হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

ঋণখেলাপি সংস্কৃতি উত্থানে চার কারণ

রোহান রাজিব

প্রতীকী ছবি

দেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণখেলাপির ঊর্ধ্বগতি অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের সতর্ক বার্তা হয়ে উঠেছে। বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই খেলাপিতে পরিণত হওয়ায় আর্থিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ পরিবেশ ও আমানতকারীদের আস্থা নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা নীতিগত দুর্বলতা, রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যাংকের এমডি ও চেয়ারম্যানের যোগসাজশে ঋণ বিতরণ এবং উদ্যোক্তা ও ব্যাংকারদের অদক্ষতা ঋণখেলাপির সংস্কৃতির উত্থান ঘটিয়েছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় ঋণ জালিয়াতিতে যুক্ত ছিল প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো। এ তালিকায় এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা ও বসুন্ধরা গ্রুপসহ ডজনখানেক গ্রুপের নাম রয়েছে, যেগুলো আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এসব গ্রুপকে অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ জামানত, প্রকল্প মূল্যায়ন কিংবা নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণ ছাড়াই ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়।

গত এক দশকে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রভাবশালী এ শিল্পগোষ্ঠীগুলো নামে-বেনামে বিপুল অঙ্কের ঋণ সুবিধা পেয়েছে। এসব গ্রুপের ঋণ পরিশোধের সময় এলেও তারা তা শোধ করেনি। উল্টো বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে তাদের ঋণখেলাপি থেকে মুক্ত রাখা হয়েছিল, যে কারণে খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, জুলাই বিপ্লবের পর আওয়ামী ঘনিষ্ঠ ও বহুল সমালোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হওয়া ব্যাংকগুলোর ঋণের প্রকৃত চিত্র বের হতে শুরু করে। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে একীভূত হওয়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। এসব ব্যাংকে বিদেশি অডিট ফার্মের মাধ্যমে সম্পদের মান নির্ণয় করা হয়েছে। এতেই খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। এর মধ্যে এক্সিম ছাড়া বাকি চার ব্যাংক ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। গ্রুপটি এসব ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে ঋণ তুলে নেয়, যা এখন ফেরত দিচ্ছে না। ফলে সেসব ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যতে খেলাপি হয়ে পড়বে এসব ব্যাংকের আরো ঋণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যখন ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক বিবেচনার বদলে রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া হয়, তখন খেলাপি হওয়া অবশ্যম্ভাবী।’

চেয়ারম্যান-এমডির যোগসাজশে কেলেঙ্কারি

ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের যোগসাজশে ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায়ও খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অতীতে একাধিক আলোচিত কেলেঙ্কারি ব্যাংকিং খাত নাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে হলমার্ক গ্রুপকে ঘিরে সোনালী ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি, বেসিক ব্যাংকের অনিয়ম, পদ্মা ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি এবং ব্যাংক খাতের আলোচিত এননটেক্স গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি ব্যাপক আলোচিত হয়। এসব ঘটনায় দেখা গেছে, ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়, যার বড় অংশ পরে খেলাপিতে পরিণত হয়।

বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বেসিক ব্যাংকের ঋণ প্রস্তাব কিংবা ঋণ অনুমোদনের বিষয়ে বোর্ডসভায় আলোচনা কম হতো। বোর্ডসভার আগের দিন রাতে কিংবা বোর্ডসভার দিন কার্যবিবরণী পরিচালকদের কাছে জমা দেওয়া হতো। বছরের পর বছর তাদের কিছুই জানতে না দিয়ে একক কর্তৃত্ববলে নামসর্বস্ব কোম্পানির ঋণ অনুমোদন দেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ফখরুল ইসলাম। জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকটির দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অপরদিকে একক গ্রাহকের ঋণসীমা লঙ্ঘন করে এননটেক্স গ্রুপকে বিপুল অঙ্কের ঋণ দেওয়া হয় ২০১২ সালে। বারবার সুদ মওকুফ ও ঋণ পরিশোধে বাড়তি সময় পাওয়ার পরও পরিশোধ করেননি গ্রাহক। ঋণ আদায়ে ২০১৯ সালে মামলা করার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। এর পরও আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে একের পর এক সুদ মওকুফ করা হয়। ঋণ বিতরণ এবং বারবার সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে যাবতীয় ব্যাংকিং নিয়মাচার লঙ্ঘন হয়েছে। ২০২২ সালের পর গ্রাহক এক টাকাও পরিশোধ করেননি। ওই সময়ে ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে ডাউন পেমেন্টের টাকাও পরিশোধ করেননি গ্রাহক। এর পরও ঋণ নিয়মিত দেখিয়ে গ্রাহককে অন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ অবারিত রাখা হয়।

সম্প্রতি মামলার পর ঢাকার একটি আদালত আদেশে বলেছে, যেসব কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা ও যোগসাজশের কারণে এননটেক্স গ্রুপের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে এত দেরি হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিয়ে আদালতকে অবহিত করতে হবে।

নীতিমালার শিথিলতা ও সংজ্ঞা পরিবর্তন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির ঘাটতির পাশাপাশি পুনঃতফসিল ও অবলোপনের মতো সুবিধা সহজলভ্য হওয়ায় ঋণ পরিশোধে অনীহা তৈরি হয়েছে, যে কারণে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সময় খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির আলোকে ব্যাংক খাত পরিচালিত হচ্ছিল। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিল ব্যবস্থা চালু হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন শিথিলতায় খেলাপি ঋণ কম দেখানো হচ্ছিল। এক্ষেত্রে কখনো ঋণ পরিশোধ না করেই নিয়মিত রাখা, নামমাত্র ডাউন পেমেন্ট দিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে পুনঃতফসিল কিংবা ভুয়া ঋণ নিয়ে দায় সমন্বয়ের সুযোগ দেওয়া হতো।

২০২২ সালের জুলাইয়ে আব্দুর রউফ তালুকদার গভর্নরের দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন নীতিমালায় ব্যাপক শিথিলতা এনে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগে একটি ঋণ পুনঃতফসিলে যেখানে ডাউন পেমেন্ট বাবদ ১০ থেকে ৩০ শতাংশ জমা দিতে হতো, সেখানে রউফ তালুকদারের নীতিমালায় ডাউন পেমেন্টের হার কয়েকগুণ কমিয়ে আড়াই থেকে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশে নামানো হয়। আগের নিয়মে একটি ঋণ সর্বোচ্চ তিন দফায় ৬০ মাসের জন্য পুনঃতফসিলের সুযোগ ছিল। তবে নতুন নিয়মে চার দফায় সর্বোচ্চ ২৯ বছরের জন্য পুনঃতফসিল করার সুযোগ দেওয়া হয়। এছাড়া একটি ঋণ পুনঃতফসিলের পর আগে যেখানে নতুন ঋণ নিতে বকেয়া স্থিতির অন্তত ১৫ শতাংশ জমা দেওয়ার বিধান ছিল, নতুন নিয়মে মাত্র ৩ শতাংশ দিলেই চলবে। সবক্ষেত্রে ঋণের পরিমাণ যত বেশি, তত ছাড় দেওয়া হয়। মূলত ব্যবসায়ীদের খুশি রাখতেই এসব পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

গত বছর আওয়ামী লীগ আমলে ব্যবসা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে বা মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু ও চাঙা করার উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দিয়েছে। এ ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১০ বছর। ঋণ নিয়মিত হলে শুরুতে দুই বছর ঋণ পরিশোধে বিরতি সুবিধা পাওয়া যাবে।

এছাড়া সম্প্রতি নতুন নীতিমালার মাধ্যমে ব্যাংকঋণের মান নির্ধারণে আবার আন্তর্জাতিক রীতি চালু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ঋণ পরিশোধ করা না হলে তা মেয়াদোত্তীর্ণ হিসেবে গণ্য হবে। এরপর অনাদায়ি হিসেবে ওই ঋণ ৯০ দিন অতিক্রম করলে খেলাপি হয়ে যাবে। আগে যেখানে ৯ মাস ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে খেলাপি দেখানো হতো, তা দুই ধাপে তিন মাসে নামিয়ে আনার কারণে অনেক ব্যবসায়ী এখন খেলাপি হয়ে পড়ছেন।

উদ্যোক্তা ও ব্যাংকারদের অভিজ্ঞতার অভাব

অদক্ষ উদ্যোক্তা ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের অভিজ্ঞতার অভাবও ঋণঝুঁকি বাড়িয়েছে। অনেক উদ্যোক্তা যথাযথ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ছাড়াই ঋণ নিয়েছেন, আবার কিছু ব্যাংকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ঘাটতির কারণে ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রক্রিয়া দুর্বল থেকেছে। ফলে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ঋণের আবেদনে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক ঠিকানা এবং কী ব্যবসা করে বা কত দিন ধরে করছে, এর কোনো তথ্য নেই। শুধু নাম আর কত টাকা ঋণ দরকার, তা উল্লেখ করে অখ্যাত অনেক প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেন ব্যাংক কর্মকর্তরা। আবার যে উদ্যোক্তা ঋণ নিচ্ছেন, তিনি তার ব্যবসার জন্য কত ঋণ প্রয়োজন সে বিবেচনা না করেই বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে ফেলেন। এতে এক সময় গিয়ে ব্যবসায় লোকসান হয়। ফলে ব্যাংকের ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ করতে পারেন না। এ কারণেও খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পায়।

জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন আমার দেশকে বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, ঋণ বিতরণে জোগসাজশ, নীতিগত দুর্বলতা ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের অদক্ষতার কারণে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে সময় লাগবে। আগামীতে যাতে এ সংস্কৃতির মাধ্যমে নতুন করে খেলাপি ঋণ না বাড়ে, সেজন্য বর্তমান সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এগিয়ে নিতে হবে। কারণ, অনেক সংস্কারের কাজ অন্তর্বতী সরকার এগিয়ে নিয়েছে। যেসব সংস্কার এগিয়ে নিয়েছে সেগুলোর আইনি ভিত্তি দিতে হবে, যাতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হয়। যেগুলো অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার করতে পারেনি তাতে নতুন সরকারকে হাত দিতে হবে।

ঋণখেলাপির সংস্কৃতি গড়ে ওঠার পেছনে চার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এ চারটি কারণে খেলাপির সংস্কৃতি গড়ে উঠছে বলা যায়। ঋণ বিতরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। এ নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে স্ব স্ব ব্যাংক ঋণ নীতিমালা তৈরি করে। নীতিমাল অনুসরণ না করে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে যেসব ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, তার অধিকাংশ ঋণ খেলাপি হয়েছে। কারণ, ফেরত দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঋণ নেওয়া হয়নি। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাংক আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা ছিল। আবার নতুন খেলাপি ঋণের সংজ্ঞার পরিবর্তনের কারণেও খেলাপি ঋণ বাড়ছে।

উদহারণ দিয়ে তিনি বলেন, একজন উদ্যোক্তার ঋণ লাগবে ৫০ কোটি টাকা কিন্তু সে জায়গায় ২০০ কোটি টাকাও বিনিয়োগ করা হয়েছে। মূলত বাড়তি টাকা নেওয়া হয়েছে পাচার করার জন্য। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাই যাচাই-বাছাই গুরুত্বপূর্ণ।

খেলাপি ঋণ কোন অবস্থায় আছে

এদিকে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিতরণ করা ব্যাংকঋণের বড় একটি অংশ এখন খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষমতাচ্যুত দলটির শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের অনেকেই ঋণখেলাপি হচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর শেষে মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ছয় লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। গত জুন পর্যন্ত খেলাপি ছিল ছয় লাখ আট হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা, যা ছিল ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ৩৪ দশমিক ৪০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মেয়াদি ঋণখেলাপির সময় পুনর্নির্ধারণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে কিছু বড় অঙ্কের ঋণ বিরূপ মানে শ্রেণিকৃত হওয়ায় খেলাপি ঋণ বেড়েছে। এছাড়া গ্রাহকের চলতি ঋণ নবায়ন না হওয়া, পুনঃতফসিল করা ঋণের কিস্তি যথাসময়ে পরিশোধ না হওয়া এবং বিদ্যমান খেলাপি ঋণের বিরুদ্ধে সুদ যোগ হয়ে বেড়েছে খেলাপি।

শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

গ্রাহক টানতে পারছে না স্টারলিংক

পারস্পরিক সহযোগিতায় দেশ পরিচালনা করুন

সিটি করপোরেশন আইনে সংশোধনী আনবে ইসি

রাজনীতিতে ফিরতে মরিয়া আ. লীগ তৎপর ভারতীয় লবি

ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ শুরু বিএনপি সরকারের

আদানির চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

সফলতা-ব্যর্থতায় অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর

সম্প্রীতি ও সহনশীলতার নতুন সংস্কৃতি

নতুন মন্ত্রী ও এমপিদের শপথ আজ