হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

ছোট ছোট ঝাঁকুনিতে বড় বিপদের আভাস

সরদার আনিছ

দেশে ঘন ঘন ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। স্বল্পমাত্রা ও ক্ষণিকের এ ভূকম্পনে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। আপাতদৃষ্টিতে ছোট ছোট ঝাঁকুনিগুলোকে সাধারণ বিষয় মনে হলেও ভূতত্ত্ববিদ ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা একে দেখছেন এক মহাসংকটের পূর্বাভাস হিসেবে।

তাদের মতে, ঘন ঘন এই মৃদু কম্পন এলে মাটির নিচে জমে থাকা বিশাল শক্তির মৃদু বহিঃপ্রকাশ এবং এটি দেশে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি দ্রুত বাড়িয়ে তুলছে। কিন্তু উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প হলে যে ধরনের বড় ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, তা সামাল দিতে সরকারের কোনো প্রস্তুতি নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর মাঝেও ভূমিকম্প সহনীয় বাস্তবায়নে আগ্রহ নেই।

গত বছরের ২১ ও ২২ নভেম্বর কয়েক দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার প্রেক্ষিতে ২৪ নভেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে দেশের শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে জরুরি সভা ডাকা হয়েছিল। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বিশেষজ্ঞদের আহ্বান জানান, তারা যেন স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সরকারের করণীয় সম্পর্কে লিখিত পরামর্শ দেন। পরে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা কিছু সুপারিশ সরকারের কাছে পাঠালেও তা বাস্তবায়নে আর কোনো উদ্যোগ বা তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি।

এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি উদ্বেগ রয়েছে সরকারের মন্ত্রীদের মধ্যেও। গত সোমবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ‘দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন ও নগর স্বাস্থ্য’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ মেগা সিটিতে বড় ভূমিকম্প হলে শুধু জানমালের ক্ষতিই হবে না, রাজধানীকেন্দ্রিক দেশের সামগ্রিক সেবা ব্যবস্থাও ভেঙে পড়তে পারে। দেশে বিদ্যমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ও স্থায়ী নির্দেশনায় (এসওডি) দুর্যোগকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ও বাধ্যবাধকতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। এ বিষয়ে দ্রুত আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা জরুরি।

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির উদাহরণ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রানা প্লাজা ছিল ১০ তলা ভবন। সেই ভবন ধসের পর এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং আড়াই হাজার মানুষ আহত হয়। আল্লাহ না করুন, ঢাকার মতো মেগা সিটিতে যদি ১০০-২০০ ভবন ধসে পড়ে, তাহলে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে তা কল্পনা করা কঠিন।

ভূমিকম্পে এখানকার হাসপাতালগুলো ধসে পড়তে পারে, বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলে উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

একই অনুষ্ঠানে ইউনিসেফ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান মালালাই আহমাদজাই বলেন, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত রাখা বিশেষ জরুরি। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার মহিউদ্দীন আল হেলাল বলেন, দুর্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জাতীয় তালিকা থাকা খুবই দরকার।

এদিকে দেশে ঘন ঘন স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। গত ১২ জুন রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বেশকিছু এলাকায় ৪ দশমিক ৫ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। এতে ক্ষয়ক্ষতি না হলেও চারদিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আগারগাঁওয়ের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে এই উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ছিল উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ২৯০ কিলোমিটার (কিমি); ভারতের আসাম রাজ্যের শিলচর এলাকায়, যা সিলেট সীমান্তের কাছাকাছি।

এর আগে গত ৭ জুন রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে রাজধানী ঢাকা, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, গাইবান্ধা, নীলফামারী, সৈয়দপুর, বগুড়া, শেরপুরসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ভূকম্পন অনুভূত হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভুটানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পুনাখার ১৫ কিমি পশ্চিম উত্তর-পশ্চিমে। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ৪৩২ কিমি। তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৬ মাত্রা। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিমি গভীরে।

তারো আগে ২৬ মে বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ময়মনসিংহের ভালুকা। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৪।

গত বছরের শেষদিকে ১৩ দিনের ব্যবধানে পঞ্চমবারের মতো ভূমিকম্প হয়। ওই বছরের ২১ নভেম্বরে হওয়া ভূমিকম্পে নরসিংদীতে পাঁচজন নিহত হয়েছিল, আহত হয়েছিল শতাধিক। ক্ষতিগ্রস্ত হয় শতাধিক সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। ওইদিনের ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭ । এটাই দেশে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় মাত্রার ভূমিকম্প।

এর আগে ২০২৩ সালের ৫ মে সকালে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের হিসাব অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার কাছে বিক্রমপুরের দোহার থেকে প্রায় ১৪ কিমি উত্তর-পশ্চিমে। এই ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিমি গভীরে। এই ভূমিকম্পের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, উৎপত্তিস্থল ঢাকা শহরের খুব কাছে এবং ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি।

ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, ভূমিকম্পটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিমি গভীরে হওয়ায় এ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত।

ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক রুবাইয়াৎ কবীর আমার দেশকে বলেন, এ ধরনের মৃদু ভূমিকম্প প্রতিনিয়ত বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে হয়ে থাকে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু নেই। তবে রুবাইয়াৎ কবীরের এই মতের সঙ্গে একমত নন দেশের শীর্ষস্থানীয় ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি দেশি-বিদেশি গবেষকদের সমন্বয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণায়ও বাংলাদেশ ভয়াবহ বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।

এ প্রসঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় ভূমিকম্প ও ভূতত্ত্ব প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী আমার দেশকে বলেন, আমরা বড় ধরনের ভূমিকম্প ঝুঁকির কথা বলে আসছি। সরকার তো তা শুনছে না, কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এমতাবস্থায় বড় মাত্রার কোনো ভূমিকম্প হলে ম্যাসাকার হয়ে যাবে, দেশের বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যাবে। ফলে সরকারের উচিত এ বিষয়ে এখনই যথাযথ ভূমিকা নেওয়া।

তিনি বলেন, ১০০-১৫০ বছরের মধ্যে এ অঞ্চলে বড় কোনো ভূমিকম্প হয়নি। ফলে ছোট ছোট ঝাঁকুনিগুলোকে সাধারণ বিষয় মনে হলেও আমাদের বড় বিপদের পূর্বাভাস দিচ্ছে।

২০২৩ সালের তুরস্কের ভূমিকম্পের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ৫৩ হাজার ৫০০ মানুষ মারা গেছে, যাদের বেশিরভাগই ভবন ধসে মারা যান। একইভাবে, আমরা যদি ২০১০ সালের হাইতির ৭ মাত্রা এবং চিলির ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের দিকে ফিরে তাকাই, তাহলে দেখতে পাব যে, হাইতিতে দুর্বলভাবে নির্মিত ভবনের কারণে প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল, যেখানে চিলিতে মাত্র ২৮০ জন মারা যায়। যদিও চিলির ভূমিকম্পটি হাইতির ভূমিকম্পের চেয়ে ৮০০ গুণ বেশি শক্তি নির্গত করেছিল।

তিনি আরো বলেন, অদূর ভবিষ্যতে যেকোনো সময় বাংলাদেশে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হতে পারে। বাংলাদেশে একটি সম্ভাব্য ভূমিকম্পের প্রভাব কমাতে আমাদের অবিলম্বে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমাধান করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অবশ্যই শহরগুলোর বিদ্যমান ভবনগুলোর কাঠামোগত মূল্যায়ন করতে হবে এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধের ক্ষমতার ভিত্তিতে সেগুলোকে দুর্বল (লাল), মাঝারি দুর্বল (হলুদ) এবং তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী (সবুজ) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করতে হবে। এই শ্রেণিবিন্যাস কেন্দ্রীয় ও নগর কর্তৃপক্ষকে জরুরিভিত্তিতে রেট্রোফিটিং প্রয়োজন, যা এমন ভবনগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা দিতে সাহায্য করবে। এটি ব্যাংকগুলোকে যথাযথ নথিপত্রের ভিত্তিতে রেট্রোফিটিংয়ের জন্য ঋণ প্রদানেও সক্ষম করবে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে গত ১০ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০টি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ভবনের রেট্রোফিটিংয়ের জন্য একই ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। এছাড়াও সম্ভাব্য বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তিনি আরো আটটি পরামর্শ দিয়েছেন।

বাড়ছে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি

বাংলাদেশ মূলত তিনটি গতিশীল টেকটনিক প্লেটের (ইন্ডিয়ান প্লেট, ইউরেশিয়ান প্লেট এবং বার্মা মাইক্রোপ্লেট) সংযোগস্থলে অবস্থিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্ডিয়ান প্লেটটি প্রতিবছর উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ৪-৫ সেন্টিমিটার গতিতে ইউরেশিয়ান প্লেটের নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। এই দুই প্লেটের সংযোগস্থলে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো বড় ভূমিকম্প না হওয়ায় সেখানে বিপুল পরিমাণ ‘লকড এনার্জি’ বা ভূগর্ভস্থ চাপ জমা হয়ে আছে।

বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা জানান, একটি বড় ভূমিকম্পের পর সেই ফল্টলাইনে আবার শক্তি জমা হতে কয়েকশ বছর সময় লাগে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘রিটার্ন পিরিয়ড’ বলা হয়। আমাদের এই অঞ্চলে গত ১০০-১৫০ বছরের মধ্যে আট বা তার বেশি মাত্রার কোনো মহাবিপর্যয়কারী ভূমিকম্প হয়নি। ফলে পরিসংখ্যান ও ভূতাত্ত্বিক অবস্থান—উভয় দিক থেকেই একটি বড় ভূমিকম্পের সময় ঘনিয়ে এসেছে।

তারা আরো জানান, একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশে কম্পন অনুভূত হলে তার উৎপত্তিস্থল বা এপিসেন্টার থাকতো ভারতের আসাম, মিয়ানমার কিংবা নেপালে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোর প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল এখন দেশের ভেতরেই বেশি তৈরি হচ্ছে। সিলেট, চট্টগ্রাম, এমনকি ঢাকা ও এর আশেপাশের জেলাগুলোও সাম্প্রতিক সময়ে ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, দেশের অভ্যন্তরের ফল্টলাইনগুলো (ডাউকি ফল্ট ও ইন্দো-বার্মা সাবডাকশন জোন) অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

ভূমিকম্পের তীব্রতা বাড়াতে মাটির গঠন একটি বড় ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ মূলত পলিমাটি দিয়ে গঠিত একটি বদ্বীপ। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, দূরবর্তী কোনো ফল্টলাইনেও যদি বড় কম্পন হয়, তবে এই নরম মাটির কারণে কম্পনের তীব্রতা কয়েকগুণ বেড়ে যায়, যাকে ‘সাইট অ্যাম্প্লিফিকেশন’ বলা হয়। ফলে সাত মাত্রার একটি ভূমিকম্পও বাংলাদেশের নরম মাটির কারণে আট মাত্রার সমপরিমাণ ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘ভূমিকম্প নিজে মানুষ মারে না, মানুষ মারা যায় অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারণে।’ এই চিরন্তন সত্যটিই এখন ঢাকার জন্য সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ। একটি বড়মাত্রার ভূমিকম্প হলে রাজধানী ঢাকার অবস্থা কী হবে, তা অকল্পনীয়। রাজউকের বিল্ডিং কোড না মেনে তৈরি করা হাজার হাজার বহুতল ভবন, অপরিসর রাস্তা এবং ঘিঞ্জি বসতির কারণে ঢাকা এখন কার্যত একটি ডেঞ্জার জোনে পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সাত বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হলে পুরান ঢাকা এবং নতুন ঢাকার দুর্বল ভবনগুলো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। রাস্তা সরু হওয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিস বা উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সুযোগই পাবে না। বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং পানির লাইন ফেটে তৈরি হবে আরেক মানবিক বিপর্যয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক হুমায়ুন আখতারের মতে, এর আগে যেসব ভূমিকম্প লক্ষ্য করা গেছে, সেগুলো ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৩৫-৪০ কিমি গভীরে উৎপত্তি হয়েছে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলো অপেক্ষাকৃত অনেকটাই অগভীর।

সরকারি বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ বিরোধীদলীয় এমপিদের

পলাতক ৫৭ পুলিশ কর্মকর্তার অবস্থান শনাক্তের প্রক্রিয়া শুরু

ভাইরাল হওয়ার নেশায় বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা

সিন্ডিকেটের কারসাজিতে চালের বাজারে অস্থিরতা

দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় থমকে গেছে বিশ্বমানের চিকিৎসার স্বপ্ন

আলোর মুখ দেখতে পারে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল

বেনজীর গ্রেপ্তারে আ.লীগে আতঙ্ক

কুখ্যাত বেনজীর দুবাইয়ে গ্রেপ্তার

পাঠ্যবই মুদ্রণে এনসিটিবিতে ফের সক্রিয় আওয়ামী সিন্ডিকেট

দুই দেশের বিবৃতিতে রহস্যময় ফারাক