হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে চাপ বাড়াতে চায় ১১ দলীয় ঐক্য

রকীবুল হক

জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ফের সোচ্চার হচ্ছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য। আজ বুধবার থেকে ঘোষিত সভা-সমাবেশ, মতবিনিময়, দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি নিয়ে একটানা ৩৬ দিন মাঠে থাকবে জোটটি। এছাড়া আলাদাভাবেও ব্যাপক কর্মসূচি পালন করবে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) শরিক দলগুলো।

ছাত্র ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোও সক্রিয় থাকবে মাঠে। ইসলামী ছাত্রশিবির ইতোমধ্যে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে জাগ্রত করা, গণহত্যার বিচার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের রায় কার্যকরে সরকারকে চাপ বাড়াতে চায় তারা। এমনকি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করতে প্রয়োজনে আরো কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আমার দেশকে বলেন, আমাদের মূল টার্গেট জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। এজন্য ১১ দলীয় ঐক্যের পাশাপাশি জামায়াতের পক্ষ থেকেও কর্মসূচি দিয়ে আমাদের দাবিকে জোরদার ও সরকারকে চাপ সৃষ্টি করা হবে। অন্য দলগুলোও জোটের পাশাপাশি আলাদা কর্মসূচি পালন করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

১১ দলীয় ঐক্যের ৩৬ দিনের কর্মসূচি শুরু আজ

গত ২৫ জুন লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলন করে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে ১১–দলীয় ঐক্য। লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এই ঘোষণা দেন।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-১ থেকে ১৫ জুলাই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সব জেলা ও মহানগরীতে সেমিনার, ৬ জুলাই জাতীয় সংসদের সামনে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে মানববন্ধন এবং স্পিকারকে স্মারকলিপি পেশ, ৮ জুলাই রাজধানীতে জাতীয় সেমিনার, ২০ জুলাই নারীদের অংশগ্রহণে রাজধানীতে আলোচনা সভা, ২৩ থেকে ২৫ জুলাই চিত্রপ্রদর্শনী, ৩১ জুলাই সারা দেশের মসজিদগুলোতে দোয়া ও অন্যান্য ধর্মমতের অনুসারীদের নিজ নিজ উপাসনালয়ে প্রার্থনা এবং ৫ আগস্ট রাজধানীসহ সারা দেশে উপজেলা পর্যন্ত সমাবেশ। এ ছাড়া রাজধানীসহ সারা দেশে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিবিজড়িত ঘটনাস্থলে স্মৃতিচারণামূলক সমাবেশ এবং সারা দেশে গ্রাফিতি অঙ্কন করবে ১১ দল।

এর পাশাপাশি আগের ঘোষণা অনুযায়ী চলমান বিভাগীয় সমাবেশও অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১১ জুলাই রংপুর, ১৮ জুলাই বরিশাল ও ২৫ জুলাই সিলেটে সমাবেশ করবে জোটটি। এছাড়া পূর্বঘোষিত ৪ জুলাইয়ে রাজধানী বাদে সারা দেশে গণমিছিল হবে।

জামায়াতের মাসব্যাপী কর্মসূচি

জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান, জুলাইয়ের খুনি ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত করা এবং শহীদ ওসমান বিন হাদির খুনিদের বিচার দাবিতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত এসব কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

গতকাল সংবাদ সম্মেলন ও জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে জামায়াতের কর্মসূচি শুরু হয়। অন্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—২ থেকে ৯ জুলাই রাজধানীতে জুলাই শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়, জুলাই স্মৃতিবিজড়িত স্থানে স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান; ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’উপলক্ষে ঢাকার দুই মহানগরের উদ্যোগে আলোচনা সভা; ১৮ থেকে ৩১ জুলাই সারা দেশে জুলাই শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়, জুলাই স্মৃতিবিজড়িত স্থানে স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান।

এছাড়া ১ আগস্ট সারা দেশে গণমিছিল (মহানগর, জেলা/উপজেলা পর্যায়ে), ২ থেকে ৪ আগস্ট শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে কর্মসূচি পালন এবং ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে ১১ দলের উদ্যোগে রাজধানীসহ দেশের জেলা, মহানগর ও উপজেলায় সমাবেশ ও মিছিলে ১১ দলের কর্মসূচির প্রতি সমর্থন ও অংশগ্রহণ করবে জামায়াত।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বলে বিএনপি সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে। আসলে তারা মৌলিক ১০টি বিষয়ে দেয়া নোট অব ডিসেন্টের বিষয়গুলো বাদ দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিল আনতে চান। অথচ গণভোটে প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দিয়ে নোটঅব ডিসেন্ট খারিজ করে দিয়েছে। তাই জনগণকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তিতে না ফেলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

৩৬ দিনের কর্মসূচি এনসিপির

জুলাই বিপ্লব স্মরণে 'দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’শীর্ষক ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) । গত সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। আজ বুধবার রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ৫ আগস্ট বিজয় উল্লাসের মধ্য শেষ হবে ৩৬ দিনের এ কর্মসূচি।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই একটি অনন্য অধ্যায়। এই ঐতিহাসিক মাসকে যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ এবং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা নতুন প্রজন্ম ও দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মাসব্যাপী এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ১ জুলাই রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে কবর জিয়ারত, ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর সংহতি সভা এবং উপজেলা পর্যায়ে মাসব্যাপী পদযাত্রার রোডম্যাপ ঘোষণা; ২ থেকে ৮ জুলাই দেশব্যাপী গ্রাফিতি, দেয়াল লিখন ও ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে ‘জুলাই জাগরণ’কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া ফুটবল টুর্নামেন্ট, নারী সমাবেশ, কৃষকদের প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা, কফিন মিছিল, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্যান্স ডেসহ উত্তরার রক্তাক্ত জুলাই, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভূমিকা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদান, আহতদের স্মৃতিচারণ, যুব কনভেনশন, শ্রমিক সমাবেশসহ মাসজুড়ে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। পাশাপাশি এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে প্রবাসেও মাসব্যাপী কর্মসূচি চলবে।

দলটির নেতারা জানান, মাসব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদদের অবদান স্মরণ, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং দেশ গঠনের অঙ্গীকার আরো সুদৃঢ় করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

ঢাকা মহানগর জামায়াতের কর্মসূচি

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে মাসব্যাপী আলাদা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির উপস্থিতিতে সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

তাদের কর্মসূচিতে রয়েছে-আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের জন্য দোয়া, আলোচনা সভা; শহীদদের কবর জিয়ারত; শহীদ পরিবার ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ; জুলাই বিপ্লবের মূল উদ্দেশ্য ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সেমিনার/সিম্পোজিয়াম, শহীদ আবু সাঈদের স্মরণে আলোচনা সভা; ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান; এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ, মেডিকেল ক্যাম্প ও রক্তদান কর্মসূচি; মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দোয়া অনুষ্ঠান। এছাড়া শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা; শাহাদাতবরণের স্পর্টভিত্তিক সমাবেশ এবং আগস্টে গণমিছিল হবে । কালচারাল বিভাগের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী নাট্য উৎসব ও প্রচার বিভাগের উদ্যোগে প্রকাশিত হবে জুলাই বিপ্লবের বুলেটিন।

এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের পক্ষ থেকে শাখা আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন কর্মসূচি ঘোষণা দেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন; শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা; শাহাদাতের ঘটনাস্থলভিত্তিক আলোচনা সভা ও চিত্র প্রদর্শনী; বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানকে স্মরণ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সমাবেশ; দোয়া মাহফিল; ওলামা, শ্রমিক ও মহিলা সমাবেশ এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে ঐতিহাসিক গণমিছিল।

দুর্যোগে ত্রাণ পৌঁছাতে তেজগাঁও বিমানবন্দরে হবে লজিস্টিক হাব

কেঁদে কেঁদে দিন কাটে রামিসা হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্বপ্নার

ধর্ষণের ঘটনা বারবার বলতে হয় ভিকটিমদের

বাবা-মা খুনে দণ্ডিত ঐশী এখন কারাগারের লাইব্রেরিয়ান

ওয়াসার পানি শোধন প্রকল্পে লুটপাট, বন্ধ দুর্নীতির তদন্ত

গাছের আড়ালে ঢাকা পড়েছে ইসির আড়াই কোটি টাকার সিসিটিভি

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে পতন, দেশে সুফল মিলবে কবে

দালাল-সিন্ডিকেটের দখলে মিটফোর্ড হাসপাতাল

অন্তহীন ভোগান্তিতে চিকিৎসাসেবা ম্লান ঢামেক হাসপাতালে

বিনিয়োগ সহযোগিতাসহ ১৩ সমঝোতা স্মারক সই