হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

নতুন মন্ত্রী ও এমপিদের শপথ আজ

জাহেদ চৌধুরী

নতুন সরকারের এমপি ও মন্ত্রীরা আজ মঙ্গলবার শপথ নেবেন। সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের শপথ রুমে এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বিকাল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার শপথ। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। নতুন সরকারের মন্ত্রীদের শপথের আগে কিছু আনুষ্ঠানিকতা এখনো বাকি রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া গণপরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা শপথের কথা সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হলেও বিএনপির এমপিরা আজ সে শপথ নাও নিতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রায় দুই দশক বাংলাদেশ গণতন্ত্রহীন থাকার পর ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপি। ইতিহাসসেরা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী দলটি আজ সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। খালেদা জিয়া ২০০৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব শেষ করার ২০ বছর পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন তার ছেলে তারেক রহমান। তিনিই বিএনপির এ ভূমিধস বিজয়ের কারিগর। এর আগে ২০০১ সালের ১ অক্টোবর বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের নেপথ্যের কারিগরও ছিলেন তারেক রহমান।

গেজেটে প্রকাশিত ২৯৬ এমপির শপথ আজ সকালে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে। ৩০০ আসনবিশিষ্ট সংসদের ২৯৯ আসনে নির্বাচন হলেও দুটি আসনের ফলাফলের গেজেট হয়নি। আসন দুটি হলো চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪। এছাড়া জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন হয়নি। এর বাইরে একমাত্র তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচন করে দুটিতেই জয়ী হয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন বগুড়া-৬ গতকাল তিনি ছেড়ে দেন। ঢাকা-১৭ আসনের এমপি হিসেবে তিনি আজ শপথ নেবেন।

এমপিদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী বিদায়ী সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়াতে অপারগ হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ দায়িত্ব পালন করবেন। বিদায়ী সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু খুনের মামলায় জেলে থাকায় তারা গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়াতে পারবেন না। সংবিধান অনুযায়ী নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

সকালে শপথ নেওয়া শেষ হলে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দল ও জোটের এমপিরা বৈঠক করে তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবেন। বিভিন্ন দলের যারা সংসদীয় দলনেতা নির্বাচিত হবেন, তাদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের দলনেতাকে রাষ্ট্রপতি সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন।

বিএনপির কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, তারা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। ফলে তারেক রহমানকেই রাষ্ট্রপতি সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেবেন। এ চিঠি পাওয়ার পরই তারেক রহমান তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের তালিকা পাঠিয়ে দেবেন। কেবিনেট ডিভিশন মন্ত্রীদের জন্য বরাদ্দ করা গাড়ি পাঠিয়ে দেবে যার যার কাছে।

বিভিন্ন সূত্র বলছে, প্রাথমিকভাবে মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৩০ জন শপথ নিতে পারেন।

সদ্য অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ২০৯ জন এমপি নির্বাচিত হন। এর মধ্যে বগুড়া-৬ থেকে তারেক রহমান পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-২-এর জয়ী সারোয়ার আলমগীর ও চট্টগ্রাম-৪-এর আসলাম চৌধুরীর ঋণখেলাপির বিষয়টি আদালতে থাকায় এ দুই আসনের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রয়েছে।

বিএনপি তাদের সংসদীয় দলের সভায় জোটের শরিক তিন এমপি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, গণসংহতি অন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে আমন্ত্রণ জানাতে পারে। এ তিনজন মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ পেতে পারেন।

বিএনপি সংসদীয় দলের সভায় নেতা নির্বাচনের বাইরে উপনেতা (মন্ত্রী মর্যাদার), চিফ হুইপ এবং ছয়জন হুইপ নির্বাচন করার কথা রয়েছে। সংসদ উপনেতা হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমেদের নাম শোনা যাচ্ছে।

বিরোধী দলের আসনে বসতে যাওয়া জামায়াত জোট তাদের সংসদীয় দলের সভায় জোটের শরিকদের আমন্ত্রণ জানাবে। সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা, উপনেতা ও চিফ হুইপ ও হুইপ নির্বাচন করা হবে। বিরোধীদলীয় নেতা মন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করে থাকেন।

আজ সংসদের কোনো অধিবেশন হবে না। সংসদীয় দলের নেতার বাইরে অন্য পদগুলো পরে ঠিক করার সুযোগ রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি শিগগির সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন। নিয়ম অনুযায়ী বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের অধিবেশন শুরু হয়ে স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হয়। তারপর নতুন স্পিকারকে দায়িত্ব দিয়ে বিদায়ী সংসদের স্পিকার চূড়ান্তভাবে বিদায় নেন। এবার কার সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন বসবে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নতুন সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর সামনে যত চ্যালেঞ্জ

নতুন সরকার ও প্রধানমন্ত্রী বেশকিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন। তারেক রহমান নিজেও এ পথকে অত্যন্ত প্রতিকূল ও কঠিন বলে অভিহিত করেছেন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে প্রথমেই তাকে ভালো ও দক্ষ লোকের একটি মন্ত্রিসভা করতে হবে। সরকার একটি বিশাল ব্যাপার। প্রিয় ও কাছের লোকদের বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া যাবে। তবে মাথায় রাখতে হবে, যারা মন্ত্রিসভায় থাকবেন, তারা যেন ভালো ও দক্ষ লোক হন। বিশেষ করে অর্থ, পররাষ্ট্র এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভালো ও প্রফেশনাল লোকের বিকল্প নেই।

তারেক নিজেই রহমান বেশকিছু চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে বলেছেন, বিগত শাসনামলে দেশের অর্থনীতি, জ্বালানি খাত ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমান উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, ব্যাংক খাতের সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সামলানো হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। তেমনি আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং মেধার গুরুত্ব, পররাষ্ট্র নীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করা, বিনিয়োগ আনা, বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

বাবা-মায়ের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় বসতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পথে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর আগে তার বাবা জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট এবং মা খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বাবা-মায়ের পর এবার ছেলে দেশের নেতৃত্ব দেবেন। বিশ্বে এটি বিরল এবং গৌরবের ঘটনা।

বঙ্গভবন ছেড়ে দক্ষিণ প্লাজায়

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে এবার নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি হচ্ছে। সাধারণত বঙ্গভবনে সরকার গঠনে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ হয়ে আসছে। কিন্তু এবার বঙ্গভবনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে না। আজ মঙ্গলবার সরকার গঠনের এ শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়।

শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন দক্ষিণ এশীয় নেতারা

তারেক রহমানের সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারত ও পাকিস্তানসহ সার্কভুক্ত দেশ এবং চীন, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরবসহ বেশকিছু মুসলিম দেশের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এটিও একটি ব্যতিক্রমী প্রয়াস হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মুহাম্মদ মইজ্জু, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম মন্ত্রী ড. নালিন্দা জয়াতিষা, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মার শপথ অনুষ্ঠানে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

অনুষ্ঠানে সরকারি ও বিরোধী দলের এমপি, রাজনৈতিক দলের নেতা, বিচারপতি, কূটনৈতিক মিশনের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, সাংবাদিকসহ গণ্যমান্য প্রায় এক হাজার ২০০ জন উপস্থিত থাকবেন।

আগে পাঁচবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল বিএনপি

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে প্রথমবার ক্ষমতায় আসে বিএনপি। দলটি ১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে বিপথগামী সেনাসদস্যদের হাতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শাহাদতবরণের পর বিচারপতি আবদুস সাত্তারের নেতৃত্বে দলটি আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়লাভ করে। কিন্তু ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ বন্দুকের নলের মুখে বিচারপতি সাত্তারকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেন। শহীদ জিয়াউর রহমানের অবর্তমানে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন তার সহধর্মিণী খালেদা জিয়া। তিনি ৯ বছর স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে নিরলস সংগ্রাম চালিয়ে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর সরকারের পতন ঘটান। এরপর ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদের নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া সরকার পরিচালনা করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার লক্ষ্যে ষষ্ঠ সংসদের নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি জয়লাভ করে। সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাসের পর স্বল্পকালীন সরকারের অবসান ঘটানো হয়। এরপর চারদলীয় জোটের প্রধান হিসেবে খালেদা জিয়া অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে (দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ) ক্ষমতায় আসেন।

২০০১-০৬ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বারের মতো দেশ পরিচালনা করেন খালেদা জিয়া। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ষষ্ঠবারের মতো ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন।

জিয়া পরিবারের প্রভাবশালী ও দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ‘লিগ্যাসি’

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি থেকে মুক্তবাজার অর্থনীতির দিকে যাত্রার সূচনা এবং কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রবর্তন করেন।

খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে দেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার আপসহীন ভূমিকা তৃণমূল পর্যায়ে তাকে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তোলে। তিনি তিনবার ১৯৯১-৯৬, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর স্বল্পকালীন সময় এবং ২০০১-০৬ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার শাসনামলে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষা, উপবৃত্তি কর্মসূচি ও ভ্যাট প্রথা এবং মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু দেশের উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখে।

উপমহাদেশের রাজনীতিতে দ্বিতীয় উদাহরণ

উপমহাদেশে বাবা, মা ও সন্তান প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী হওয়া বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি দ্বিতীয় নজির। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান। এর আগে শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট এসডি বন্দরনায়েক, তার স্ত্রী বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী শ্রীমাভো বন্দরনায়েক এবং তাদের সন্তান চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা প্রেসিডেন্ট হন। ভারতে বাবা জওহরলাল নেহরু প্রধানমন্ত্রী, মেয়ে ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী ও ইন্দিরার ছেলে রাজীব গান্ধী অর্থাৎ জওহরলাল নেহরুর নাতি প্রধানমন্ত্রী হন। পাকিস্তানে জুলফিকার আলি ভুট্টো প্রধানমন্ত্রী ও তার মেয়ে বেনজির ভুট্টো প্রধানমন্ত্রী এবং পরে বেনজিরের স্বামী আসিফ আলি জারদারি প্রেসিডেন্ট হন।

‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের প্রকৃত চিত্র

নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠতে পারেন সরকারি বাসভবন যমুনায়

তরুণ ও নারী ভোটারের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মডেল ১২ ফেব্রুয়ারি

ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত সবাই

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর খোয়া যাওয়া অস্ত্র নিয়ে শঙ্কা

আপনার ভোট অন্য কেউ দিলে কী করবেন

দুটি ব্যালটই নিতে হবে, সিল না দিলেও ফেলতে হবে বাক্সে

নারী-তরুণরাই হবেন ভোটের ‘গেম চেঞ্জার’

ভোটে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব ইস্যু