হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

দুর্গাপূজায় নাশকতার ষড়যন্ত্র আ.লীগের

আলাউদ্দিন আরিফ

দুর্গাপূজার সুযোগ নিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে নাশকতা সৃষ্টি করবে—এমন আশঙ্কায় সারা দেশে পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নির্দেশনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে পূজামণ্ডপে নিয়োগ দিতে নিষেধ করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি পুলিশের সব ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের অতিপ্রয়োজনীয় ছাড়া সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

আগামী ১৬-২১ অক্টোবর হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ পূজার সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতামূলক কার্যক্রম চালাবে— গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কা করা হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের বিশেষ শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দুর্গাপূজার সুযোগ নিয়ে নাশকতার ষড়যন্ত্র করেছে— এমন বেশকিছু গোয়েন্দা তথ্য আমরা পেয়েছি। বিশেষ করে দুর্গাপূজার মণ্ডপ এবং হিন্দুদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে হামলা করবে আওয়ামী লীগ। এসব হামলার ছবি ও ভিডিও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নেই’ ইস্যুটিকে জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা করছে তারা। এর মাধ্যমে পলাতক শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে বলবে। এজন্য আওয়ামী লীগের পলাতক কিছু নেতা ইতোমধ্যে বিপুল অঙ্কের অর্থ দিয়েছে বলে তথ্যও মিলেছে। গত বছরও দুর্গাপূজার সময় বিভিন্ন মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ষড়যন্ত্র করেছিল দলটি।

সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর ঢাকা মহানগরীতে ২৫৮টিসহ সারা দেশে ৩২ হাজার ৯৫টি পূজামণ্ডপ থাকবে। এর মধ্যে ৪,৬২৬টি পূজামণ্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়, ধর্মীয় এসব আচার অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক কোনো কর্মসুচি পালন করা যাবে না। রাজনৈতিক কোনো বক্তব্য বা দাবি উপস্থাপন করা যাবে না। বিএনপিপন্থি বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট ও আওয়ামী লীগপন্থি বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের মধ্যে যেকোনো ধরনের গ্রুপিং ও কোন্দলের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে এবং কোন্দল ও বিরোধ পরিহার করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো অপতথ্য, গুজব বা প্রচারিত ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নজরদারির আওতায় আনতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, এনটিএমসি ও বিটিআরসির সমন্বয়ে বিশেষ সেল গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। রাস্তার পাশে বা অরক্ষিত স্থানে মূর্তি রাখা যাবে না। কোনো বিরোধপূর্ণ স্থানে পূজামণ্ডপ তৈরির অনুমতি দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে মসজিদ বা মাদরাসার পাশে পূজামণ্ডপ স্থাপনের জায়গা না দেওয়া, যেসব স্থায়ী পূজামণ্ডপের পাশে মসজিদ রয়েছে, সেগুলোতে নামাজের সময় গান-বাজনা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আরো বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদধারী নেতাকর্মীদের কোনোভাবেই স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। পূজা উদযাপন পরিষদকে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশ দিতে হবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিজস্ব জেনারেটরের ব্যবস্থা, দিন ও রাতে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে তাদের পরিচয়পত্র দেওয়া, কাপড়ের ফিতা, প্লাস্টিক বা ইলাস্টিকের তৈরি আর্মব্যান্ড পরতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মূর্তি বিসর্জনের সময় বিশৃঙ্খলা এড়াতে ঘাটের সংখ্যা বাড়াতে বলা হয়েছে। রাত ৮টার মধ্যে মূর্তি বিসর্জন নিশ্চিত করতে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের নির্দেশনা দিতে হবে।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়, অতিসম্প্রতি আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলসহ বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম বেড়েছে। এ কারণে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের (অপারেশন শাখা) এক কর্মকর্তা বলেন, শুধু আওয়ামী লীগ নয়, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাও দুর্গাপূজায় চাঁদাবাজি, হামলা-ভাঙচুরসহ নানা অপকর্ম চালাতে পারে। তাই পুলিশ অধিকতর সতর্কতামূলক প্রস্তুতি নিয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, পূজামণ্ডপের পাশে মেলা বসানো হয়। এতে গাঁজা ও মদের আড্ডা বসে। এবার কোনোভাবেই মেলা বসতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরো বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তাজনিত কারণে পুলিশ সদস্যদের অতিপ্রয়োজন ছাড়া সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকতে বলা হয়।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতা করতে পারে, সে বিষয়টি মাথায় রেখে দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশের প্রতিটি ইউনিটকে নিজ নিজ নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে। পূজার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হারে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানো হতে পারে—এ বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যরা যথাযথভাবে বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন। যেকোনো ধরনের নাশকতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে পুলিশকে গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ষড়যন্ত্রসহ নাশকতার আশঙ্কার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দুর্গাপূজা চলাকালে এবং মূর্তি বিসর্জন উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে এবং মণ্ডপের ইনচার্জরা বডিওর্ন ক্যামেরা নিয়ে ডিউটি করবে। পূজা চলাকালে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইসিস রেসপন্স টিম, কুইক রেসপন্স টিম, ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। পূজামণ্ডপে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকরাও পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকবে। এ বিষয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

রাশিয়ায় কাজের খোঁজে গিয়ে যুদ্ধের ফাঁদে বাংলাদেশিরা

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ছাড়াই বিমান কেনার ধুম

আইএমএফের সঙ্গে সমঝোতা হলো না

শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তি চরমে

নিয়ন্ত্রণহীন অনলাইন জুয়া, দেশে ৮ হাব

সওজে লোভনীয় পদে আওয়ামী প্রকৌশলীরা

যাত্রী বেড়ে দ্বিগুণ, তবু দিনে ভর্তুকি ৬০ হাজার টাকা

৩১ বছরেও বাসযোগ্য হয়নি পূর্বাচল প্রকল্প

প্রকল্প শুরুর আগেই ব্যয় বাড়ছে ৬৭২ কোটি টাকা

যাদুকাটার বালু-পাথর লুটে একাট্টা বিএনপি-আ.লীগ