হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

ডেঙ্গু ছড়িয়েছে ৬৪ জেলায় বাড়ছে প্রাণহানি

আজ বিশ্ব মশা দিবস

গোলাম মোস্তফা

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীসহ সারা দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণ। ডেঙ্গুর ভয়াবহতায় প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে রোগীর চাপ। সংশ্লিষ্টদের মতে, কার্যকর মশকনিধন কর্মসূচির অভাব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং জনসচেতনতার ঘাটতিতে পরিস্থিতি দিনদিন আরো উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ২৬ হাজারের বেশি মানুষ। মৃতদের মধ্যে শূন্য থেকে ৩০ বছর বয়সি ৩১ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ১৫.৮ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সি। অন্যদিকে আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সিরা। এ বয়সি আক্রান্তের সংখ্যা ৩৬৫৫, যা মোট আক্রান্তের ১৩.৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সি ৩৬৩৭ জন এবং ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সি ৩৪৬৫ জন ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসময় ডেঙ্গু মৌসুমি রোগ হিসেবে বর্ষাকালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ চিত্র বদলে গেছে। এডিস মশার জীবনচক্রের পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জমে থাকা পানি এবং দুর্বল মশকনিধন ব্যবস্থাপনার কারণে এখন সারা বছরই ডেঙ্গুর ঝুঁকি থাকছে। শুধু রাজধানী নয়, দেশের ৬৪ জেলাতেই ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটেছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়লেও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ রয়ে গেছে। মশকনিধন কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত, সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনস্বাস্থ্য সংকট আরো গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুর একাধিক ধরন থাকায় রোগীর জটিলতা ও মৃত্যু বাড়ছে। এডিস মশার আচরণ ও লক্ষণে পরিবর্তন এসেছে। মশা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে তার ধরণও বদলে ফেলেছে। তাই আগামী অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রভাব সারা দেশে থাকবে।

তাই আজ ‘বিশ্ব মশা দিবস’ উপলক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ সরকারি-বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসাবিজ্ঞানী স্যার রোনাল্ড রস ১৮৯৭ সালের ২০ আগস্ট অ্যানোফিলিস মশাবাহিত ম্যালেরিয়া রোগের কারণ আবিষ্কার করেছিলেন। এ আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পান তিনি। তাকে সম্মান জানাতেই ১৯৩০ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মূল্য উদ্দেশ্য হচ্ছে, মশা ও মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা।

মশাবাহিত রোগ

চিকিৎসকরা জানান, বিশ্বে মশার প্রজাতি রয়েছে সাড়ে তিন হাজারের বেশি। যদিও এর মধ্যে মাত্র কয়েকটি প্রজাতির মশা মানুষকে কামড়ায়।

বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১২৩ প্রজাতির মশা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণ ঘটায় এডিস মশার দুটি প্রজাতি। যার একটি হলো এডিস ইজিপ্টি, আরেকটি অ্যালবোপিকটাস। এছাড়া কিউলেক্স নামে একধরনের মশা রয়েছে। তবে দেশে মশাবাহিত রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো— ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া ও জাপানিজ এনসেফালাইটিস।

এডিস মশার ঝুঁকি

ডেঙ্গুর সেরোটাইপ বা চারটি ধরন (ডেন-১, ২, ৩ ও ৪) রয়েছে। একজন মানুষ ডেঙ্গুর একটি স্ট্রেইন দিয়ে আক্রান্ত হলে একই টাইপ দিয়ে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই। তবে অন্য যেকোনো টাইপ দিয়ে তার দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু আক্রান্ত হতে পারে। আর কেউ প্রথমবার আক্রান্ত হলে অবস্থা এত গুরুতর হয় না। কিন্তু দ্বিতীয়বার যখন ডেঙ্গুজ্বরে সংক্রমিত হয়, তখন তার প্রথমবারের তুলনায় মৃত্যু ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক নমুনা বিশ্লেষণেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর সেরোটাইপের ভিন্নতা ধরা পড়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় একেক ধরনের সেরোটাইপের উপস্থিতি পেয়েছেন তারা। গত চার বছর ধরে দেশে ডেঙ্গুর প্রধান সেরোটাইপ ছিল ডেন-২। তবে চলতি বছর ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি এলাকায় ডেন-৩ সেরোটাইপের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

রাজধানীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৭১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ৯১.৫ শতাংশের শরীরে ডেন-৩ এবং ৮.৫ শতাংশের ক্ষেত্রে ডেন-২ সেরোটাইপ পাওয়া গেছে। নতুন এ সেরোটাইপের বিস্তারের কারণে এবার ডেঙ্গু আক্রান্তদের গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এ প্রসঙ্গে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন আমার দেশকে বলেন, বিগত সময়ে দেখা গেছে, দেশে ডেঙ্গুর ডেন-২-এর আধিপত্য ছিল। ফলে অনেক মানুষের শরীরে ওই সেরোটাইপের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। কিন্তু এখন ডেন-৩ বেশি ছড়ালে সে অ্যান্টিবডি সুরক্ষা দিতে পারবে না। ফলে এবার মৃত্যুঝুঁকির আশঙ্কা বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ, মশার কামড় থেকে সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। আর কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে দ্রুত শনাক্ত করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া, দরিদ্র রোগীদের সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

২৪ ঘণ্টায় দুজনের মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরো দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৭১ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ২৬ হাজার ২৭২ জন। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুজন, ফেব্রুয়ারিতে দুজন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর মৃতদের মধ্যে ৫৮.১ শতাংশ নারী এবং ৪১.৯ শতাংশ পুরুষ ।

হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প, সংসার চালাতে পেশা বদলাচ্ছেন শিল্পীরা

নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামবৃদ্ধি, রামগঞ্জে চরম বিপাকে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা

স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ৩৮৪৯ টাকা

ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজব হত্যায় ইসরাইলি তদন্ত প্রত্যাখ্যান পরিবারের

জ্বালানি সংকটে রপ্তানি খাতে বড় ধাক্কা, ৬৩ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য চ্যালেঞ্জে

টানা চতুর্থ সপ্তাহেও বক্স অফিসের শীর্ষে স্পাইডার-ম্যান

নবজাতক কন্যাকে দেখে ফেরার পথে সড়কে প্রাণ গেল বাবার

দখল ও অবকাঠামো সংকটে চরমভাবে ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

সরকারিভাবে ব্রুনাইয়ে ১৭২ জনের চাকরি, বেতন ১০০০ ডলার

কৃষিতে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, এগিয়েছে তিন বড় উদ্যোগ