হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

৪৩ জেলায় ৭০০০ কিমি ঘুরে নির্বাচনি প্রচার জামায়াত আমিরের

রকীবুল হক

দেশব্যাপী নির্বাচনি সফর শেষ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গত ২৩ জানুয়ারি পঞ্চগড় থেকে শুরু করা এই সফর ৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে সিলেটের জনসভার মধ্য দিয়ে। ঢাকার বাইরে একটানা ১৫ দিনে আটটি বিভাগের ৪৩টি জেলার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক বড় জনসভাসহ বেশকিছু পথসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের পক্ষ থেকে আয়োজিত জনসভা-পথসভাগুলোতে আগামী নির্বাচন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন জামায়াত আমির।

এসব জনসভা ঘিরে ঢাকা থেকে পর্যায়ক্রমে সাত হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ ঘুরেছেন ডা. শফিকুর রহমান। সময়কে সর্বোচ্চ পরিমাণ কাজে লাগাতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ পথ হেলিকপ্টারে এবং বাকিটা সড়ক পথে পাড়ি দিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে সুযোগমত ঢাকা-১৫ আসনে নিজের নির্বাচনি এলাকাতেও হেঁটে হেঁটে গণসংযোগ, জনসভা, পথসভা ইত্যাদি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন জামায়াতের দলীয় প্রধান। হার্টের চিকিৎসায় বড় ধরনের অপারেশনের মাত্র ৬ মাসের মাথায় ৬৭ বছর বয়সি এই নেতার অক্লান্ত তৎপরতার বিষয়টি সবাইকে বেশ আকৃষ্ট করেছে।

দলীয় সূত্র মতে, জামায়াত আমিরের এসব নির্বাচনি জনসভা ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও এলাকার সাধারণ ভোটারদের মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। এসব কর্মসূচিতে তিনি জামায়াত ও ১১ দলীয় প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করে দেশ পরিচালনার সুযোগ দিলে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেশের পরিবর্তনের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এই নির্বাচনে জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সংস্কারের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’-কে বিজয়ী করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত ন্যায়-ইনসাফের একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সৎ ও যোগ্য হিসেবে জামায়াত প্রার্থীদের দাঁড়িপাল্লায় এবং ১১ দলীয় অন্য শরিকদের মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিভিন্ন জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান জামায়াত জোট সরকার গঠনের সুযোগ পেলে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তরুণ ও যুবকদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা সংস্কারসহ নানা প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে প্রচার কাজের সময় জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর বিএনপির হামলার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, যারা একদিকে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখায় অন্যদিকে নারীদের ওপর হামলা চালায় তাদের হাতে দেশের নারীসমাজ নিরাপদ থাকতে পারে না।

নির্বাচনি জনসভাগুলোতে জামায়াত আমিরের দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য প্রতিদিনই গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে বেশ আলোচনায় থাকতে দেখা গেছে। তার অনেক বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপনের চেষ্টাও দেখা গেছে। বিশেষ করে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতা এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম প্রথম ‘উই রিভোল্ট’ বলেছিলেন, মর্মে দেওয়া জামায়াত আমিরের বক্তব্যকে কিছু গণমাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি নেতারাও সভা-সমাবেশে অভিযোগ করেন, জামায়াত আমির কর্নেল অলিকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে ইতিহাস বিকৃতি করেছেন। অবশ্য জামায়াতের প্রতিবাদের মুখে পরে সেই বিকৃত সংবাদের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম।

ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনি সফরকে অত্যন্ত সফল দাবি করে তার সফরসঙ্গী ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান আমার দেশকে বলেন, জামায়াত আমিরের সফর অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে। তিনি এই বয়সেও একজন যুবকের মতো সারাদেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন। আমি অনেক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়লেও তিনি ছিলেন অক্লান্ত। তার প্রতিটি জনসভায় গণজোয়ার দেখা গেছে। সবাই তাকে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন।

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে মিলবে যেসব সুফল

হাসিনার জালিয়াতির তিন নির্বাচন

১৯ দিনে তারেক রহমানের ৪৩ জনসভা

ভোট ডাকাতির পথপ্রদর্শক শেখ মুজিব

ঘরে বসেই যেভাবে জানবেন ভোটকেন্দ্র ও বুথের তথ্য

দুবার সংসদ নির্বাচন হয়েছিল যে বছর

কেমন ছিল ১২টি সংসদ নির্বাচন

ফল প্রকাশে নানা প্রস্তুতি ইসির স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম