* ৩১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প
* আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অলিগার্ক শ্রেণির তৎপরতা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা
ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং পুরোনো অলিগার্ক শ্রেণির বাধাসহ নানামুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ৩১ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজ পাওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যেও প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বিরোধও দেখা দিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে উচ্চমূল্যের পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি কমে যাবে—এ আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অসহযোগিতা ও বাধার আলামত পাচ্ছেন বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এরই মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে কনসালটেন্ট নিয়োগে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া এবং কারিগরি ও মূল্যায়ন কমিটির দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে জ্বালানি তেলের বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ টন থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ টনে দাঁড়াবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশেন (বিপিসি) সূত্র আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ও দেশে জ্বালানি তেলসহ পেট্রোলিয়াম-জাতীয় পদার্থের নিরাপদ মজুত নিশ্চিত করতে তেল শোধনাগারের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের বিকল্প নেই বলে মনে করেন দেশের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলেন, বেসরকারি খাতের অলিগার্ক শ্রেণির অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ ও উচ্চমূল্যের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের বাধার মুখে গত দেড় দশকেও ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হয়নি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলেও অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও উৎপাদন কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি সাশ্রয়ী মূল্যের ক্রুড অয়েলের পরিশোধন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারলে দেশ ও জাতির জন্য এটি আশীর্বাদ হবে বলেও জানান তারা।
সরকারের নীতিনির্ধারকসহ প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। অনেক বাধাবিপত্তির পর এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করতে পারা সরকারের জন্য পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন তারা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট (পিএমসি) নিয়োগ করা হবে। ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে প্রকল্পের নকশা ও মুল কাজের ঠিকাদার (ইপিসি) নিয়োগ ও সেপ্টেম্বরের দিকে রিফাইনারির নির্মাণকাজ শুরু করতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। ইতঃপূর্বে এ ধরনের প্রকল্প নিয়েও যাদের কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা যায়নি, তাদের চিহ্নিত করাসহ দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ খাতসংশ্লিষ্টদের। আগের সরকারগুলোর ব্যর্থতার কারণ উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারলে এ প্রকল্প আবারও ভেস্তে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।
শোধনাগার সম্প্রসারণে বারবার বাধা
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, বিভিন্ন দেশ থেকে বছরে ৭০-৭৪ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে প্রায় লাখ টনই উচ্চমূল্যের পরিশোধিত তেল। অবশিষ্ট মাত্র ১৪-১৫ লাখ টন ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি করে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রিফাইনারির মাধ্যমে পরিশোধন করে সরবরাহ করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে রেকর্ড ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলার (এক লাখ কোটি টাকার বেশি) ব্যয় হয়েছে। এটি দেশের মোট পণ্য আমদানির ১৪ শতাংশের বেশি।
দেশে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান চাহিদার আলোকে ২০১০ সালে ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণ এবং এর দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এগোয়নি। এ বিষয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, অন্তত ১০ বার প্রকল্পটির ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সংশোধন করা হয়। তহবিল সংকট, বারবার নকশা পরিবর্তন, পরামর্শক নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় ফাইল আটকে থাকার মতো আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখেনি।
উচ্চমূল্যের পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি হচ্ছে প্রায় ৮০ শতাংশ। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, এর অর্ধেক উন্মুক্ত বাজার (স্টক মার্কেট) থেকে আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে সরকার টু সরকার চুক্তির মাধ্যমে আমদানি করা হচ্ছে। এতে বিশাল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হচ্ছে। প্রকল্পটি না এগোনোর জন্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম আমার দেশকে বলেন, এ আমদানি প্রক্রিয়ার সঙ্গে গত ১৫-১৬ বছরে আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বয়ে বিশাল সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। এ সিন্ডিকেটই মূলত শোধনাগার সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিজস্ব মজুত বাড়ানোর পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনেক দেরিতে হলেও বেসরকারি খাতের অলিগার্ক শ্রেণির কবল থেকে বেরিয়ে এসে সরকার নিজ উদ্যোগে জাতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি এ মুহূর্তের জন্য সাহসী সিদ্ধান্ত।
ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ইস্টার্ন রিফাইনারির সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেন, ১৯৬৮ সালে তৈরি এ প্রতিষ্ঠানটি গত ৫৮ বছরেও সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন না করাটাই ছিল জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রকল্পটির কার্যক্রম শেষ করা এখন সরকারের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জের। এখানে সরকারের ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
কনসালটেন্ট নিয়োগ নিয়ে আপত্তি
শোধনাগার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার ‘মডার্নাইজেশন অ্যান্ড এক্সপানশন অব ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)’ নামে ৩১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। বিদেশ থেকে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত জ্বালানি তেল) আমদানি করে এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শোধন করে ডিজেল, পেট্রোল, কেরোসিন, অকটেন ও জেট ফুয়েল উৎপাদন করে দেশীয় চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে এ প্রকল্প নেওয়া হয়।
এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ‘প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট’ নিয়োগের জন্য গত ২৮ জুন আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২০ জুলাই এ দরপত্র উন্মুক্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক এ দরপত্রে বিভিন্ন দেশের ২৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। দরপত্রগুলো যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়ন করে সুপারিশ পেশ করার জন্য আট সদস্যের টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়।
আন্তর্জাতিক দরপত্রে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের ২৩ প্রতিষ্ঠান থেকে কারিগরি ও মূল্যায়ন কমিটি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দরপত্রে অংশ নিয়েও বাদ পড়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সুরবানা জুরগ ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি সুপারিশ ও মূল্যায়ন কমিটির সক্ষমতা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে জ্বালানি বিভাগে চিঠিও দিয়েছে। এটির অনুলিপি ঢাকায় অবস্থিত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনকে দেওয়া হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। কমিটির কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে কনসালটেন্ট নিয়োগের বাছাই প্রক্রিয়া যথাযথ হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের। তবে সরকারের নীতিনির্ধারক ও বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, অতীত অভিজ্ঞ ও অন্যান্য দক্ষতা বিবেচনা করে সময়োপযোগী কমিটি করা হয়েছে। এতে বুয়েটের শিক্ষকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদেরও অংশগ্রহণ ছিল।
প্রকল্প ব্যয় কমেছে
প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ২০১০ সালে ইআরএলের দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেয় পতিত আওয়ামী লীগ সরকার। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি স্থগিত করে উচ্চমূল্যের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির দিকে ঝোঁকে ওই সরকার। দ্বিতীয়বার বিপিসি ২০২২ সালে নিজস্ব অর্থায়নে ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। পরের বছর সরকার এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন থেকে সরে এসে বেসরকারি খাতের ব্যাংক দখলকারী হিসেবে চিহ্নিত এস আলমকে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়। এস আলম গ্রুপ এ প্রকল্পের ব্যয় ৪০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করলে জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পাশাপাশি এস আলম গ্রুপের মালিকও পালিয়ে যায়। অন্তর্বর্তী সরকার এস আলম গ্রুপের ওই ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাতিল করে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে একনেকের সভায় ৩১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয় বলেও জানান জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যবহার ছিল প্রায় ৬৭ লাখ ৩০ হাজার টন। এর মধ্যে ইআরএল পরিশোধন করেছে প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার টন। বাকি ৫০ লাখ টনের বেশি পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে হয়েছে।
ইআরএল-২ চালু হলে দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় অর্ধেক স্থানীয়ভাবে পরিশোধনের সক্ষমতা হবে। পাশাপাশি ইউরো-৫ মানের পেট্রোল ও ডিজেল উৎপাদন করা যাবে। নতুন ইউনিটে বছরে প্রায় চার লাখ টন ফার্নেস অয়েল, ৬০ হাজার টন এলপিজি, ছয় লাখ টন পেট্রোল, ১১ লাখ টন ডিজেল, দুই লাখ টন লুব বেজড অয়েল এবং প্রায় পাঁচ লাখ টন জেট ফুয়েল উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান কর্মকর্তারা।
অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই বর্তমান সরকারও এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পক্ষে দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়। এটি বাস্তবায়ন করতে গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকার এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মধ্যে এক বিলিয়ন ডলারের চূড়ান্ত ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের পেট্রোলিয়ামজাতীয় পণ্যের চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ অভ্যন্তরীণভাবে পূরণ করা সম্ভব হবে। এতে প্রতি বছর প্রায় ৩৯৪ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে।
ইআরএল-২ থেকে আপগ্রেড করে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পাঁচ গ্রেডের পরিবেশবান্ধব তেল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এখান থেকে এলপিজি, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল, লুব বেজড অয়েলসহ প্রায় ১৫ ধরনের পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য তৈরি হবে বলেও জানান কর্মকর্তারা।
ইআরএল কর্মকর্তারা জানান, এটি চালু হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের তেলের পাশাপাশি রাশিয়াসহ অন্যান্য উৎস থেকেও ভারী ও মিশ্র ক্রুড অয়েল এনে সহজেই পরিশোধন করা যাবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের পরিকল্পনা
বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের তালিকার প্রথমেই এটি রয়েছে উল্লেখ করে প্রকল্প পরিচালক আছমা আরা বেগম আমার দেশকে বলেন, ইআরএলের মাধ্যমে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার মাত্র ২০ ভাগ পূরণ করা সম্ভব হয়। অবশিষ্ট ৮০ ভাগ পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্য বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হয়। পেট্রোলিয়াম-জাতীয় পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেলে কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম কমে গেলেও একটির অধিক রিফাইনারি ও প্লান্ট না থাকায় জ্বালানি তেল আমদানি করে মজুত করা সম্ভব হয় না। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জ্বালানি বিভাগের বিশেষ তদারকির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রকল্প পরিচালক এ বিষয়ে বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়, পেট্রোলিয়াম-জাতীয় পণ্যের সংরক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে জাতীয় স্বার্থে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য উদোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ইআরএল আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে নেওয়া প্রকল্পটি আমাদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। নিজস্ব সক্ষমতা বাড়িয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প আমাদের সামনে নেই। সরকার দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের জায়গা থেকেই এটি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।