হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

স্থানীয় সরকারে ‘রক্তপাতহীন’ ভোট করতে চায় ইসি

সংলাপের পরিকল্পনা

গাজী শাহনেওয়াজ

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণ সহিংসতামুক্ত, গ্রহণযোগ্য ও বিতর্কমুক্ত করতে রাজনৈতিক দলসহ সব অংশীজনের সঙ্গে সংলাপে বসার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ধারাবাহিকতায় জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পৃথক বিধিবিধান ও আচরণবিধির খসড়া জুনের মধ্যেই চূড়ান্ত করতে চায় এ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। ঈদুল আজহার (কোরবানির ঈদ) পর অনুষ্ঠেয় কমিশন সভায় সংলাপের রূপরেখা ও বিধিমালার খসড়া অনুমোদন করা হতে পারে। ইসি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইসি সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের ইতিবাচক অভিজ্ঞতাকে তৃণমূলের নির্বাচনেও কাজে লাগাতে চায় কমিশন। ইতিমধ্যে সুশীলসমাজ, এনজিও প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে রক্তপাতহীন ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের কৌশল নির্ধারণে কমিশন পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কমিশনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় এনে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক দল মনোনীত বা পদধারী ব্যক্তিরাই এতে অংশ নেন। এ বাস্তবতায় নির্বাচন সংঘাতমুক্ত রাখতে এবার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে বিশেষ ‘নির্বাচনি অঙ্গীকারনামা’ বা প্রতিশ্রুতি নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে ইসি। দলগুলো যদি স্থানীয় নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে উসকানিমূলক অবস্থান না নেয়, তবে সহিংসতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে ধারণা করছে কমিশন। কর্মকর্তাদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া কোনোভাবেই রক্তপাতহীন নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসিরউদ্দিন আমার দেশকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঐতিহাসিকভাবেই বেশি সংঘাতপূর্ণ হয়ে থাকে। অনেক এলাকায় প্রাণহানি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সিইসি আরো বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের প্রধান অংশীজন, তাই তাদের সঙ্গে সংলাপে বসতে হবে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সংলাপের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, কমিশন সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তৃণমূলের গণতন্ত্র আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরাই সরাসরি জনগণের সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত। একটি ভালো নির্বাচন আয়োজনে আমাদের চেষ্টার কোনো ঘাটতি থাকবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ইসির এ বাড়তি সতর্ক অবস্থানের পেছনে রয়েছে বিগত নির্বাচনগুলোর তিক্ত অভিজ্ঞতা। বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তথ্যমতে, ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দেশজুড়ে নির্বাচনি সহিংসতায় ২৩৬ জন নিহত হয়েছিলেন। অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রাণ হারান ১১৬ জন। অতীতের এ বিপুল প্রাণহানির রেকর্ড সামনে রেখেই আগামী নির্বাচনে যেন একটিও প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বর্তমান কমিশন।

ইসির এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি আমার দেশকে বলেন, সংসদের সরকারি বা বিরোধী দল কিংবা সংসদের বাইরে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দল যদি স্থানীয় নির্বাচনে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ না করে, তাহলে সহিংসতা অনেকাংশে কমে আসবে। সংলাপের মাধ্যমে ইসি যদি দলগুলোর কাছ থেকে সে প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিতে পারে, তবে প্রভাবমুক্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্ভব। এখন দেখার বিষয়, ইসি কোন কৌশল অবলম্বন করে সে অঙ্গীকার আদায় করে।

দেশে চলাচল করা নৌযানের ৯০ শতাংশ ‘অবৈধ’

পরিবর্তন আসছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যক্রমে

বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হতে পারে পুলিশের আরো ৫৩ কর্মকর্তাকে

দ্রুতই অঙ্গসংগ‌ঠ‌নগুলোকে ঢেলে সাজাবে বিএন‌পি

নারিকেল আমদানির অনুমতি নিয়ে ডিইএর লুকোচুরি, বিপাকে ব্যবসায়ীরা

কোরবানির পশুর দাম নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা

আইসিটিতে সাজাপ্রাপ্তরা অযোগ্য, বাতিল ইভিএম পোস্টাল ব্যালট

তারেক রহমানকে ‘বেনিফিট অব ডাউট’ দিতে চায় দিল্লি

ক্রেতাশূন্য বাজারে হিন্দু খামারিদের হাহাকার, আত্মহত্যার হুমকি

আ.লীগকে ফেরাতে নিশানায় ইউনূস