বাংলাদেশ সীমান্তে ‘আরেক কাশ্মীর’ সৃষ্টির শঙ্কা

গণতন্ত্রের পুনরুত্থান ও সম্প্রীতির আবাহনে বাংলা নববর্ষ বরণ

ঐ নূতনের কেতন ওড়ে

আশ্রয়-খাদ্য সংকটে মানবেতর জীবন লেবানন প্রবাসী বাংলাদেশিদের

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জে নতুন সরকার

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি আলোচনায় ‘অগ্রগতি’

জামায়াত ও কওমি দ্বন্দ্বের সিলসিলা

আওয়ামী আমলের পুরোনো পোশাকে ফিরতে চায় পুলিশ

দিল্লির ‘আতিথেয়তায়’ দিল মজেছে হাসিনার, ছাড়তে নারাজ ভারত