হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

মাঠের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায়ও ভোটযুদ্ধ

সাইদুর রহমান রুমী

প্রতীকী ছবি

জুলাই বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে নামমাত্র একচেটিয়া নির্বাচনে নতুন প্রজন্মের ভোট দিতে না পারার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবারই প্রথম সবার অংশগ্রহণে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আসন্ন এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচারে ব্যস্ত প্রার্থীরা। সশরীরে প্রচারের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াকেও নির্বাচনি প্রচারের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন তারা। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক তরুণ ভোটারের কাছে পৌঁছাতে সোশ্যাল মিডিয়াকেই বেছে নিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো।

রাজনৈতিক দলগুলোর থিম সং এবং নির্বাচনি উদ্দীপক গান-নাটকে লাখ লাখ ভিউ প্রমাণ করেছে এবারের নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়ার গুরুত্ব। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের সাইবার যুদ্ধ জমে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমানে দেশের রাজনীতির মাঠ আগের মতো নেই। দেশের বিপুলসংখ্যক ভোটার এখন তরুণ, যাদের বেশিরভাগের হাতে আছে স্মার্টফোন। এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাচ্ছেন না প্রার্থীরা। এছাড়া ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ

নির্বাচনের জন্য হাতে সময়ও খুব বেশি নেই। এ সময়ের মাঝেই সব ভোটারের কাছে প্রধান প্রধান দলগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা তাদের বার্তা পৌঁছাতে চান।

সার্বিক বিচারে এবার নির্বাচনি মাঠে উত্তাল চিত্র নেই। বিপরীতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোয় বইছে নির্বাচনি ঝড়। ভোটের

প্রধান রণক্ষেত্র এখন সোশ্যাল মিডিয়া। বিশ্লেষকরাও বলছেন, এবারের নির্বাচনি রাজনীতির চিত্র অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ডিজিটাল প্রচার তুঙ্গে উঠেছে, যা গতানুগতিক প্রচারের চেয়ে ভোটাদের মানসপটে বেশি প্রভাব ফেলছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, দেশে যত ভোটার আছে তার মধ্যে প্রায় ৪৪ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে। এরা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে মুখ্য ভূমিকায় ছিল। এ প্রজন্মের বিশাল অংশ বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই তারা এবারের ভোটের ব্যাপারে ব্যাপক উৎসাহী। আর সে উৎসাহের ঢেউ আছড়ে পড়ছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা সোশ্যাল মিডিয়ায়। কারণ, এ প্রজন্মের বেড়ে ওঠাই হয়েছে জিডিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের প্রায় ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। এর মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহার করে ৭২ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ ।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের তথ্য বলছে, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বর্তমানে ১৩ কোটি ছাড়িয়ে গেছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ। বিপরীতে সর্বশেষ হিসাবমতে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার। অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল গবেষণা ও বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্মগুলোর হিসাব অনুযায়ী দেশে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া সাইট ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি ৪০ লাখ। টিকটক ব্যবহারকারী পাঁচ কোটি ৬০ লাখ আর ইউটিউব ব্যবহারকারী পাঁচ কোটির কাছাকাছি।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশাল আকারের নির্বাচনি জনসভা আয়োজন করতে যে পরিমাণ অর্থ ও শ্রম ব্যয় হয় তাতে ভোটার বা বিশাল জনগোষ্ঠীর যে সাড়া পাওয়া যায়, তার চেয়ে কম অর্থ ব্যয়ে তৈরি করা ভাইরাল ভিডিও অনেক বেশি কার্যকর। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের আকর্ষণ করতে গতানুগতিক ধারার চেয়ে ডিজিটাল মাধ্যম বেশি কার্যকর।

ভোটের ডিজিটাল মাঠে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনি গানগুলোর ভিউ প্রতিদিনই বাড়ছে। বিশেষ করে ‘নৌকা, ধানের শীষ, লাঙ্গল দেখা শেষ; দাড়িপাল্লা এবার গড়বে বাংলাদেশ’ গানটি এখন মানুষের মুখে মুখে।

অন্যদিকে বিএনপি তাদের প্রচারে দেশপ্রেম ও জনস্বার্থকে সামনে এনে অনেক গান তৈরি করেছে। ‘আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ’-সহ সুন্দর সুন্দর গান অনলাইনে ভেসে বেড়াচ্ছে। আবার চব্বিশের আন্দোলন থেকে উঠে আসা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাটকীয় ভিডিও, তরুণদের ভাষায় বার্তা ও সর্বশেষ তাদের প্রকাশিত থিম সং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

এ বিষয়ে বিএনপির মিডিয়া কমিটির সদস্য ও তারেক রহমানের মানবাধিকারবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আবু সায়েম আমার দেশকে বলেন, এখন গোটা পৃথিবী ভার্চুয়ালি যুক্ত। ফলে টার্গেট মানুষের কাছে সংবাদ পৌঁছানো অনেক সহজ হয়ে গেছে। আর এবারের ভোটে তরুণ প্রজম্মের সংখ্যা অনেক বেশি। বড় বড় সভা-সমাবেশ করে যেটি সম্ভব হয় না, তা এখন অনলাইন প্রচারে সম্ভব হচ্ছে। তবে সাইবার দুনিয়ার অনেক নেগেটিভ দিকও রয়েছে। কারণ, অনেকে না বুঝে মিথ্যা প্রোপাগান্ডায় প্রতারিত হয়। ভুয়া ফটোকার্ডসহ বিভিন্ন ফলস কনটেন্ট শেয়ার করে বিপদে পড়ে। তাই এসব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

বিশিষ্ট সাইবার বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, এবারের নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়াই মূল প্রচার মঞ্চ হয়ে উঠেছে। কম খরচে দ্রুত ও সরাসরি ভোটার, বিশেষ করে তরুণদের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে বলেই এর প্রভাব চোখে পড়ার মতো । তবে একই সঙ্গে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের ঝুঁকি আছে। তাই সচেতন ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবহার জরুরি।

এদিকে ফ্যাক্টচেকাররা বলছেন, নির্বাচনি এসব বার্তা শুধু রাজনৈতিক পেজেই এখন আর সীমাবদ্ধ নেই, রিলস ও শর্ট ভিডিওর মাধ্যমে তরুণদের ব্যক্তিগত ফিডেও ঢুকে পড়ছে। এজন্য বড় অঙ্কের বাজেট রাখছেন প্রার্থীরা।

ভোটে মুক্তিযুদ্ধ বনাম জুলাই বিপ্লব

রাজধানীতে ধর্মীয় উপাসনালয়ে গিয়ে শান্তি ও ঐক্যের প্রতিশ্রুতি প্রার্থীদের

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের পৃষ্ঠপোষকতা

নির্বাচনের আগেই প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ

মামুনের পক্ষে বিএনপির বেশির ভাগ নেতাকর্মী

নতুন সরকারের শপথের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন

নির্বাচনি কর্মকর্তাদের গণভোটের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা ইসির

রাজধানীতে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির বন্যা

হত্যায় অনীহা দেখানো র‍্যাব সদস্যদের ‘কাপুরুষ’ বলে ধমকাতেন জিয়াউল

প্রার্থীদের পদচারণে মুখর রাজধানীর অলিগলি